প্রতি বছর দেশে অন্ধ হচ্ছেন ৪০ হাজার মানুষ

মানবকণ্ঠ
প্রতি বছর দেশে অন্ধ হচ্ছেন ৪০ হাজার মানুষ - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • মাহমুদ সালেহীন খান
  • ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২৫

চক্ষুরোগীর বেশিরভাগই বর্তমানের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার বলে মনে করেন চক্ষু চিকিৎসকরা। সময়ের সঙ্গে সবাই ইন্টারনেট, ফেসবুক বা ভিডিও গেমে দীর্ঘসময় দৃষ্টি রাখছে। এমন অসচেতনতা, ঘরমুখী জীবন ব্যবস্থা এবং পড়াশোনাসহ নানা মানসিক চাপে থাকার কারণেও চোখের সমস্যা বাড়ছে। এ রোগ থেকে মুক্তি দিতে রঙিন শাকসবজি ও ছোট মাছ খাওয়ানো দরকার বলে চিকিৎসকরা মনে করেন। বাংলাদেশে অন্ধ মানুষ রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ। প্রতিবছর আশঙ্কাজনক হারে এ হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর দেশের ৪০ হাজার মানুষ অন্ধ হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার অভাবই এর প্রধান কারণ। বাংলাদেশে চক্ষু চিকিৎসক রয়েছেন ৮শ’। প্রায় ৬শ’ চিকিৎসক সানি অপারেশন করতে পারেন। এর মধ্যে ১৬ জন পেডিয়েট্রক্স, ২০ জন বিট্রিও রেটিনা, ২০ গ্লোকোমা, ১৫ জন অকুয়োস্ট্রিক, ৬ জন নিউরো অর্থোমোলোজি, ৪ জন ল ভিশন, ১২ জন ক্রোমা, ১০ জন রিপ্রেক্টিভ সার্জন ও ১০ জন কমিউনিটি অর্থোমোলেজি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, কোমাজনিত অন্ধত্বের ঝুঁকিতে রয়েছেন দেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। অসচেতনতা ও পর্যাপ্ত সেবা কেন্দ্রের অভাবে চিরতরে অন্ধ হওয়ার সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। ফলে বাড়ছে অন্ধ মানুষের সংখ্যা। শহরের ধুলোময় পরিবেশ, পর্যাপ্ত সবুজ গাছপালা না থাকা, অপরিশোধিত পানি ও কল-কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়াসহ নানা কারণে মানুষের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। এ ছাড়া দীর্ঘসময় ধরে শিশু-কিশোর ও যুবকদের কম্পিউটার, মোবাইলে ইন্টারনেটসহ ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্র ব্যবহারের আসক্তি, খোলা পরিবেশ না থাকায় এ সমস্যা বাড়ছে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, যারা চোখে কম দেখেন তাদের চোখ পরীক্ষা করানো উচিত। বাংলাদেশে চশমা পরার প্রবণতা খুবই কম। প্রয়োজন হলে চশমা নেয়া উচিত। বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে ফেসবুক, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল ফোন, টেলিভিশনে আসক্তির কারণে সব শিশুর চোখের দৃষ্টি কমে যাচ্ছে। সময়ের আগেই তাদের চোখে তাই ‘মাইনাস পাওয়ারের’ চশমা উঠছে।

দেশের প্রথিতযশা এ চক্ষু বিশেষজ্ঞ বলেন, লেখার বোর্ড না দেখলে শিশুরা লেখায় মনোযোগী হবে না। ফলে মেধায় পিছিয়ে পড়বে। তাই বাবা-মার উচিত কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল ফোন, টেলিভিশনে আসক্তি থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখা।

বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক জানান, চোখের রোগীর সংখ্যা বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, জন্মগতভাবে চোখে সমস্যা, ফরমালিনযুক্ত খাবার, খোলা পরিবেশ ও সবুজ প্রকৃতির অভাব, অধিক সময় আকাশ সংস্কৃতি বা ফেসবুক ব্যবহার। পাশাপাশি জন্মের পর বিভিন্ন রোগ যেমন চোখে পর্দা পড়া, ছানি পড়া, চোখ ট্যারা এবং অ্যালার্জির কারণে অনেক মানুষ ক্ষীণ দৃষ্টিতে ভোগেন। বিভিন্ন মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাও স্বীকার করেছেন, অধিকাংশ সময় বাসাবাড়ি বা অফিসের বদ্ধ পরিবেশে দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় হচ্ছে বলে উন্মুক্ত সবুজায়ন দেখার সুযোগ মিলছে না। ফলে চোখের নানা জটিলতায় চশমা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...