নাজুক পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা

মানবকণ্ঠ
নাজুক পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • মাহমুদ সালেহীন খান
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:২৪,  আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:১৪

দেশে বিভাগ ভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হলেও ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা রয়েছে নাজুক পর্যায়ে। ১৮ কোটি মানুষের দেশে প্রতিবছর এ রোগে আক্রান্তর সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার। যার মধ্যে ৭৮ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য একটি ক্যান্সার হাসপাতাল প্রয়োজন। এর বিপরীতে দেশে আছে মাত্র ১৮টি। জনসংখ্যা অনুপাতে ১ হাজার ছয়শ’ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ থাকা জরুরি থাকলেও দেশে আছে মাত্র দেড় শতাধিক। বর্তমানে এ রোগের ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে এর চিকিৎসাও ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদি।

এ বিষয়ে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার মানবকণ্ঠকে বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি। অজ্ঞতা, অসচেতনতা এবং ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসা সুবিধা অতি কেন্দ্রীভ‚ত হওয়ায় রোগ ধরা পড়ে দেরিতে। অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল পাওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া অনেক ব্যয়বহুল হওয়ায় সবার পক্ষে চিকিৎসা নেয়াও সম্ভব হয় না।

দেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এমিনেন্স’র তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর ১ কোটি ২ লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর এ রোগে আক্রান্তর সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার। যার মধ্যে ৭৮ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। ২০১০ সালের এক সমীক্ষা অনুসারে, বছরে প্রতি ৫ জন বাংলাদেশি নারীর মধ্যে একজন ক্যান্সারে মারা যায়। দেশে এই রোগের প্রকোপ নিরূপণে যথেষ্ট গবেষণা না থাকলেও সাধারণ হিসেবে প্রতি ২৫ জনের মধ্যে একজন যে কোনো ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য কমপক্ষে একটি ক্যান্সার হাসপাতাল বা ক্যান্সার ইউনিট থাকা প্রয়োজন। সেই হিসাবে দেশে ১৬০টি ক্যান্সার হাসপাতাল বা ইউনিট থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আছে মাত্র ১৮টি। এসব ইউনিটে ব্যবহƒত যন্ত্রপাতি বেশিরভাগ সময় অকার্যকরই থাকে।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে নেই রেডিওথেরাপি মেশিন, নেই সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দু-একটিতে অত্যাধুনিক কিছু যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। জনসংখ্যার অনুপাতে দেশে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অনেক কম।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোল্লা ওবায়দুল্লাহ বাকী জানান, একটি ক্যান্সার ইউনিট চালাতে অন্তত ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন। সেই হিসাবে দেশে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন ১ হাজার ৬০০ জন। কিন্তু বর্তমানে আছেন মাত্র ১৫০-এর কিছু বেশি।

একমাত্র জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ছাড়া সরকারি-বেসরকারি কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। এখন পর্যন্ত ক্যান্সার চিকিৎসা রাজধানীকেন্দ্রিক। তাই সরকারি খাতে চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। সামর্থ্য না থাকলেও বাধ্য হয়ে বিদেশে কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

ঢাকার মহাখালীতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে ৩০০-তে উন্নীত করা হয়েছে। রেডিওথেরাপির আধুনিক যন্ত্রপাতিও আছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেডিওথেরাপির সর্বাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন সংযুক্ত হয়েছে। তবে দেশের বড় ৮টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সবগুলোতে আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে বেসরকারিখাতে কয়েকটি বড় হাসপাতালে রেডিওথেরাপিসহ ক্যান্সার চিকিৎসা চালু হলেও তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads






Loading...