চালকের গাফিলতি নাকি রেলের অব্যবস্থাপনা

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাত্রীবাহী দুই ট্রেনের সংঘর্ষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাত্রীবাহী দুই ট্রেনের সংঘর্ষ - ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • আব্দুল্লাহ রায়হান
  • ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:০৭,  আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:১৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তূর্ণা-নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেস দুটি ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় চালকের গাফিলতিকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এজন্য ঘটনার প্রথমদিনই ত‚র্ণা-নিশীথা ট্রেনের চালক, সহকারী এবং গার্ডকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, সিগন্যাল অমান্য করার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

এজন্য দায়িত্বরত চালকের গাফিলতিই দায়ী এবং ৫টি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্যকথা। বাংলাদেশের রেলওয়ের সিগন্যাল ব্যবস্থা কতটা আধুনিক হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন আছে বিশেষজ্ঞদের। ফলে সব বিষয় তদন্তের আগে শুধু চালকের গাফিলতিকে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না বলেও জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, রেল বিভাগে জনবল সঙ্কট এবং সেজন্য ট্রেন চালকদের অতিরিক্ত পরিশ্রম বা বাড়তি চাপকে অন্যতম একটি কারণ হিসেবে দেখছেন। এ ছাড়া রেললাইন নিয়মিত সংস্কার, মেরামত ও পরিদর্শনে এক রকম নির্বিকার থাকে দায়িত্বপ্রাপ্তরা। রেল নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি হলেও রেল বিভাগ বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত রয়েছে।

কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর কিছু সময়ের জন্য তৎপর হয়ে ওঠে দায়িত্বপ্রাপ্তরা। নেয়া হয় নানা পদক্ষেপ। গঠন করা হয় একের পর এক তদন্ত কমিটি। কিন্তু অধিকাংশ কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে না। আবার যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, সেগুলোর সুপারিশমালার বেশির ভাগই থাকে অবাস্তবায়িত। সম্প্রতি কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু ও লাইন সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এ নির্দেশের পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

এদিকে দুর্ঘটনার পর রেলওয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ত‚র্ণা-নিশীথা ট্রেনের চালক, সহকারী এবং গার্ডের গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে রেলমন্ত্রী বলেছেন, সিগন্যাল অমান্য করার কারণে হতে পারে। সিগন্যাল দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি ছিল কিনা, সেটা বলতে পারছি না। তবে আমরা প্রাথমিকভাবে চালককে দায়ী মনে করছি।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম গত রোববারের দুর্ঘটনায় ট্রেনের চালকসহ রেলওয়েতে লোকবলের ঘাটতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। এ ছাড়া ট্রেন চালকদের অতিরিক্ত পরিশ্রম বা বাড়তি চাপকেও অন্যতম একটি কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

তিনি বলেন, ট্রেনের চালক দুর্ঘটনার আগে তন্দ্রায় ছিল কিনা তা দেখতে হবে। চালক অতিরিক্ত পরিশ্রমে বা বাড়তি চাপেও থাকতে পারে। রেল এক সময় অবহেলিত ছিল। এখন রেলে বিনিয়োগ বেড়েছে সেই সাথে বেড়েছে অবকাঠামো এবং ট্রেনের সংখ্যাও। তাই এখন জনবলের ঘাটতির কারণে রেলে একজনকে দিয়ে একাধিক কাজ করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শামসুল আলম বলেন, রেল কর্মকর্তারা ১০ বছরে নতুন প্রকল্পের প্রতি মনোযোগী হলেও পুরনোগুলো রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি কমই নজর দিচ্ছে। আমরা বানাই, ভুলে যাই, আবার বানাই। মাঝখানে যে এটাকে রক্ষণাবেক্ষণ করে টেকসই এবং নিরাপদ রাখব সেই কালচারটা (সংস্কৃতি) কখনোই আমাদের গড়ে ওঠেনি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় স্থানীয় মানুষজন রেলপথের নানা ত্রুটির বিষয়গুলো তুলে ধরে। ফলে অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। রেললাইন এমন একটি বিষয় যেটিকে সবসময় পর্যেবক্ষণের মধ্যে রাখতে হয়।

