রুম্পার কারণে স্ট্যামফোর্ড ছাড়তে হয়েছিল সৈকতকে: আইনজীবী

রুম্পার কারণে স্ট্যামফোর্ড ছাড়তে হয়েছিল সৈকতকে: আইনজীবী
বামে রুম্পা, ডানে সৈকত - ফাইল ফটো

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:০২

রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার কারণে সৈকত স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছেন বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী।

রোববার রুম্পা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তার কথিত প্রেমিক সৈকতের রিমান্ড শুনানিতে এ দাবি করেন তার আইনজীবী আব্দুল হামিদ ভূইয়া।

আজ মামলাটিতে ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদের আদালত শুনানি শেষে সৈকতের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক শাহ্ মো. আকতারুজ্জামান ইলিয়াস আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সৈকতকে দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে ঢাকা সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ৩ টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে আদালতে তোলা হয়। এরপর রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষে রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকতা মাহমুদুর রহমান ডিবি পুলিশের রিমান্ড আবেদন পড়ে শোনান।

তিনি বলেন, রুম্পা একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। এ আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাদের সম্পর্ক ছিল। পরে তাকে হত্যা করেছে। কেন হত‌্যা করেছে তা জানার জন্য ডিবি পুলিশ রিমান্ড আবেদন করেছে। রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।

রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘আসামি এবং ভিকটিম স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সেখানে পড়াশোনার সময় তাদের মধ‌্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। ঘটনার দিন বিশ্ববিদ‌্যালয়ের বাইরে রাস্তায় তাদের মনমালিন্য হয়। আসামি সম্পর্ক না রাখার কথা বলে। ঘটনাস্থলে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে হত্যা করে ফেলে দিয়েছে। কোন কৌশলে হত্যা, ঘটনার মোটিভ, সহযোগী আসামিদের গ্রেফতারের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তিনি।

আসামিপক্ষে আব্দুল হামিদ ভূইয়া রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘এজাহারে আসামির নাম নাই। ঘটনার তিন দিন পর ডিবি পুলিশ ফোন দেয়। আসামির মধ্যে কোনো ভয় ছিল না। নির্ভয়ে তিনি সেখানে যান। পরে তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

আইনজীবী বলেন, ‘রুম্পার উত্যক্ত্যের কারণে সৈকত ভার্সিটি ত্যাগ করেছে। অন্যত্র পড়াশোনা করছে। গত দুই সপ্তাহে তার বাবা ও এক চাচা মারা গেছে। এমন অবস্থায় হত্যা করার মানসিকতা অবশ্যই থাকার কথা না। ভিকটিমকে হত্যা করা হয়েছে না সে আত্মহত্যা করেছে বিষয়টি ধোঁয়াশার মধ্যে আছে। হত্যা না আত্মহত্যা বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি।’

সৈকত ভিকটিমের কারণে ভার্সিটি ত্যাগ করেছে আসামিপক্ষের আইনজীবীর এ কথা পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ বলেন, যদি আসামিকে ভিকটিমের কারণে ভার্সিটি ত্যাগ করতে হয় তাহলে তার মধ্যে একটা ক্ষোভ ছিল। আর এ ক্ষোভ থেকে আসামি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। রুম্পা হত্যার দৃশ্য হৃদয় বিদারক। তিনি আসামির রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সৈকতের চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এদিন শুনানিকালে সৈকতের মা এবং চাচা শাহিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সৈকতের মাকে অঝরে কাঁদতে দেখা যায়। তার দাবি, সৈকত ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে সৈকতকে গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে আদালতে পাঠানো হয়। সে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিবিএ বিভাগের ৫৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। পরে গতকাল শনিবার সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ তাকে রমনা থানার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে অজ্ঞাত মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হত্যার আলামত সংগ্রহ করেন। সুরতহালে পুলিশ গুরুতর কিছু ইনজুরি পায়। সংগৃহীত আলামত ফরেনসিকে পাঠায়। ওই ঘটনার পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে।

ময়নাতদন্ত শেষে ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ড. সোহেল মাহমুদ জানান, নিহত তরুণীর হাত, পা, কোমরসহ শরীরের কয়েক জায়গায় ভাঙা ছিল। মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে স্পষ্ট হবে। আর ভবন থেকে পড়ে মারা যাবার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি-না? তা জানতে আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত রুম্পার বাবার নাম রোকন উদ্দিন। তিনি হবিগঞ্জ এলাকায় পুলিশ ইনসপেক্টর হিসেবে কর্মরত। রুম্পার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় হলেও রাজধানীর মালিবাগের শান্তিবাগ এলাকায় থাকতেন।

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads






Loading...