জমে উঠেছে ফুটপাতের কেনাকাটা


poisha bazar

  • হাসান মাহমুদ রিপন
  • ২৮ মে ২০১৯, ১৪:১৮,  আপডেট: ২৮ মে ২০১৯, ১৪:৩১

বছর ঘুরে আবারো আসছে ঈদ উৎসব। তাই শপিং মলগুলোর মতো রাজধানীর ফুটপাতের দোকানগুলোতেও জমে উঠেছে কেনাকাটা। এখানে মানভেদে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকায় প্রতি পিস পাঞ্জাবি, ১৬০ টাকায় শিশুদের টি-শার্ট ও শার্ট এবং ফ্রক ২৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে পুলিশ তাড়া করায় স্বস্তি মিলছে না বেচাকেনায়। গার্মেন্টস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন বোনাস হয়ে গেলে বিক্রি আরো বাড়বে বলে প্রত্যাশা এসব দোকানীদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সব বয়সী নারী-পুরুষের জন্য রং বে-রঙের বিভিন্ন ডিজাইনের জামা-কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতে। সারি সারি এসব দোকানগুলো থেকে প্রতিনিয়তই পছন্দমতো জামা-কাপড় ও শার্ট কিনছেন নগরবাসী। এখানে শার্ট বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২৬০ টাকায়। এসব শার্ট রাজধানীর বিভন্ন কারখানা থেকে সংগ্রহ করে এখানে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। ফুটপাতে অল্প আয়ের মানুষ সাধ্যের মধ্যে পণ্য কিনতে পেরে যেমন খুশি, তেমনি পণ্য বিক্রি করে খুশী দোকানীরাও।
ঈদ উপলক্ষে ফুটপাতের দোকানগুলোতে শিশুদের ফ্রক, টি-শার্ট ছাড়াও বাহারী ডিজাইন ও নানা রঙের শিশুদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা সাধ্যের মধ্যে পছন্দের জামা কাপড় খুঁজে নেন এই ফুটপাত থেকে। এখানে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকমের পায়জামা পাঞ্জাবি। রমজানের প্রথম দিকে তেমন জমজমাট না থাকলেও এরই মধ্যে জমে উঠেছে ফুটপাতের ব্যবসা। রমজানের শেষ ১০ দিন বিক্রি আরো বাড়ার প্রত্যাশা দোকানীদের।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সব বয়সী নারী-পুরুষের জন্য রং-বেরংয়ের বিভিন্ন ডিজাইনের জামা-কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতে। রাজধানীর ফুটপাতের বাজারে প্রতিনিয়তই ক্রেতারা আসছেন, পছন্দমতো জামা-কাপড় কিনছেন। কেউ কর্মস্থলে যাওয়ার সময় কেউবা ফেরার সময় পছন্দমতো নিজেদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারছেন।

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় জমজমাট দেখা গেছে মার্কেটের বাইরে ফুটপাতের বেচাকেনায়। নিউমার্কেটের ফুটপাত থেকে আদুরের মেয়ের জন্য গোলফ্রক কিনেছেন শামিম রহমান। সকাল থেকে শুরু হয়ে ফুটপাতের এই বেচাকেনা চলে রাত দশটা বা তারও একটু বেশি সময় পর্যন্ত।

একাধিক ফুটপাতের ব্যবসায়ী জানান, ঈদের সময় যতো কাছে আসবে এই বেচাকেনা মধ্যরাত ছাড়িয়ে যাবে। মার্কেট ভেদে ছেলেদের শার্ট বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, জিন্স প্যান্ট ৩৫০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকায়, টি-শার্ট ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, মেয়েদের থ্রি-পিস ৪৫০ টাকা থেকে হাজার/১২০০ টাকা, শাড়ি ৪৫০ থেকে ২০০০ হাজার টাকা, বাচ্চাদের থ্রি-কোয়াটার জিন্স প্যান্ট ৩০০ টাকা, গেঞ্জির সেট ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, ফ্রক ও টপস ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য হাতাকাটা গেঞ্জি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা।

ফুটপাতের বেচাকেনা খোঁজ নিতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে যেতেই কানে ভেসে এলো ‘দেইখ্যা লন দুইশ’, বাইছ্যা লন দুইশ’, একদাম দুইশ’, যেটাই নেবেন দুইশ’। এ রকম শব্দ শুধু এখানেই নয়, রাজধানীজুড়েই। বায়তুল মোকররমের সামনে ফুটপাতে গেঞ্জির ব্যবসা করেন আমজাদ হোসেন। এক দাম ৪০ টাকায় বেচাকেনা করছেন তিনি। পাশেই কয়েকটি জুতার দোকানে গিয়ে দেখা যায় তারাও এক দামেই ব্যবসা করছেন। যার যে জুতা পছন্দ হচ্ছে এক দাম বলে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতার পছন্দ ও সাধ্যের মধ্যে হলে প্যাকেট করছেন আর সাধ্যের মধ্যে না হলে অন্য দোকানে ছুটছেন। এক দামের বিষয়ে ফুটপাতের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, প্রতিদিন অনেক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলি। রোজা রাইখা বেশি কথা ভালো লাগেনা সীমিত লাভ রেখে মাল (পণ্য) ছাইড়া দিচ্ছি।

মতিঝিল এলাকার শার্ট বিক্রেতা ইসলাম মিয়া জানান, বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এখানে সারাক্ষণই ভিড় লেগে থাকে। বিক্রিও ভালো। বিভিন্ন অফিসের বড় বড় কর্মকর্তারা এখান থেকে কেনেন। রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের ফুটপাতের ব্যবসার খোঁজ নিয়ে জানা গেলো এখানে জমজমাট কসমেটিক্স পণ্য। পরিবারের প্রয়োজনীয় পণ্যটি আগে ভাগেই কিনে ফেলছেন সবাই। তবে এখানকার ফুটপাতের জামা বা জুতার ব্যবসায়ীরাও বসে নেই। তাদের বিকিকিনিও বেশ ভালো।

ঈদ সামনে রেখে বসে নেই মৌসুমি হকাররাও। বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ট্রাফিক সিগন্যালে থামা গাড়িগুলোর দিকে ছুটছেন একেকজন। কারো হাতে আতর কারো হাতে টুপি কারো হাতে নামাজ শিক্ষার বিভিন্ন ধরনের বই সামগ্রী। যানজটে গাড়িতে বসে থাকা মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন এই পণ্যগুলো ভাসমান হকাররা।


মানবকণ্ঠ/এএম






ads