বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে অনিশ্চয়তা!

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • আব্দুল্লাহ রায়হান
  • ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:১৬

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় দশ বছর আগে ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। সেই পরিকল্পনা এখনো আলোর মুখ দেখেনি; জায়গা নির্বাচনেই আটকে আছে প্রকল্পের কাজ। পছন্দের জমির সন্ধানে জাপানি বিশেষজ্ঞরা দৌড়াচ্ছেন। সরকারের পছন্দের শীর্ষে ছিল শরীয়তপুর জেলার চরজানাজাত, আড়িয়াল বিল। বাধার মুখে আড়িয়াল বিল থেকে সরে যায় সরকার। এরপর আন্তর্জাতিক পরামর্শকের প্রতিবেদন অনুযায়ী মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের শিবচর এলাকা নির্ধারণ করা হয়। সেখানেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আপত্তির কারণে স্থান চূড়ান্ত করা যায়নি। পরে জানানো হলো পদ্মার পাড়েই হবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এখনো বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জাপানি ‘নিপ্পন কই’র সামান্য কার্যক্রম ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। এ অবস্থায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিমানবন্দর নির্মাণ নিয়ে। স্থান নির্ধারণসহ সমীক্ষার কাজ করতে ইতোমধ্যে ১১৫ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে।

বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বেবিচক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প ঝুলে আছে স্থানীয় আপত্তির কারণে। এর পেছনে রাজনীতিও আছে। বলা হচ্ছে, আট হাজার পরিবারকে সরানো কঠিন কাজ। তাই সমীক্ষাপর্বের কাজ আরো এক বছর বাড়ানো হয়। সব মিলিয়ে উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণে আপাতত ব্যর্থ হওয়ায় শাহজালাল বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোতেই গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিমানবন্দরকে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতি মিনিটে একটি করে ফ্লাইট ওঠানামার সক্ষমতা থাকবে। বছরে কমপক্ষে এক কোটি ২০ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করতে পারবে এ বিমানবন্দর দিয়ে। বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই মাত্র আধাঘণ্টায় এয়ার এক্সপ্রেসে জিরো পয়েন্টে পৌঁছা যাবে। রাজধানী ঢাকার সাথে থাকবে সুবিস্তৃত সংযোগ সড়ক। এটি হবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি বিমানবন্দর।

শুরুতে ঢাকার দোহারের আড়িয়াল বিলে জমি বাছাই করা হলেও স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে সেখান থেকে সরে আসে সরকার। এরপর পদ্মা নদীর ওপারে জায়গা বাছাইয়ের কথা আলোচনায় থাকলেও তা চূড়ান্ত হয়নি। বিমান মন্ত্রণালয় বলছে, বিমানবন্দরের উপযুক্ত জায়গা বাছাইয়ে কয়েক হাজার পরিবার উচ্ছেদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এগোতে হচ্ছে।

জমি খোঁজার কাজে নিয়োজিত বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানায়, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য ২০১০ সালে প্রাথমিকভাবে ময়মনসিংহের ত্রিশালকে বিবেচনা করা হলেও তা থেকে সরে গিয়ে মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিল বাছাই করে ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়; কিন্তু ২০১১ সালে তার বিরোধিতায় এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে তা স্থগিত করা হয়।

২০১৩ সালে এসে মাদারীপুরে জায়গা বাছাই করা হয়। এ জেলার শিবচরের চর জানাজাত ও রাজৈরের পাশাপাশি কেয়াইন, চর বিলাসপুর এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাঘিয়ার বিল এ আটটি স্থান এরই মধ্যে পরিদর্শন ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এরপর এ প্রকল্পের সম্ভাব্য যাচাইয়ে ২০১৬ সালে জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোয়ির সঙ্গে চুক্তি সই করে বেবিচক। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি কয়েকটি স্থান বাছাইয়ে জনবসতি কত রয়েছে, কত লোক সরাতে হবে, উচ্ছেদ-পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য ব্যয় এবং ভূমি অধিগ্রহণের আর্থিক দিকটি বিবেচনা করে সমীক্ষা প্রতিবেদনও চূড়ান্ত করেছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া বন্ধ নেই। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ শেষ করেছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বেবিচকের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় তাদের সুবিধামতো সময় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবে।

তিনি আরো বলেন, এ মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের সংস্কার কাজের প্রতি মন্ত্রণালয় মনোযোগী। দেশের সব বিমানবন্দর আধুনিক সুবিধা-সংবলিত না হলে বড় বিমানবন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা আসতে পারে।

মফিদুর রহমান বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিপুলসংখ্যক যাত্রী চলাচল করেন। এসব রুটের জন্য বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হাব হিসেবে পরিচিতি পাবে। যে কারণে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের আগেই দেশের সব বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন জরুরি।

গত এক বছরে নিপ্পনের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উপযোগী জমি অনুসন্ধানের কাজ মোটামুটি শেষ করেছে। চূড়ান্ত বাছাইয়ের পর চলবে ডিজাইনের কাজ।

সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, আমরা এখনো কোনো স্থান নির্বাচন করতে পারিনি। বিমানবন্দরটির জন্য দরকার ৮ কিলোমিটার লম্বা ও ৫ কিলোমিটার চওড়া জায়গা। কিন্তু আমরা যেখানে যাচ্ছি সেখানেই ৮ হাজার/১০ হাজার/১৫ হাজার পরিবার রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এমন একটা জায়গা নির্বাচন করতে, যেখান থেকে সবচেয়ে কম মানুষকে উচ্ছেদ করতে হবে।’

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দরের জন্য অপেক্ষাকৃত কম ঘনবসতিপূর্ণ এবং খাসজমির পরিমাণ বেশি এমন জায়গা খোঁজা হচ্ছে। এজন্য কাজ করছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। তা ছাড়া হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণসহ অন্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর মানোন্নয়নে কাজ চলছে। ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সক্ষমতা বাড়বে।

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads





Loading...