সম্রাট হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিইউতে


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৩৫,  আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৫৬

ক্যাসিনোকাণ্ডে বিতর্কিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার রাতে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়। পরে মঙ্গলবার সকালে তাকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান মাকসুদ।

মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. আফজালুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আজ সকালে সম্রাটকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সিসিইউয়ে চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসার বিষয়ে আমরা একটা ইনফরমাল মেডিকেল টিম গঠন করেছি। যেখানে আমাদের কার্ডিয়াক সার্জন ও কার্ডিওলজিস্ট সার্জন রয়েছেন। যেহেতু তিনি অবজারভেশনে আছেন তাই আমরা আপাতত উনাকে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েছি। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কথা বলতে পারবো।

তিনি বলেন, উনার কন্ডিশন এখন স্ট্যাবল আছে। তবে রোগী অবজারভেশনে থাকবে। আমরা ফলোআপ রিপোর্ট আপনাদের জানাবো। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর ফর্মাল মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। আপাতত ইমারজেন্সি ইনফরমাল মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. আফজালুর রহমান বলেন, ১৯৯৮ সালে উনি হার্টের একটা বাল্ব রিপ্লেসমেন্ট করেছিলেন। আমরা ইতোমধ্যে পরীক্ষা করে দেখেছি ওনার বাল্বটা ভালো কাজ করছে। ওনার শারীরিক অবস্থার অন্যান্য দিকগুলোও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যেহেতু তিনি ব্যথার কথা বলেছেন, তাই আমরা তার ব্যথার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখার চেষ্টা করছি- ব্যথাটা ঠিক কতটুকু মারাত্মক বা সহনশীল।

এরআগে ঢামেকে সম্রাটের সঙ্গে থাকা কারারক্ষী মুজাহিদুল জানান, সম্রাট কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় কারারক্ষী ও পুলিশি পাহারায় তাকে ঢামেকের জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরে তাকে নতুন ভবনের তিন তলায় হৃদরোগ বিভাগে নেয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী আরমানকেও গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাদের যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ঢাকার জুয়াড়িদের কাছে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। জুয়া খেলাই তার পেশা ও নেশা। প্রতি মাসে ঢাকার বাইরেও যেতেন জুয়া খেলতে।

সম্প্রতি রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন সম্রাটের ডান হাত হিসেবে পরিচিত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

এর পর ধরা পড়েন রাজধানীর টেন্ডার কিং আরেক যুবলীগ নেতা জিকে শামীম। এ দুজনই অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। প্রকাশ্যে চলে আসে সুন্দর অবয়বের আড়ালে সম্রাটের কুৎসিত জগৎ। এতে করে বেকায়দায় পড়েন সম্রাট।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...