কে এই সাধনা : যার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় জড়ালেন সেই ডিসি?


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৭ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৩৫,  আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৪৪

নিজ অফিস কক্ষে এক নারী কর্মচারীর সঙ্গে জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকে সমালোচনার ঝড় উঠে বিভিন্ন মহলে। ভিডিওতে ওই নারী অফিস সহায়কের নাম সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা।

তবে গত শুক্রবার দুপুরে সার্কিট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে ওই ভিডিওটি সাজানো বলে দাবি করেছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। এ ঘটনায় তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে সরকার।

তবে কে এই সাধনা? কি তার পরিচয়। আর কিভাবেই বা ডিসি তার সঙ্গে ঘনিষ্টতায় জাড়ালেন। সেই প্রশ্ন এখন জনমনে।

একাধিক সূত্র জানায়, সাধনা জামালপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে চাকরি করলেও একই সাথে তিনি আদর্শ মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভানেত্রী। তার বাড়ি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের সুখননগরী গ্রামে। ওই গ্রামের নিঃসন্তান খাজু মিয়া ও কুমকুম বেগমের দত্তক নেয়া মেয়ে সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা। ২০০৯ সালে তার স্বামী জাহিদুল ইসলাম ফরহাদ মারা যান। তার এক পুত্র সন্তান রয়েছে। এরপর টাঙ্গাইলের এক পুলিশ কনস্টেবলের সাথে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে মিল না হওয়ায় কিছুদিন পর তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর তিনি আবার পিত্রালয়ে ফিরে আসেন।

বর্তমানে তিনি জামালপুর শহরের বগাবাইদ বোর্ডঘর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। সাধনার মাথায় চুল নেই। অল্প বয়সে রোগের কারণে তার মাথার চুল ও ভ্রু উঠে যায়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে চাকরি পেতে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর।

এদিকে আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় আত্মগোপনে থাকা সমালোচিত জামালপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা গতকাল সোমবার সকালে অফিসে আসার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটির আবেদন করেন। ওই ছুটির আবেদন জমা দেয়ার পূর্ব মুহূর্তে অসুস্থ হয়ে দরজার সামনে হঠাৎ মেঝেতে শুয়ে পড়েন সাধনা। এ সময় অনেকে বলছিলেন সাধনা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কেউ কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই আবেদনপত্র জমা দিয়ে দ্বিতীয় তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামেন এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান গেট দিয়ে বেব হয়ে রাস্তার বিপরীত পাশে গিয়ে রিকশায় উঠে চলে যান।

এর আগে অফিসে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি সত্য কথা বলছি, আমি কিছুই জানি না, এগুলা কে করছে। আপনারা তদন্ত করে বের করে বিচার করেন। আমি বিচার চাই কিন্তু স্যারের ( ডিসি) কোনো দোষ নেই এর মধ্যে। স্যার আমার কোনো ক্ষতি করে নাই। আপনারা একটা কথা শুনে রাখেন, আমার বাঁচার কোনো ইচ্ছা নাই। আমি শুধু আমার একমাত্র সন্তানের দিকে তাকিয়ে বেঁচে আছি। এভাবে ধিক্কার না দিয়ে, আপনারা আমার বাঁচার ব্যবস্থা করে দিয়েন।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ আগস্ট বিকেলে ‘খন্দকার সোহেল আহমেদ’ নামের একটি পাবলিক ফিগার ফেসবুক পেজ থেকে জামালপুর জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চপদধারী সরকারি কর্মকর্তা আহমেদ কবীরের তার অফিসেই একজন নারীর সঙ্গে অবৈধ মেলামেশার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়। ফেসবুক আইডি থেকে এটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ব্যাপক হারে নজরে আসতে থাকে ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারীদের কাছে। এদিকে শুক্রবার ভোররাত থেকে রহস্যজনক কারণে ওই আইডির ওয়াল থেকে ভিডিও লিংকটি সরিয়ে নেয়ায় সন্দেহ আরো দানা বেঁধে উঠেছে।

এমন ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। ৪ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে যে কক্ষটি দেখা যাচ্ছে সেটি জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের অফিস কক্ষে তার চেয়ারের ঠিক ডান পাশের ছোট একটি কক্ষ। ছোট এই কক্ষটিতে একটি ছোট খাট বসানো হয়েছে। কক্ষটি বেশ পরিপাটি দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটিতে পুরুষ ব্যক্তিটিই জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। আর যে নারীকে দেখা যাচ্ছে তিনি এই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমেই সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া একই অফিসের একজন অফিস সহায়ক সাধনা।

মানবকণ্ঠ/এএম

 

 





ads







Loading...