আবরার হত্যা: ২৫ ছাত্রকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ
নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ - ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • শাহীন করিম
  • ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:১৮

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ ওরফে রাব্বী হত্যা মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দেশজুড়ে বহুল আলোচিত এ মেধাবী ছাত্র হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ২৫ জন বুয়েট ছাত্রকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই চার্জশিট দেয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হেমায়েত উদ্দিন জানান, এই মামলায় অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে ২১ জন গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে ও বাকি চারজন পলাতক আছেন। মামলার আলামত হিসেবে ফাহাদের রক্তমাখা জামাকাপড়, আসামিদের মেসেঞ্জারের কথোপকথন ও বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ জব্দ দেখানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল দুপুরে চাঞ্চল্যকর আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় চার্জশিট দেয়ার কথা জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম (সিটি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, চার্জশিটে অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে ১১ জন আবরারকে হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়। আর সেখানে উপস্থিতি ও অন্যভাবে সম্পৃক্ততার কারণে বাকি ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মনিরুল বলেন, হত্যার মোটিভ হিসেবে একক কোনো কারণ দায়ী করা যাচ্ছে না। অনেক কারণের মধ্যে একটি কারণ তাকে শিবির হিসেবে সন্দেহ করা। জড়িত সবাই উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত। ফাহাদের ঘাতকরা রাজনৈতিক পরিচয়কে শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তারা অছাত্রসুলভ আচরণ করে হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটান।


তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফাহাদ হত্যার ঘটনায় জড়িতরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়কে শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতেন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যার ঘটনায় ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত ১৯ আসামির বাইরে ঘটনার তথ্য-প্রমাণে আরো ৬ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন ও এজাহারবহির্ভূত ৬ জনের মধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অর্থাৎ এ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পলাতক রয়েছেন ৪ জন।

তিনি বলেন, চার্জশিটে মোট ৩১ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাদী পক্ষের ৬ জন ছাড়াও বুয়েটের সাতজন শিক্ষক, ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে- আবরার ফাহাদকে মারধরের সঙ্গে সরাসরি ১১ জন জড়িত ছিলেন। বাকিরা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ঘটনার পরিকল্পনা ও নির্দেশনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

হত্যার মোটিভ প্রসঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, কোনো একক কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। শিবির হিসেবে সন্দেহের বিষয়টি ছিল আবরারের ওপর নির্যাতনের ‘একটি কারণ’। আসলে বুয়েট ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা অন্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল।

সেদিন ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে জাজ মাল্টিমিয়ার তৈরি করা একটি ভিডিও দেখানো হয় পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল বলেন, তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সাহায্য নেয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার রাত ১০টার পরে আবরারকে নির্যাতন করা শুরু হয় ও রাত ২টা ৫০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এর আগে যদি তাকে হাসপাতালে নেয়া হতো তাহলে হয়তো এমন পরিণতি হতো না।

আবরারকে নির্যাতনে ব্যবহৃত পাঁচটা ক্রিকেট স্ট্যাম্প, একটি স্কিপিং রোপ, দুটি সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিডি, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ এ মামলার আলামত হিসেবে রাখা হয়েছে। আবরার নিহত হওয়ার আগে ফেসবুকে তার শেষ পোস্টে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের করা কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করেছিলেন। বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই যে ফেসবুকে মন্তব্যের সূত্র ধরে শিবির সন্দেহে আবরারকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে, তা সংগঠনটির তদন্তে উঠে এলে ১২ জনকে বহিষ্কার করা হয়।

এ প্রসঙ্গে মনিরুল বলেন, ছোটখাটো বিষয়ে কেউ একটু দ্বিমত পোষণ করলে, কিংবা কেউ এদের বিরুদ্ধে কথা বললে, কিংবা সালাম না দেয়ার কারণেও এই র‌্যাগিংয়ের নামে, মানে অন্যদের, নতুন যারা আসবে, তাদের আতঙ্কিত করে রাখার জন্যই তারা এই কাজগুলো করে অভ্যস্ত। এমনকি সালাম না দেয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনার কারণেও সেখানে র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন চলত।

তিনি বলেন, এসব বিষয় হল বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেখার কথা। কিন্তু তদন্তে পুলিশ হল কর্তৃপক্ষের এক ধরনের ব্যর্থতা দেখতে পেয়েছে। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা রাজনৈতিক পরিচয়কে শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তারা অছাত্রসুলভ আচরণ করেছে।

