সাক্ষরের হার বাড়াতে নানা উদ্যোগ সরকারের

সাক্ষরের হার বাড়াতে নানা উদ্যোগ সরকারের - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • মাহমুদ সালেহীন খান
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৪৯,  আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:২৭

আজ রোববার আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছে। এবারের এ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, ‘বহু ভাষায় সাক্ষরতা’। গত এক বছরে সাক্ষরতার হার বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ। ২০১৮ সালে যা ছিল ৭২.৯ শতাংশ। ২০১৯ সালে ৭ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বয়সীদের সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। আর ১৫ বছর বয়সীদের গড় সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ। সাক্ষরতার হার বাড়াতে সরকার ১০ বছরে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে সাক্ষরতার হার ছিল ১৬.৮ শতাংশ। ১৯৭৪ সালে এই হার উন্নীত হয় ২৫.৯ শতাংশে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে এই হার দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩৫.৩ ও ৪৭.৯ শতাংশ। শতভাগ সাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত সন্তোষ প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার উন্নয়নে গত এক দশকে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাক্ষরতার হার বাড়লেও তা আশানুরূপ নয়। একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির জন্য সাক্ষরতার উচ্চহার অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত টেকসই উন্নয়নে এর কোনো বিকল্প নেই।

শিক্ষাবিদরা আরে বলছেন, বিনামূল্যের বই, উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিংসহ সরকারের নানা পদক্ষেপের সুফল মিলছে এখন। বিশেষ করে বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে যাওয়ায় শিক্ষার প্রতি সবার আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে বেড়েছে মেয়েদের আগ্রহ। এ কারণে কমেছে বাল্যবিয়ে। কমছে ঝরে পড়াও। শিক্ষা খাতে এত উন্নতির কারণেই সহস াব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তবে সামনের চ্যালেঞ্জ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন। এখন প্রয়োজন শিক্ষার গুণগতমানের উন্নয়ন।

উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক তপন কুমার ঘোষ বলেন, বিবিএস থেকে আমরা যে পরিসংখ্যান পেয়েছি সে হিসেবে এ বছর গড় সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। সরকারের এসডিজি অর্জনের লক্ষ্য হিসেবে এ হার বাড়াতে আমাদের নানা তৎপরতা রয়েছে। আশা করছি সাক্ষরতার হার বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ধারাবাহিক থাকবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, এবার সাক্ষরতা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহু ভাষায় সাক্ষরতা’। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসকে কেন্দ্র করে ইউনেস্কোর নির্ধারিত ‘লিটারেসি অ্যান্ড মাল্টিলিংগুইজম’র সাথে সঙ্গতি রেখে এটি নির্ধারণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নানামুখী কার্যক্রম ইতোমধ্যে হাতে নেয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ১০ বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে সংখ্যাগত অর্জনটা বেশি। আমাদের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, জেন্ডার সমতা নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে ভৌত সুবিধাও বেড়েছে। বিনামূল্যে বই দেয়া, একযোগে ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা সরকারের বড় অর্জন। তবে গুণগতমান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষা কাক্সিক্ষত লক্ষ্যের পেছনে। মানসম্মত শিক্ষার জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা দরকার।’

ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের সাবেক উপাচার্য আহম আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, বলার অপেক্ষা রাখে না, বতর্মানে আমাদের দেশে উন্নয়নের যে ধারায় এগিয়ে চলেছে তাতে আমাদের সাক্ষরতার হার আরো বেশি হওয়া উচিত। তবে সাক্ষরতার বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক এবং জরুরি বিষয়। জনগণকে বেশি হারে উন্নয়নের ধারায় যুক্ত করতে হলে তাদের সবাইকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। স্মারক ডাক টিকিট অবমুক্তকরণ, ক্রোড়পত্র ও স্মরণিকা প্রকাশ, পোস্টার তৈরি, শোভাযাত্রা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে সড়কদ্বীপ সজ্জিতকরণ, গোলটেবিল বৈঠক ও টেলিভিশনে টকশোর আয়োজন করা হবে।

এদিকে সাক্ষরতার হার বাড়াতে নানামুখী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাক্ষরতা কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। বিদ্যালয় বহিভর্‚ত শিশুদের জন্য উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যালয় বহির্ভূত ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৫ লাখ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সাক্ষরতার হার আরো বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 






ads
ads