ক্যাসিনোকাণ্ডে দুদকের তালিকায় ২ এমপিসহ আ'লীগের ৪৩ জন


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩৪

এবার ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে দুদক। ক্ষমতার অপব্যবহার, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি এবং দলের পদ-পদবি ভাঙিয়ে যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, ইসিতে দেয়া জনপ্রতিনিধিদের হলফনামা ও বিভিন্ন দায়িত্বশীল মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুদক ওই তালিকা করছে। তবে এর আগে ৪৩ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা হয়েছে।

সূত্র জানায়, র‌্যাবের অভিযানে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার এবং দেশ-বিদেশে আত্মগোপনে আছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। তবে প্রথম তালিকাভুক্ত ৪৩ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে একাধিক মামলার প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে।

ক্যাসিনো-কাণ্ডে জড়িত ও তাদের সহায়তাকারীদের নাম নিয়ে দুদক ৪৩ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এ তালিকায় আছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মোল্লা আবু কাওসার, হুইপ ও চট্টগ্রামের এমপি শামসুল হক চৌধুরী, যুবলীগের ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, জি কে শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মোহামেডান ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, কৃষক লীগের শফিকুল আলম ফিরোজ, যুবলীগের আনিসুর রহমান আনিস, আরমান, আওয়ামী লীগের এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন চৌধুরী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ, রাজিব, হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান, জি কে শামীমের ক্যাশিয়ার যুবলীগের সোহেল, ক্যাসিনো সম্রাট সেলিম প্রধান, গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে ও আবদুল হাই, নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিম প্রমুখ।

দুদক সচিব মুহম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, আমরা ৪৩ জনের তালিকা করেছি। তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলা দেয়া হবে।

তবে দুদকের অপর একটি সূত্র জানায়, ক্যাসিনো-কাণ্ডে প্রথম তালিকাভুক্ত ৪৩ জন থেকে বেড়ে এ সংখ্যা অর্ধশত হতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের টিম অনুসন্ধান কাজ করছে।

টিমের অপর সদস্যরা হলেন- উপপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. সালাহউদ্দিন, সহকারী পরিচালক মামুন চৌধুরী ও উপসহকারী পরিচালক নেয়ামুল হক গাজী। এই টিমের কাজ তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন দুদকের একজন মহাপরিচালক।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, সরকার দলের অনেকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অবৈধ সম্পদসহ নানা অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

এই তালিকায় নরসিংদীর সাবেক ও বর্তমান দুই এমপি, রাজধানীর মিরপুরের আলোচিত এক এমপি, খুলনার সাবেক এক এমপি, পিরোজপুর ও বরগুনার সাবেক দুই এমপি, মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা, যুবলীগ দক্ষিণের সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর ছেলের নাম দুদকের নথিতে রয়েছে।

দুদক বলছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতিসহ বর্তমান ও সাবেক অন্তত হাফ ডজন এমপির বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান নথিভুক্ত হলেও ফের সচল করা হচ্ছে। এছাড়া শিগগিরই আরও বেশ কয়েকজন হাইপ্রোফাইলের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হচ্ছে বলে দুদক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

হাইপ্রোফাইলদের দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতির ‘গডফাদার’দের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অনুসন্ধান ও তদন্তের সময় কোনো দল বা মুখ দেখা হবে না।

ক্যাসিনো-কাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়ের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন. আমরা অনুসন্ধান করব। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলা করার আগে সম্পদ বিবরণী চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সম্পদ বিবরণী চাইলে তারা দেবে।

অনুসন্ধানে যদি ‘গ্রহণযোগ্য’ তথ্যপ্রমাণ আসে তবে সরাসরিও মামলা করা যাবে। এতে কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, কারও কথায় আমরা কাজ করি না। দুদক স্বাধীন। সংসদ নির্বাচনের আগে দেয়া এমপিদের হলফনামায় দেয়া সম্পদের বিষয়টিও অনুসন্ধানে আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 




Loading...
ads






Loading...