রেলওয়ে সাবেক মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলম বলেন, আমাদের সব অর্জন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জরাজীর্ণ রেলপথের জন্য। লাইন হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ লাইনই যদি ঝুঁকিপূর্ণ থাকে, ত্রুটি থাকে তাহলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না। পুরো রেলে একটি হুক-ক্লিপ কিংবা ফিশপ্লেট খোলা থাকলেও সেটি মারাত্মক ঝুঁকি। এসব ঝুকি থাকে বলেই দুর্ঘটনা ঘটে। মানুষের অকাল মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশে সড়ক পথে যাতায়াতের চেয়ে রেলপথকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করেন যাত্রীরা। পরিসংখ্যানও সে কথাই বলছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ ছাড়া বাংলাদেশে যেসব ট্রেন যাতায়াত করে সেগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ গতি ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন জায়গায় প্রায়শই ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়, যদিও তাতে প্রাণহানি কমই হয়। কিন্তু সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে প্রাণহানি আরো অনেক বেশি হতে পারত। তবে এ দুর্ঘটনার পর রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ঢাকা সিলেট রুটে ট্রেনে নিয়মিত যাতায়াত করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সৈয়দা মারজানা। তিনি বলেন, গত রাতের দুর্ঘটনার পর রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে তার মনে। পুরো ব্যাপারটাই অনিরাপদ মনে হচ্ছে। সবাই ভাবে ট্রেনটা সেফ (নিরাপদ)। কিন্তু এখন যা অবস্থা, সবাই আসলে কিছুই বুঝছে না যে কী করবে।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, রেলকে সেবামূলক বললেও সেবা বাড়েনি মোটেও। বরং ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়, বারবার রেল দুর্ঘটনা, টিকিট কালোবাজারি, প্রকল্পে ধীরগতি এবং নানা ধরনের দুর্নীতি, রেলের বগি অপরিষ্কার, বাথরুমে পানি-আলো না থাকা, ট্রেনের সিট ভাঙা, সিটে ছারপোকা, বিনা টিকিটের যাত্রীদের দৌরাত্ম্য ইত্যাদি কারণে রেলের কাক্সিক্ষত সেবার মান বাড়ছে না।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, যে স্টেশনে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে ক্রসিং দেয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। উদয়ন ট্রেনটি লুপ লাইনে চলে গিয়েছিল। এর ১৬টা বগির ১২টা বগিই লুপ লাইনে চলে যায়। ৪টা বগি তখনো লুপ লাইনে ঢুকতে পারেনি। এর মধ্যেই ত‚র্ণা-নিশীথা ট্রেনের ইঞ্জিন আঘাত করে উদয়ন এক্সপ্রেসের পিছনের বগিগুলোতে। তাতেই ওই বগিগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

নুরুল ইসলাম সুজন জানান, ১৯৮৬ সাল থেকে রেলওয়েতে নিয়োগ একেবারে বন্ধ ছিল। বিএনপি সরকারের সময় রেলওয়ে থেকে ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক কর্মসূচিতে বিদায় করা হয়েছিল। ফলে ট্রেনের চালকসহ লোকবলের সঙ্কট এখনো রয়েছে। আগের সরকারগুলোর সময় রেলওয়েকে গুরুত্বহীন এবং লোকসানি একটা প্রতিষ্ঠান বানানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার এখন রেল বিভাগকে গতিশীল করতে অনেক প্রকল্প নিয়েছে। সেখানে লোকবল বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রেলওয়ে যেহেতু টেকনিক্যাল বিভাগ, সে কারণে রাতারাতি এখানে লোক পাওয়া যায় না। ফলে ট্রেনের চালক যারা অবসরে যাচ্ছেন, তাদেরও চুক্তিতে নিয়োগ করা হচ্ছে। ট্রেনের চালকের সঙ্কট থাকায় তাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পাড়ে বলেও মনে করেন তিনি। এ বিষয়টিও তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখতে হবে।

খোদ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে বিভাগের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রেলপথে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ৯০ শতাংশ ট্রেন লাইনচ্যুত হচ্ছে শুধু লাইনে পর্যাপ্ত পাথর না থাকায়। একই সঙ্গে লাইনে ভাঙা স্লিপার, ক্লিপ-হুক, ফিশপ্লেট না থাকাও এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। রেলে ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ে ব্রিজ রয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ। এসব ব্রিজের স্লিপার জরাজীর্ণ, লাইনে নেই ক্লিপ-হুক, ফিশপ্লেটও।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশে রেলওয়ে উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কমতি নেই। নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। চলমান আছে অর্ধশত প্রকল্প। সেই সঙ্গে আছে ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনাও। আর প্রতি বছরই বিভিন্ন রুটে নামছে নতুন নতুন আন্তঃনগর ট্রেন। কিন্তু সবকিছুই এক রকম নিষ্ফল করে দিচ্ছে জরাজীর্ণ রেললাইন। যে পথ দিয়ে ট্রেন চলাচল করে সেই রেলপথ দেখার যেন কেউ নেই।

রেললাইন সংস্কার, মেরামত ও পরিদর্শনে এক রকম নির্বিকার দায়িত্বপ্রাপ্তরা। বাংলাদেশে এখন রেলপথ রয়েছে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার এবং নিয়মিত কর্মচারীর সংখ্যা ২৫ হাজারের মতো। রেলের কোচ ক্রয় এবং রেলপথ স¤প্রসারণের জন্য নানা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে ১০ বছরে।

সরেজমিনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের প্রায় ৩ হাজার ৩৩৩ কিলোমিটার রেলপথের বিভিন্ন স্থানে প্রায় সময়ই খোলা থাকে ফিশপ্লেট, ক্লিপ, হুক, নাটবল্টুসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ। এমনকি রেললাইন মজবুত ও স্থিতিশীল রাখতে স্থাপিত স্লিপারগুলোর অবস্থাও নাজুক। আবার এসব স্লিপারকে যথা স্থানে রাখতে যে পরিমাণ পাথর থাকা প্রয়োজন, অধিকাংশ স্থানেই তা নেই।

