মুক্তিযোদ্ধার প্রমাণ না মেলায় বেতন-ভাতা ফেরত দিতে হচ্ছে এডিজিকে

ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০২,  আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২১

পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুস সোবহান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে অতিরিক্ত সময়ে চাকরিকালীন বেতন-ভাতা ফেরত দিতে হচ্ছে তাকে। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে সনদ নিতে সক্ষম হলেও তা তদন্তে অসত্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে আটকে রয়েছে তার পেনশন।

প্রশাসনিক নির্দেশ পেয়ে তিনি সরকারের পাওনা ৯ লক্ষাধিক টাকা কেটে নেয়ার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আবেদন করেছেন।

প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এযাবৎ অনেকের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হলেও বেতন-ভাতা কর্তনের পদক্ষেপ সম্ভবত এটিই প্রথম ঘটনা। অভিযুক্ত কর্মকর্তা আবদুস সোবহানের কাছে পাওনা ৯ লাখ ২ হাজার ৮৬৪ টাকা আদায় করে তার পেনশন সুবিধাদি নিষ্পত্তি করতে ২৯ আগস্ট মন্ত্রণালয় থেকে পরিবেশ অধিদফতরের ডিজিকে চিঠি দেয়া হয় । আবদুস সোবহানকেও এর অনুলিপি দেয়া হয়।

পরে ২৯ সেপ্টেম্বর আবদুস সোবহান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এক চিঠি দেন। সেখানে তিনি লাম্প গ্রান্ট থেকে আংশিক অর্থ না কেটে আনুতোষিক হতে কেটে নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির অনুরোধ জানান।

পরিবেশ অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, এভাবে অর্থ কেটে নেয়ার পক্ষে চিঠি দিয়ে আবদুস সোবহান প্রকারান্তরে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার করে নেন।

মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, শুধু বেতন- ভাতা ফেরত দিলেই গুরুতর এই অপরাধের দায়মোচন হয়ে যায় না। কেননা মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হওয়ার অর্থই হল এটি ছিল জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য প্রদান। তাই বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনগত অন্যান্য ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া বর্ধিত সময়ে তিনি যে পদে দায়িত্ব পালন করেছেন সেটি ছিল পরিবেশ অধিদফতরের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি প্রদান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তে এই পদে থাকা কর্মকর্তার বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। মহাপরিচালকের পরেই এটি পরিবেশ অধিদফতরের প্রাইজপোস্টিং।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুস সোবহান দাবি করেন, ‘তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এখনও তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করেনি।’

তাহলে কেন তিনি এখন কর্তনকৃত টাকা ফেরত দিতে চাইছেন এবং প্রাপ্য আরও ২ বছর কেন চাকরি করলেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই চাচ্ছি তারা আমার কাছ থেকে এভাবে বেতন-ভাতা কেটে নিয়ে আমাকে একটি ডকুমেন্ট দিক। তারপর দেখা যাবে।’

তথ্যানুন্ধানে জানা গেছে, আবদুস সোবহানের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করে গেজেটও প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদকের হাতে আসা ২০১১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এসএম এনামুল কবির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার কামরাঙ্গা গ্রামের মৃত মাওলানা সেকেন্দার আহমেদের ছেলে আবদুস সোবহানের অনুকূলে দেয়া জামুকার গেজেট (তাং ২২-০৭-১০, ক্রমিক নম্বর-২৯৫৩) এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাময়িক সনদ (সনদ নম্বর-ম-১৫৮২৩৩, তাং ২০-১০-২০১০) বাতিল করা হল।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...