গ্রেনেড হামলা: পলাতক ১০ আসামিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ


poisha bazar

  • শাহীন করিম
  • ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:৪১

২০০৪ সালের ভয়াবহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ১০ আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া চালাচ্ছে পুলিশ। এ জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করছে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সেসব কাগজপত্র পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্টার ব্যুরোকে (এনসিবি) দিলে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের জন্য জমা দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তারপরও তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করা অনিশ্চিয়তা ও সংশয় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামির আসামি বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ রয়েছে। এরা হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, কুমিল্লার সাবেক এমপি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মাওলানা তাজউদ্দিন আহমেদ, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ ও রাতুল আহমেদ বাবু। তবু কোনোভাবেই তাদের দেশে ফেরানো যাচ্ছে না। তবে পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, এদের মধ্যে তারেক রহমান ও কায়কোবাদের নাম আপাতত রেড নোটিশে নেই। রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণ দেখিয়ে বিদেশি আইনজীবী দিয়ে তৎপরতা চালিয়ে এই দুজন তাদের নাম বাদ দিতে সক্ষম হয়েছেন।

পুলিশ সদর সূত্র জানায়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক ও কায়কোবাদকে ইন্টারপোলের ফের রেড নোটিসের আওতায় আনতে গত জুনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরোপসহ অনেক উন্নত দেশ মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে। যে কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যদি ওইসব দেশে পালিয়ে থাকে তাহলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা মুশকিল। তা ছাড়া ওইসব আসামিরা সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতে শরণাপন্ন হয়ে সাহায্য চায়। তাই বিদেশ পালিয়ে থাকা আসামিদের দেশে ফেরানো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ১৬ আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় ঘোষণার সময় পলাতক ছিলেন ১৮ জন। এ বছরের শুরুতে পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান ও ডিএমপির সাবেক ডিসি ওবায়দুর রহমান খান দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাই এখনো পলাতক রয়েছেন ১৬ জন।

গ্রেনেড হামলা মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা হচ্ছেন-বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, কুমিল্লার মুরাদনগরের বিএনপির সাবেক এমপি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মাওলানা মো. তাজউদ্দিন মিয়া, রাতুল আহমেদ বাবু, মাওলানা মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরসালিন ওরফে মুরসালিন, মোহাম্মদ খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ লোকমান হাওলাদার, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের ও মুফতি শফিকুর রহমান।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরে ইন্টারপোল ডেস্কের প্রধান ও এআইজি মহিউল ইসলাম বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার দণ্ডিত ১০ আসামিকে ধরতে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এই নিয়ে সিআইডি কাজ করছে। অল্প সময়ের মধ্যে নোটিশ জারি করা হবে আশা করছি।

তিনি বলেন, বাকি ৬ আসামির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ করা ছিল। তারা হচ্ছেন- তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মোহাম্মদ হানিফ, মাওলানা তাজউদ্দিন মিয়া ও রাতুল আহমেদ বাবু। এদের মধ্যে ৪ জনের রেড নোটিশ বহাল আছে। তারেক রহমান ও কায়কোবাদের নাম আপাতত রেড নোটিশে নেই।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

 




Loading...
ads




Loading...