খালিদ-শামীম-ফিরোজকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ

ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজির কমিশন রুই-কাতলাদের পকেটে!

ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজির কমিশন রুই-কাতলাদের পকেটে!
ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজির কমিশন রুই-কাতলাদের পকেটে! - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • শাহীন করিম
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৬,  আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩:৩৩

রাজধানীর অবৈধ ক্যাসিনো (জুয়ার আসর), টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ জগতের তিন আতঙ্ক বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জি কে শামীম, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে অনেক নতুন তথ্য দিয়েছেন তারা। এ ছাড়া ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজি করে তারা কে কত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন- সে বিষয়ে একটা তালিকা করা হচ্ছে। টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনোর টাকার কমিশন কারা পেতেন- সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক রুই-কাতলার নাম বলেছেন। কমিশন নেয়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সাবেক ও বর্তমান এমপি এমনকি বিগত বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও এমপির নাম রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, এই তালিকায় রাজধানীর বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদেরও নাম রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলো পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নেই। তাই মাঝে মধ্যেই এসব নেতা যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও ল্যাংড়া খালেদের কাছ থেকে টাকা নিতেন। এ ছাড়া দুবাইয়ে আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে খালেদ ও শামীমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার তথ্য দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, তাদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

অপর একটি সূত্র জানায়, উত্তরা র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা খালিদ মাহমুদ ভ‚ঁইয়া ওরফে খালেদ, জি কে বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী জি কে শামীম ও কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ওরফে ফিরোজ আলমকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছেন। খালেদের অস্ত্র ভাণ্ডারের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। টেন্ডারবাজিতে তার ক্যাডার বাহিনীর কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য দিয়েছেন। তবে তার কাছে একে-২২ রাইফেল থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে উদ্ধার হওয়া দুটি একে-২২ রাইফেল তার নয় বলে খালেদ দাবি করেছেন বলে সূত্র জানায়।

সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র মতে, বছরখানেক আগে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট খালেদকে যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করেন। যদিও পরে তা কার্যকর হয়নি। এর জের ধরে তাদের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই শুরু হয়। সম্রাটের সন্দেহ ছিল, সিঙ্গাপুরের ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলে খালেদ ও জিসানের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। জিসান ঢাকার ক্যাসিনোর চাঁদাবাজির কমিশন হিসেবে সম্রাটের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এর জের ধরে সম্রাট খালেদকে বহিষ্কার করে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এদিকে, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে গত দুই দিন ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের কোনো যোগাযোগ নেই। দলীয় শীর্ষ নেতাদের ধারণা সম্রাট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরবন্দিতে আছেন অথবা সম্রাট আত্মগোপন করেছেন। এই ক্যাসিনো গুরু বর্তমানে দল থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। তার সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরই যোগাযোগ নেই। সম্রাট কোথায় আছেন- সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সংস্থাই এখনো পর্যন্ত খোলাসা করে কিছু বলছেন না।

অপরদিকে, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক লোকমান ভূঁইয়াকে তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় ২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। লোকমান ভূঁইয়াকে তেজগাঁও থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, বিদেশি ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ক্যাসিনো বাণিজ্য সম্পর্কে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে করে দেখা হবে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads







Loading...