হঠাৎ সক্রিয় ঐক্যফ্রন্ট


poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০১:২১

দীর্ঘদিন পর নিষ্ক্রিয়তা কেটেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে। অনেকটা কেটেছে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধও। নানা জন ইস্যু নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কথা বলতে শুরু করেছে নেতাকর্মীরা। অতীতের সকল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জোটটি প্রতিবাদের এ ধারা অব্যাহত রাখতে চায়। অন্যদিকে আগামী ডিসেম্বরে সরকারের বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে তিন লক্ষ্য নিয়ে ফের মাঠ গরম করার চেষ্টা করছেন সরকার বিরোধী এ জোটটি। লক্ষ্যগুলো হলো- সরকারবিরোধী দলগুলোকে নিয়ে ‘অর্থপূর্ণ’ আন্দোলন গড়ে তোলা, ‘বৃহত্তর কর্মসূচি’ নিয়ে রাজপথে নামা এবং জোটের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ। এসব উদ্যোগকে সফল করে কর্মপরিকল্পনা শুরু করেছেন জোটের শীর্ষ নেতারাও। দফায় দফায় বৈঠকেও বসছেন তারা। এরই মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ‘আবরার হত্যার প্রতিবাদে’ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণস্বাক্ষর অভিযান এবং ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২২ অক্টোবর সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন কর্মসূচি প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে দেশে-বিদেশে গণস্বাক্ষর অভিযান করা হবে। এই গণস্বাক্ষর ক্যাম্পেইনটা অনেকটা আমার বাবা (শাহ এএমএস কিবরিয়া) হত্যার প্রতিবাদের মতো। ‘রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর’-এই মডেলে তৈরি করা হচ্ছে এটা। আমরা এই গণস্বাক্ষর অভিযানের পর এটা বড় ডিসপ্লে করব, ঢাকা শহরসহ অন্যান্য বড় বড় শহরে। এটার ফরমেট কী হবেÑ তা ফ্রন্টের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরে জানানো হবে। এ ছাড়াও আগামী ১৮ অক্টোবর রাজধানীতে নাগরিক সমাবেশ করা হবে।

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা যে লক্ষ্যটা ঘোষণা করেছিলাম, সেই লড়াইয়ে আছি। আমরা নানা কর্মসূচি দিতে শুরু করেছি। ধারাবাহিক আন্দোলন চলবে। তবে যে কর্মসূচি দেব, যেন সেই কর্মসূচি অর্থপূর্ণ হয়। এটাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, সরকার নিজেদের কর্মকাণ্ডের কারণে বেকায়দায়। ইতোমধ্যে সরকারবিরোধী দলগুলো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে। সবার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। আশা করি, আগামী ডিসেম্বর জোটের বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেখতে পারবেন।
ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, নির্বাচনের পর জোটের শরিকদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে এই বিভেদ প্রকট আকার ধারণ করে। তবে, সেটা এখন অনেকটা কেটে গেছে। এখন আবারো জোটের কার্যক্রম ?শুরু হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জোটের কার্যক্রমকে কীভাবে আরো গতিশীল করা যায়, তা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। জোটটি কার্যত সক্রিয় করে ফের আমরা মাঠে নামব।
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর গণফোরামের সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্যকে নিয়ে গঠন করা হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এরপর জোটে যোগ দেয় কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য নিয়ে এই জোট গঠিত হয়েছিল। নানা নাটকীয়তা শেষে জোটগতভাবে নির্বাচনেও অংশ নিয়ে ভরাডুবির কবলে পড়ে তারা। এরপর থেকে নানা ইস্যুতে বাড়তে শুরু করে মতবিরোধ। জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেন গণফোরামের থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। এরপর তাকে জোট থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তী সময়ে দলটির আরেক সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানও শপথ নেন। এসব বিষয়ে ড. কামাল হোসেনের অনেকটা নীরব ভ‚মিকা পালন করনে। তার এ নীরবতাকে ঘিরে শরিকদের মধ্যে দেখা দেয় নানা রহস্য। গত ৮ জুলাই কর্মসূচিহীন জোটের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনে অভিযোগে জোট ত্যাগ করে কাদের সিদ্দিকী। তবে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বর্ষপূর্তি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামনে রেখে তৎপর হয় জোট। ওই ধারা অব্যাহত রাখতে কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/টিএইচ




Loading...
ads





Loading...