ওই ছাত্রলীগকর্মীদের হাতে অনেকেই নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, কেউ মামলা করতে চাইলে করতে পারে। তা তদন্ত করে দেখা হবে। শেরেবাংলা হলের যে ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে নির্যাতন করা হয়, সেই কক্ষের আবাসিক ছাত্র বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহাকেও অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে, যদিও এজাহারে তার নাম ছিল না।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নে মনিরুল বলেন, অমিত সাহা এর আগেও একজনকে পিটিয়েছে। আবরারকে মারপিটের সময় সে উপস্থিত না থাকলেও তাকে ডেকে আনাসহ তার বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়ার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এ কারণে তাকে আসামির তালিকায় প্রথম দিকে রাখা হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন ৩টার দিকে পুলিশকে খবর দেয়া হয়, শিবির সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের টহল টিম হলের বাইরে অপেক্ষা করলে পরে জানানো হয় কিছু হয়নি। ৩টার আগে পুলিশ এ বিষয়ে কিছু জানতে পারেনি।

তিনি বলেন, আসামিদের ভাষ্যমতে, আবরার ফাহাদ দেখা হলে বড়দের সালাম দিতেন না। সে জন্য আগে থেকেই নানা কারণে আবরার ফাহাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন তারা। অনেক বিষয়ের সমষ্টিতেই ফাহাদকে পেটানো হয়েছিল।

অতিরিক্ত ডিএমপি কমিশনার বলেন, একজনকে মেরে অন্যজনকে শিক্ষা দিতে কিংবা জুনিয়রদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে র‌্যাগিংয়ের নামে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। যার আচরণ অপছন্দ হতো তাকেই ডেকে এনে নানা নির্যাতন করতেন। অন্য কেউ এমন অভিযোগ করলেও আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখব।

এদিকে ছেলের ঘাতকদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়ার খবর জেনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্তি করেছেন আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি অভিযুক্ত প্রত্যেকের দ্রুত ফাঁসির দাবি জানান। আর দ্রুত চার্জশিট দেয়ার পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নিহত ছাত্রের বাবা মো. বরকত। তিনি বলেন, আমি খুশি। যত দ্রুত সম্ভব বিচার কাজ শেষ করতে হবে ও শাস্তি যেন দ্রুত কার্যকর হয়। প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কথামতো মামলাটি যেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার হয়।

চার্জশিটে অভিযুক্ত এজাহারভুক্ত ১৯ আসামি হলেন: বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ)।

এছাড়া উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মুজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ), এএসএম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ)।

এজাহারের বাইরে অভিযুক্ত ৬ আসামি: বুয়েট ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোর্সেস, ১৬ ব্যাচ), শামসুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) ও মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)। পলাতক ৪ জন: এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ) ও মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল)।

আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়া ৮ আসামি: মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, এএসএম নাজমুস সাদাত ও খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর।

হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ১১ ছাত্র: মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, শামীম বিল্লাহ, এএসএম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম এবং খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর।

চার্জশিটে অভিযুক্তদের ফাঁসি চান আবরারের মা: স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের বাসায় ছেলে হত্যার মামলার চার্জশিট খবর প্রথমে টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পারেন আবরারের মা রোকেয়া খাতুন। ওই বাড়িতে ছুটে যাওয়া সাংবাদিকদের কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আহারে, আমি ভালো ছেলেকে নিজে হাতে বুয়েটে রেখে এসেছিলাম।

ওরা এগারোজন (হত্যা অংশ নেয়া আসামি) মিলে বাইরে (পিটানো) মারইলো। আমারে বললে ছেলেকে না পড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসতাম। জমি চাষ, ব্যবসা করিয়ে ছেলেকে কাছে আগলে রাখতাম। ওরা কেন মাইরলো?’ হত্যার ঘটনায় ২৫ জনের নামে আদালতে চার্জশিট দেয়ার বিষয়ে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, যারা সরাসরি এবং বাইরে থেকে ছেলেকে মেরেছে তাদের প্রতৌকের শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবরারের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ বলেন, যে চারজন আসামি পলাতক, তাদের দ্রæত গ্রেফতার করা হোক। আর বুয়েট প্রশাসনের গাফিলতির কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ যে মন্তব্য করেছে, সে ব্যাপারে আশা করব, ভবিষ্যতে যাতে বুয়েটে এ রকম ঘটনা না ঘটে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর খুশির কথা জানিয়ে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার ও আসামি রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত কারাগারে থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত পানি চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ টানা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে ৫ অক্টোবর বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ।

এর জের ধরে ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ ও ২০০৫ নম্বর কক্ষে নিয়ে নৃশংসভাবে পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হলে লাশ সিঁড়িতে ফেলা রাখে ঘাতকরা। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

পরদিন ৭ অক্টোবর আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মুখে ঘাতকদের বুয়েট থেকে সাময়িক বহিষ্কার ও ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়।

এরই মাঝে আবরারের ঘাতকদের পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১৯ অক্টোবর থেকে বুয়েটের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও আন্দোলনের কারণে তা এখনো হয়নি। পরীক্ষা শুরুর জন্য বুয়েট কর্তৃপক্ষ নিজেদের তদন্ত ও পুলিশের চার্জশিটের জন্য অপেক্ষার কথা জানিয়েছিল।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

 

 




Loading...
ads





Loading...