ডিসেম্বরে বিমান বহরে যোগ দেবে নতুন দুটি ড্রিমলাইনার


poisha bazar

  • আব্দুল্লাহ রায়হান
  • ১২ নভেম্বর ২০১৯, ১০:১৬

একটানা প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার উড়তে সক্ষম বোয়িংয়ের তৈরি বড় আকৃতির ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। যা চলতি বছরের ডিসেম্বরে বিমান বহরে যুক্ত হবে। প্রতিটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার বর্তমান বাজারমূল্যের অর্ধেক দামে, অর্থাৎ ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কমে কেনা হচ্ছে।

দরদাম চূড়ান্ত হওয়ায় এবার দেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে দুটি নতুন ড্রিমলাইনার। এর একটি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে বাংলাদেশের পথে রওনা দেবে ১৯ ডিসেম্বর। দ্বিতীয়টি সেখান থেকে উড়বে ২১ ডিসেম্বর। বর্তমানে এগুলোর রঙের কাজ করা হচ্ছে। এসব উড়োজাহাজের দৈর্ঘ্য ২০৬ ফুট। এটি ৩০০ যাত্রী বহন করতে পারে। বিমান মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ মডেলের একটি উড়োজাহাজের দাম ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বোয়িংয়ের সঙ্গে দাম ও আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয় চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে। এই আলোচনায় বোয়িং কোম্পানির পক্ষ থেকে ১৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দাম প্রস্তাব করা হয়। তখন বিমানের পক্ষ থেকে দাম বলা হয় ১৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এই দাম জানার পর বোয়িং আরো ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কমিয়ে প্রতিটি ড্রিমলাইনারের জন্য দাম ১৫০ মিলিয়ন প্রস্তাব করে। এর পরও দু’পক্ষের মধ্যে দর-কষাকষি চলতে থাকে। সবশেষ ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও কমে ড্রিমলাইনার দুটি কেনার সিদ্ধান্ত চ‚ড়ান্ত হয়েছে। এর সঙ্গে বাড়তি একটি ইঞ্জিন পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা যায়।

সূত্র জানায়, ১৯ ও ২১ ডিসেম্বর ড্রিমলাইনার দুটি সিয়াটল থেকে ঢাকায় আনার জন্য বেশ কয়েকজন পাইলটকে প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে বলা হয়েছে। এর কয়েক দিন আগে বিমানের পাইলটসহ প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। তবে এর আগে ২০ নভেম্বর থেকে বিমানের সাদা রঙের ওপর লাল-সবুজের নকশার প্রলেপ দেয়ার কাজ শুরু হবে। এরপর দুটি ড্রিমলাইনারের লেজে বিমানের প্রতীক লাল বৃত্তের মধ্যে বসানো হবে ‘হংস বলাকা’।

লোগোসহ নকশা বোয়িং কোম্পানির কাছে পাঠানো হয়েছে। রঙের প্রলেপের কাজ চলবে প্রায় দুই সপ্তাহ। সবশেষে পরীক্ষামূলকভাবে (টেস্ট ফ্লাই) দুটি উড়োজাহাজ চালানো হবে। বিমানের আগের চারটি ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ সিয়াটল থেকে চালিয়ে দেশে এনেছেন, এমন কয়েকজন পাইলটের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুটি উড়োজাহাজ আগেই টেস্ট ফ্লাই করানো হয়েছে।

কারণ এগুলো চীনের একটি বিমান পরিবহন সংস্থার কাছে বিক্রির কথা ছিল। চুক্তি বাতিল হওয়ায় এখন ড্রিমলাইনার দুটি কিনেছে বিমান। তবে রং করার পর কয়েক দফা টেস্ট ফ্লাই করানো হবে। এর অংশ হিসেবে আকাশে উড়ানোর সময় উড়োজাহাজের দুটি ইঞ্জিনের একটি বন্ধ করা হয়। সেইলর চেক, ল্যান্ডিং গিয়ার চেকসহ জরুরি পরিস্থিতিতে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তার সবই পরীক্ষা করানো হয় টেস্ট ফ্লাইয়ের সময়। সবশেষ টেক-অফ ও ল্যান্ডিং চেক করে বোয়িং কর্তৃপক্ষ তাদের ক্রেতাদের কাছে উড়োজাহাজ হস্তান্তর করে থাকে।

বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে কারিগরি বিষয়ে যুক্ত ছিলেন বিমানের এমন এক কর্মকর্তা বলেন, আমার আগে ধারণা ছিল বোয়িং পুরো উড়োজাহাজ তৈরি করে বিক্রি করে। আসলে তা নয়। বোয়িং কেবল খোলসটি (বডি) নিজেরা তৈরি করে। ইঞ্জিনসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি অন্য কোম্পানি থেকে কেনা হয়। যেমন বোয়িং তাদের উড়োজাহাজে জেনারেল মটরস বা রোলস রয়েস ইঞ্জিন যুক্ত করে। আমরা যাচাই করে দেখেছি, রোলস রয়েসের চেয়ে জেনারেল মটরসের ইঞ্জিনের মান তুলনামূলক ভালো।

তাছাড়া সিট কভার বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি কোন কোম্পানি থেকে কেনা হবে, রঙের মান, ভেতরের সাজসজ্জা কোন নকশায় করা হবে তার ওপরও একটি উড়োজাহাজের দাম কমবেশি হয়। সবকিছুর জন্য আলাদা আলাদা ক্যাটালগ রাখা আছে বোয়িংয়ের কাছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর চতুর্থ ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ ‘রাজহংস’ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি বোয়িং কেনার আগ্রহ দেখান। পরে জানা যায়, দুটি উড়োজাহাজই বোয়িংয়ের বড় আকৃতির ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার।

এরপর মাসখানেক ধরে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে বিমান দর-কষাকষি করে প্রতিটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার বর্তমান বাজারমূল্যের অর্ধেক দামে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কমে কেনা হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী প্রধান মোকাব্বির হোসেন বলেন, নতুন দুটি উড়োজাহাজ কিনে ফেলা হয়েছে। দেশে আসার দিন-তারিখ এখনো চ‚ড়ান্ত হয়নি। বড়দিন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ ডিসেম্বর থেকে ছুটি রয়েছে। ড্রিমলাইনারগুলো আনার বিষয়ে দুই পক্ষেরই (বিমান ও বোয়িং কোম্পানি) বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। দেশে আনার বিষয়ে সে অনুযায়ী কাজ চলছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী জানান, ডিসেম্বরে ড্রিমলাইনার দুটি বিমান বহরে যুক্ত হবে। এই দুটি উড়োজাহাজ ছাড়াও বিমান কানাডা থেকে আরো তিনটি ড্যাশ ৮ উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া চ‚ড়ান্ত করেছে। আগামী বছর এগুলো বিমান বহরে যুক্ত হবে। আগে উড়োজাহাজ লিজ ও ক্রয় নিয়ে নানা অভিযোগ উঠলেও এবার এ ব্যাপারে ব্যাপক সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

বিমান বহরে বর্তমানে উড়োজাহাজ রয়েছে ১৬টি। এগুলোর মধ্যে নিজস্ব উড়োজাহাজের সংখ্যা ১০টি। বাকি ৬টি লিজে আনা। নিজস্ব ১০টি উড়োজাহাজের সবই বোয়িং কোম্পানি থেকে কেনা। এর মধ্যে ৪টি ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮, ৪টি ৭৭৭-৩০০ ইআর ও দুটি ৭৩৭-৮০০। নতুন দুটি ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ কেনা হলে বিমানের উড়োজাহাজ হবে ১৮টি।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

 




Loading...
ads





Loading...