কোনো কোনো স্থানে পাথরশূন্য অবস্থায় আছে স্লিপারগুলো। শুধু তাই নয়, সারা দেশে আছে ৩০০৬টি রেলসেতু। যার ৯০ শতাংশই তৈরি হয়েছে ব্রিটিশ আমলে। জোড়াতালি দিয়ে কোনোরকমে সচল রাখা হয়েছে সেতুগুলো। এগুলোর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলছে বিভিন্ন রুটের ট্রেন। সব মিলিয়ে এক রকম ‘মৃত্যুফাঁদ’-এ পরিণত হয়েছে গোটা রেলপথ।

জানা গেছে, কোথাও কোথায় বাঁশ দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন রেলসেতু। পুরো রেলপথে প্রতি বছর ২২ লাখ ঘনফুট পাথর প্রয়োজন হলেও দেয়া হচ্ছে ১০ থেকে ১২ লাখ ঘনফুট পাথর। পুরো রেলপথে পূর্ণমাত্রায় পাথর দিতে এক বছরে খরচ হয় ৩৩ কোটি টাকা। সেখানে রেলওয়ের লাইনচ্যুতে বগি ও ইঞ্জিন উদ্ধার এবং লাইন মেরামতে প্রতি মাসেই খরচ করছে ৮ কোটি টাকারও বেশি। বছরে যা দাঁড়ায় শত কোটি টাকায়।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত সরেজমিন দেখা গেছে, রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে পাথরবিহীন লাইন, নাটবল্টু, ক্লিপ-হুক, ফিশপ্লেট খোলা অবস্থায় সিøপার ও লোহার লাইন রয়েছে। লাইনজুড়ে অসংখ্য সিøপার ভাঙা এবং নাটবল্টু, ক্লিপ-হুক, ফিশপ্লেট খোলা অবস্থায় আছে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলপথ দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। নাটবল্টু হুক-ক্লিপ-ফিশপ্লেট ও পাথর চুরি হচ্ছে। পুরো রেলওয়েতে প্রায় ৮০টি সেকশন রয়েছে। এসব সেকশনে রেললাইন দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে স্থায়ী রেলপথ পরিদর্শক (পিডব্লিউআই)। যাদের তত্ত্বাবধায়নে থাকে ওয়েম্যান। ওয়েম্যানরাই মূলত লাইন রক্ষণাবেক্ষণ করেন।

কিন্তু ওয়েম্যানসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে প্রায় ১১ হাজার। ৮ জন ওয়েম্যান একত্রিত হয়ে একটি গ্যাংক করা হয়। একেকটি গ্যাংক ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার রেলপথ প্রতিদিন দেখাশোনার কথা। জনবল সঙ্কটের কারণে বর্তমানে প্রতি গ্যাংকে ১-২ জন ওয়েম্যান রয়েছে। কোনো কোনো সেকশন গ্যাংকে ওয়েম্যানই নেই। ফলে দিনের পর দিন রক্ষণাবেক্ষণ হয় না রেললাইন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক প্রকৌশলী জানান, পুরো রেলে হাজার হাজার স্লিপার জরাজীর্ণ রয়েছে। নাটবল্টু, হুক-ক্লিপ, ফিশপ্লেট খোলা অবস্থায় রয়েছে পদে পদে। এসব মেরামত কিংবা পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাথাব্যথা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তথা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত। মাঠ পর্যায়ে যে কাজের স্বল্পতা রয়েছে সেদিকে খেয়ালই নেই।

তিনি বলেন, নিয়মানুসারে একটি স্পিপার কিংবা নাটবল্টু, ক্লিপ-হুক-ফিশপ্লেট খোলা থাকলে প্রয়োজনে ট্রেন দাঁড় করিয়ে হলেও তা সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নাটবল্টু, হুক-ক্লিপ-ফিশপ্লেট খোলা থাকতে পারে না। ওয়েম্যানরা প্রতিদিন লাইন পরিদর্শন করবে, এমন ত্রæটি দেখামাত্রই তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবে এবং সেই সমস্যা সমাধান করবে। রেলে এ নিয়মটাই নেই!

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বলছেন, রেল লাইন নিরাপদ রাখার জন্য তাদের তরফ থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। ব্রিটিশ আমলের রেলে ব্যবস্থা খুবই নিখুঁত। নির্দিষ্ট ম্যানুয়াল ফলো করে এর ব্যবস্থাপনা করা হয়। তবে আমাদের লোকবলের কমতি আছে সেটা সত্য। তার মধ্য থেকে আমরা রেললাইন মেনটেইনেন্স আমরা নিয়মিত করে যাচ্ছি।

মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, রেলপথ সংস্কার এবং যথাযথ মেরামত রাখা যাদের দায়িত্ব, তারা যদি দায়িত্বে কোনো গাফিলতি করেন, সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকি কারো দায়িত্বে অবহেলার জন্য লাইনচ্যুত কিংবা দুর্ঘটনা ঘটে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছি।

তিনি বলেন, পুরনো লাইন সংস্কারসহ নতুন লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার রেলে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। লাইনের ত্রুটি বা সিগন্যাল ব্যবস্থার জন্য দুর্ঘটনা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।


মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads





Loading...