পেঁয়াজের ঝাঁজ কমছে না

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

পেঁয়াজের ঝাঁজ কমছে না
পেঁয়াজের ঝাঁজ কমছে না - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৪২

রেকর্ড দামে আকাশ ছোঁয়া পেঁয়াজের ঝাঁজ এখনও কমছে না। সরকারের নজরদারি বৃদ্ধি, স্বল্প পরিসরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ সৃষ্টি, অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বৃদ্ধি এবং দেশের বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসা শুরু হওয়ায় সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। তবে এখনো তা ১০০ টাকার ওপরেই রয়েছে। এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। ইলিশসহ অন্যান্য মাছ ও সবজির দাম কমে এসেছে।

গতকাল রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা, কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজারে গিয়ে এবং খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। এসব বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২৫ টাকা কেজি দরে। আর আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম নেয়া হচ্ছে কেজিতে ১০৫ থেকে ১২০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত তিন থেকে চার দিনে এই প্রতিকেজি পেঁয়াজে দাম কমেছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলেও তারা জানালেন।

বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করলেও মসলা জাতীয় অন্য পণ্য আদা রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এসব বাজারে প্রতিকেজি দেশি রসুন বিক্রি হতে দেখা গেছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। চায়না রসুন ১৫০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ টাকা, চায়না আদা ১৬০ টাকা, প্রতিকেজি কাঁচা আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া, রান্নায় অতি আবশ্যিক কাঁচা মরিচের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে কেজিতে ১০ টাকা। বর্তমানে বাজারে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে রান্নার নিত্য এ পণ্যটি।

বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় দামও কমতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি ভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবধরনের সবজির দাম কমেছে। তবে এখনো বাড়তি রয়েছে টমেটোর দাম। বাজারে খুচরা প্রতিকেজি মানভেদে টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর আগের সপ্তাহেও একই দামে বিক্রি হয় পণ্যটি। সে হিসেবে অপরিবর্তিত আছে এর দাম।

তাছাড়া সবপণ্যের দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। প্রতিকেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ও উস্তা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৩০ টাকা, শসা (দেশি) ৪০ টাকা, ক্ষিরা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ১৫ থেকে ২৫ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া আকার ভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমে প্রতিপিস বাঁধাকপি ২০ থেকে ৩০ টাকা, ফুলকপি ১৫ থেকে ২৫ টাকা, লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, জালি কুমড়া ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। সবজির মতই নি¤œমুখী রয়েছে শাকের বাজার। প্রতিআঁটি লাল শাক ৭ থেকে ১০ টাকা, মুলা শাক ৮ থেকে ১২ টাকা, পালং শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, কুমড়া শাক ২০ থেকে ২৫ টাকা, লাউ শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে মাছের বাজারে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে মাছের দাম। এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে। শিং ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা, বাগদা ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকা, হরিনা ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, রুই ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দাম কমেছে মুরগি ও ডিমের। এসব বাজারে প্রতিকেজি বয়লার ১১৫ থেকে ১২৫ টাকা, লেয়ার ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। লাল ডিম প্রতি ডজন ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, সাদা ৯৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু, মহিষ, খাসি মাংস, চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের দাম।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads





Loading...