পেঁয়াজের ঝাঁঝ না কাটতেই লবণের কেজি '১০০ টাকা', নাকি গুজব!

লবণের দাম বৃদ্ধি
লবণের দাম বৃদ্ধি - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:০৬,  আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:২৭

গত কয়েক মাস ধরেই পেঁয়াজের আকাশচুম্বী দামের কারণে সারা দেশের মানুষ দিশেহারা। পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী করতে সরকারিভাবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আগামীকাল মিশর থেকে বিমানে করে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজের বাজার যখন গরম ঠিক সেই মুহূর্তে লবণের মূল্য বাড়ার ‘গুজবে’ দিশেহারা সাধারণ মানুষ।

ঢাকাসহ সারা দেশের বেশ কিছু এলাকায় লবণের দাম বাড়ার খবর বেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজধানীর সেগুনবাগিচা, মতিঝিল, মানিকনগর, ক্ষিলখেতসহ বেশ কিছু এলাকায় ১০০ থেকে ১২০ টাকা দামে প্রতি কেজি লবণ বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এদিকে এখনো যে সকল দোকানে ৫০ থেকে ৫২ টাকা দরে লবণ বিক্রি হচ্ছে সেখান থেকে ৮-১০ কেজি করে লবণ কিনে রাখছে সাধারণ ক্রেতারা। ফলে অচিরেই লবণের দাম ১২০ টাকার বেশি হওয়া আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিগত ২০১৭ সাল থেকে লবণ আমদানি বন্ধ রেখেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে জানা যায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে লবণ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত লবণের মজুদ ব্যবহারের জন্য আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যানুসারে, দেশে বর্তমানে সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টনের বেশি ভোজ্য লবণ মজুত রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণ চাষিদের কাছে চার লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন এবং বিভিন্ন লবণ মিলের গুদামে দুই লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুত রয়েছে। তারপরও একটি স্বার্থান্বেষী মহল লবণের সংকট রয়েছে মর্মে গুজব রটনা করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় লবণের দাম অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

কিন্তু প্রতি বছর বাংলাদেশে উৎপাদিত লবণ ও ব্যবহারের ঘাটতি কত মেট্রিক টন? ২০১৭ সালের হিসেবে অনুসারে দেশে বছরে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ পরিশোধিত লবণের প্রয়োজন হয়। বিসিকের হিসাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে ১২ লাখ ৮২ হাজার টন ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৫ লাখ ৩০ হাজার টন লবণ উৎপাদিত হয়েছিল। বড় মিলমালিকদের মতে, ১৬ লাখ টন পরিশোধিত লবণ উৎপাদনে ২২ লাখ টন অপরিশোধিত লবণ প্রয়োজন।

সুতরাং ২০১৭ সালে ঘাটতি ছিলো প্রায় ৭ লাখ মেট্রিকটন। সেই হিসেবে বিগত দুই বছরে হওয়া ১৪ লাখ মেট্রিকটনের ঘাটতি কিভাবে পুষিয়ে উঠেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, শিল্প মন্ত্রণালয় সুপারিশে দেশীয় লবণ শিল্পকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আর সে কারণে লবণের দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়। কিন্তু বাজারে হঠাৎ করে লবণের দাম এত বাড়ার কোন কারণ নেই।

এদিকে সিলেটের জেলা শহরে লবণের দাম কেজি প্রতি ১শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সিলেটে বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজারে লবণর দাম বেড়েছে বলে 'গুজব' ছড়িয়েছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। এমন খবর পেয়েই ক্রেতারা লবণ ক্রয় করতে ভিড় জমিয়েছেন বিভিন্ন দোকানে। তবে এমন খবর 'গুজব' বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদিকে, প্রশাসন ও সিলেটের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বাজারে প্রচুর পরিমাণের লবণ মজুদ রয়েছে। দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। গুজব ছড়িয়ে যারা বেশি দামে লবণ বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন।

জানা গেছে, প্রতি কেজি লবণের দাম ১০০-১২০ টাকা হয়ে গেছে, এমন গুজব ছড়াচ্ছে একটি অসাধু চক্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এ ধরনের গুজব কেউ ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমন গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে বেশি মুনাফার লোভে বিভিন্ন বাজারে লবণ বিক্রি করা বন্ধ করে দিয়েছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। লবণের দাম বেড়ে যাচ্ছে, এমন গুজবে সাধারণ মানুষ লবণ কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন হাটবাজারে। আর দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ীও লবণ গুদামজাত করতে শুরু করেছেন।

এদিকে, বিয়ানীবাজার উপজেলার সারপার, পাতাড়িপাড়াসহ মুড়িয়া ইউনিয়নের পূর্বদিক সীমান্ত এলাকার হাট-বাজারে লবণ বিক্রি হচ্ছে ১শত থেকে ১২০ টাকায়। লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব তুলে সাধারণ মানুষকে শঙ্কায় ফেলে লাভবান হচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাত জানান, সোমবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকেই হবিগঞ্জ শহরসহ আশেপাশের এলাকায় গুজব ছড়ানো হয় লবণের দাম বৃদ্ধির। এ ঘটনায় লবণ মজুদের চেষ্টার অভিযোগে চৌধুরী বাজার এলাকা থেকে ৪জনকে আটক করে ২জনকে ১০দিনের কারাদণ্ড এবং ২জনকে অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একই গুজব ছড়িয়ে পড়ে সুনামগঞ্জেও। এরপর জেলার অনেক জায়গায় লবণ বিক্রি বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। দাম বেশি রাখার অভিযোগে ছাতকে দুই ব্যবসায়ীকে ২০হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল লবণের সংকট রয়েছে মর্মে গুজব রটনা করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় লবণের দাম অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

লবণসংক্রান্ত বিষয়ে তদারকির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) প্রধান কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এর নম্বর হচ্ছে: ০২-৯৫৭৩৫০৫ (ল্যান্ড ফোন), ০১৭১৫২২৩৯৪৯ (সেল ফোন)। লবণসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

মানবকণ্ঠ/আরএ




Loading...
ads





Loading...