কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলন ৬ নভেম্বর

সভাপতির ভয়ে নীরব পদ-প্রত্যাশীরা


poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:৪৫

আগামী মাসে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন শ্রমিক লীগের জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হলে এখন কৃষক লীগের নেতাদের মধ্যে তেমন সম্মেলনের আমেজ নেই। বরং পদ-প্রত্যাশীদের মাঝে তাদের মধ্যে একটা ভয় ও সঙ্কোচ দেখা দিয়েছে। পদ-প্রত্যাশীদের যত ভয় বর্তমান সভাপতিকে নিয়েই। কারো নাম কোনো পত্রিকা কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর প্রকাশ পেলেই ওই ব্যক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে পদ-প্রত্যাশীদের শুধু গালমন্দ নয় বরং সংগঠন থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বাংলাদেশ কৃষকলীগের সম্মেলন ৬ নভেম্বর ঠিক করা হয়। সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথম অধিবেশন এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংগঠনের একাধিক নেতা জানান, গত ১০ অক্টোবর কৃষক লীগের কার্যালয়ে সংগঠনের শেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনটির সহ-সভাপতি বাবু ছবি বিশ্বাসকে গালমন্দসহ অনেক বাজে ব্যবহার করেছেন বর্তমান সভাপতি মোতাহের হোসেন মোল্লা। নেত্রকোনার সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা যাবেন সেই বিষয়টি আগে জেনে তারপর সম্মেলনের তারিখ ঠিক করার কথা বলা হলে সভাপতি রাগান্বিতভাবে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা কে যে, আমি তো সব।’ সেই সময় ছবি বিশ্বাসকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের হুঙ্কারও দেয়া হয়।

এ বিষয়ে বাবু ছবি বিশ্বাস মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের মাঝে অনেক কথাই হয়। আমরা তো কলিগ।’ তবে কৃষকলীগের বর্তমান সভাপতি মোতাহের হোসেন মোল্লা বলেন, আগামী কমিটিতে আমাদের রাখতেও পারে আবার বাদ দিতেও পারে। আমরা আরেকটা ট্রাম থাকতে চাই। সংগঠনে অনেক বাজে লোক আছে, যারা কোনো কাজ করে না। সম্মেলন আসলে ওরা সামনে এগিয়ে আসেন। এরপর আর কোনো খবর থাকে না।

তিনি বলেন, ছবি বিশ্বাসকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। পাঁচ বছরের পাঁচটা সভায়ও উপস্থিত হননি। এখন দেখা যাবে আসন্ন সম্মেলনকে সামনে রেখে অনেকেই ইস্তারি করা জামা কাপড়-চোপড় পড়ে আসবেন। নেত্রকোনো কনফারেন্স করার জন্য তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সম্মেলন সফল হয়নি। আগামী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের দুই শীর্ষ পদে থাকা না থাকার ব্যাপারে অনেকের নাম আলোচনা উঠেছে। তার মধ্যে সভাপতি পদে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু, সহ-সভাপতি বাবু ছবি বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা, সহ-সভাপতি শরীফ আশরাফ আলী, বদিউজ্জামান বাদশা, আকবর আলী, শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. হারুনুর রশীদ হাওলাদার। তবে বর্তমান সভাপতি মোতাহের হোসেন মোল্লা আবারো একই পদে থাকতে চান। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্যও অনেকের নাম নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।

এদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট, আতিকুল হক আতিক। সংগঠনের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু, আবুল হোসেন, আসাদুজ্জামান বিপ্লব পদ-প্রত্যাশী হিসেবে দৌড়। সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দ বলেন, র্শীষ দুই পদের যে কোনো একটি পদে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ মনোনীত হলে সংগঠন সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী ও গতিশীল এবং সংগঠনের ভেতরের যে অনিয়ম রয়েছে তা দূর হবে। তবে কৃষিবিদ সমীর চন্দ মানবকণ্ঠকে বলেন, কৃষক লীগের কনফারেন্সে আগামী দিনের নেতৃত্বে কৃষকের জীবনযাত্রার ওপরে জ্ঞান আছে, ধারণা আছে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সৎ ও দক্ষ সংগঠক নেতৃত্ব আমরা চাই। আমাদের সাংগঠনিক নেত্রী, আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর আমার সম্পূর্ণ আস্তা আছে। বরাবরের মতোই এবারো তিনি কৃষকের সুখ-দুঃখের সাথী এমন সৎ বিচক্ষণ, কর্মক্ষণ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মাঝ থেকে নেতৃত্ব বাঁছাই করবেন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা বলেন, আমি কোনো প্রার্থী না। নেত্রী আমাকে যেখানে রাখবেন আমি সেখানে থাকব।

সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি খান আলতাফ হোসেন (ভুলু) মানবকণ্ঠকে বলেন, ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করে বলেছিলেন, ‘এক ইঞ্চি জায়গাও খালি রাখা যাবে না। বাংলাদেশে অর্থনীতির ভিত্তি হবে কৃষি।’ এখন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা কৃষক লীগের সম্মেলনের আগামী ৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন। আমি কৃষক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে আশা করব বঙ্গবন্ধু যে উদ্দেশ্য নিয়ে কৃষক লীগ গঠন করেছেন। যারা কৃষক লীগের নিবেদিত প্রাণ এবং স্বচ্ছ ও কোনো বদনাম নেই ওইসব নেতাকে নিয়েই যেন কৃষক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।

জানা যায়, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব পাওয়া পর অদ্যাবধি বেশ কয়েকটি জেলা কমিটির সম্মেলন হয়নি। জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা জেলার (উত্তর), নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, চাঁদপুর। খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া জেলা, বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলা, পিরোজপুর ও পটুয়াখালী জেলা, রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, রংপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলা, সিলেটের সুনামগঞ্জের জেলা, ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলা সম্মেলন হয়নি। বরং বিভিন্ন জেলায় একাধিক কমিটি পরিবর্তন করার অভিযোগ রয়েছে। তবে দেশের বাইরে কমিটি দিতে খুব আগ্রহী ছিলেন তারা। ইতোমধ্যে সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও কানাডা কমিটি দেয়া হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/টিএইচ




Loading...
ads





Loading...