সীমান্তের সব স্থানে বেড়া দিচ্ছে ভারত


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১২ আগস্ট ২০১৯, ১১:০১,  আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৯, ১২:১০

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের যে অংশে এখনো কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে এই বেড়া বসাতে যাচ্ছে ভারত। যেভাবে আগে বেড়া দেয়া হয়েছে, সেভাবে নতুন করে বেড়া দেয়া হলে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খাঁন কামাল। খবর ডয়চে ভেলের।

বিশেষ সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামাল ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো জানিয়েছেন। আগরতলা বিমানবন্দরকে জমি দেয়ার বিষয়ে কারো সঙ্গে কোনো কথা হয়নি বলেও জানান তিনি। কাঁটাতারের বেড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কথা ছিল (আলোচনা হয়েছে) যে, ইলিগ্যাল ট্রেসপাস যাতে না হয় সেটার জন্য, সেটার জন্য আমরাও বলেছি যে- বর্ডারে ইলিগ্যাল ট্রেসপাস হতেই পারে, সেজন্য তারা ভারতের যে অংশটায় কাঁটাতারের বেড়া নেই এখন পর্যন্ত, বাকি রয়েছে, আমাদের সঙ্গে, সেখানে তারা বেড়া দিতে চায়। আমরা বলেছি, যেভাবে তারা বেড়া দিয়ে আসছে সেভাবে দিলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই?

বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়া কামাল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতি বছরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে এ ধরনের বৈঠক হয় জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল বলেন, কিছু অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ হয়েছে, যেসব বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে তা দুই পক্ষ বসে ঠিক করে নেবে।

তিনি বলেন, মাদক নিয়ে আলাচনা হয়েছে। তারা বলেছে, ইয়াবা তাদের দেশেও ঢুকে যাচ্ছে এবং আমাদের সহযোগিতায় এটা তারা নিয়ন্ত্রণ করবে। জঙ্গি দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তারা সহযোগিতা করছে, এটা বজায় রাখতে বলেছি, তারা রাজি হয়েছেন এবং প্রয়োজন হলে আরো সহায়তা দেবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) ডায়নামিক লিডারশিপে বাংলাদেশ একটি নতুন উচ্চতায় চলে গেছে। তিনি এটাও বলেছেন, সব দেশেরই এটা অনুসরণ করা উচিত কীভাবে জঙ্গিসন্ত্রাস দমন করে এই সুন্দর মডেলে তিনি দেশকে নিয়ে এসেছেন।

আছাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, বঙ্গবন্ধুর জš§শতবার্ষিকী উদযাপনে ভারতের কিছু করার থাকলে সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন মোদি। আমি বলেছি, বঙ্গবন্ধু তার ছোটবেলা ভারতেই কাটিয়েছেন, তার অনেক স্মৃতিবিজড়িত ভারত। তিনি (মোদি) বলেছেন, (বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে) আমারা কিছু করতে পারলে খুশি হব।

২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর পূর্ণ হবে। আর ঠিক পরের বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশ উদযাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।
বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ভারত। প্রয়োজনে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে আবারো এ নিয়ে কথা বলবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিনিও মনে করেন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে হবে। মিয়ানমার সরকারপ্রধান যখন (ভারতের) নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তখন তাকে এ বিষয়ে বলেছেন এবং প্রয়োজনে আবারো বলবেন।

আমি তাকে (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) বলেছি, রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও আবাসনে আপনারা সহায়তা করছেন। আসলে এদের প্রত্যাবসনে কফি আনান কমিশন যে ফমুর্লা দিয়েছেন সেটা অনুসরণ না করলে প্রত্যাবাসন হবে না, তারা গেলেও আবার ফেরত আসবেন। তখন তিনি (মোদি) বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি মিয়ানমারের সরকারপ্রধানের সঙ্গে কথা বলবেন।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে নয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের আগস্টে সাত লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হলেও তাতে অগ্রগতি নেই?

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

 




Loading...
ads





Loading...