আমরণ অনশনের হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের


poisha bazar

  • মাহমুদ সালেহীন খান
  • ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৪০

বেতন বৈষম্য দূরীকরণ দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে এমপিওভুক্ত করার দাবিতে মাঠে নেমেছেন ননএমপিওভুক্ত প্রাথমিকের শিক্ষকরা। প্রাথমিক শিক্ষকদের এই উভয় সংগঠনই দাবি করছেন প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস না পেলে মাঠ ছাড়বেন না তারা। শিক্ষকদের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি। শিক্ষকদের উভয় সংগঠনের নেতা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস না পেলে সামনে আরো কঠোর কর্মসূচির ডাক আসতে পারে।গতকাল বৃস্পতিবার ননএমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন নেতাকর্মী আমরণ অনশন পালনকালে এসব দাবি-দাওয়া পেশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের এই অনশন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চার দিনের কর্মবিরতির শেষে নেতারা বলেন, ২২ অক্টোবরের মধ্যে দাবি না মানলে ২৩ অক্টোবরের মহাসমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ পেতে আমরা পদযাত্রা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটি বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে জেনে আমরা অনশেন বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন শিক্ষকরা। সারাদেশে পাঁচ হাজার প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছি এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র দুশ’ প্রতিষ্ঠানকে এমপিও করা হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই এই সিদ্ধান্ত মানব না।’ শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন সভাপতি বলেন, দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে আমাদের বারবার ঠকানো হচ্ছে। আন্দোলন করার কোনো ইচ্ছে নেই আমাদের, আমরা ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরে যেতে চাই। আমাদের ন্যায্য দাবিটুকু মেনে নিক সরকার। এটাই চাওয়া।

শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ বিনয় ভ‚ষণ রায় বলেন, বর্তমান যে নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে সরকার এমপিওভুক্ত করতে চাচ্ছে সে নীতিমালা আমরা মানি না। এই চাপিয়ে দেয়া নীতিমালায় এমপিওভুক্ত করা হলে শিক্ষকরা তা প্রতিহত করবে।
সূত্র জানায়, বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন এমপিওভুক্তির তালিকা আগামী সপ্তাহে পরিপত্র আকারে জারি করতে পারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমপিওভুক্তির জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রায় চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় ২৮ হাজার। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন প্রায় ৫ লাখ। এমপিওভুক্ত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে মাসে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পান। স্বীকৃতি পেলেও এমপিওভুক্ত না হওয়া প্রতিষ্ঠান আছে সাড়ে ৫ হাজারের মতো। আর স্বীকৃতি না পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে আরো কয়েক হাজার। সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছিল সরকার।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির একটি তালিকা ৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো সারসংক্ষেপের সঙ্গে ২০১৮ সালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালাও পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর এমপিওভুক্তির জন্য জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা জারি করে আবেদন গ্রহণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমের স্বীকৃতি, শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পরীক্ষায় পাসের হার এই চার মানদণ্ডের ভিত্তিতে ৯ হাজার ৬১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এরপর যাচাই করে সেগুলোর মধ্য থেকে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা চ‚ড়ান্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্যপরিষদ ব্যানারে দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষকর চতুর্থ দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন। শেষদিনে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন শেষে প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্যপরিষদ আহবাক আনিসুর রহমান বলেন, আমাদের কর্মবিরতি শেষ হয়েছে। ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় আছে। আমরা এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন চাই। ঐক্যপরিষদ সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, সব বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি পালনের মাধ্যমে আমরা আমাদের ন্যায্য দাবির কথা জানিয়ে দিয়েছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রধানমন্ত্রীই পারেন আমাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে কারণ তার নির্দেশেই সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন দাবি নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইসলাম তোতা বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের কর্মসূচি পালনে বাধ্য করেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করতে চাই না। ২৩ অক্টোবরের আগেই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা চাই। প্রধান সমন্বয়ক আতিকুর রহমান বলেন, ২৩ অক্টোবর মহাসমাবেশ থেকে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।

অন্যতম মুখপাত্র রবিউল হাসান বলেন, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ছাড়া আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করব না। আমাদের দাবি যৌক্তিক তাই সব শিক্ষকই কর্মসূচি পালন করছেন। প্রথম যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাশেম বলেন, ২৩ অক্টোবর ৪ লাখ শিক্ষকই ঢাকায় উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অপেক্ষায় থাকবেন। সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়, যে কোনো সময় সরকারের পক্ষ থেকে আসতে পারে এমপিওভুক্তির ঘোষণা। এবার মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ২ হাজার ৭০০’রও কিছু বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে পারে। যদিও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও ঘোষণার তারিখ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করছে।

মানবকণ্ঠ/টিএইচ




Loading...
ads





Loading...