অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ চট্টগ্রামের পাঁচ পত্রিকা

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ চট্টগ্রামের পাঁচ পত্রিকা
- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • এম এম খালেদ, চট্টগ্রাম
  • ০৫ আগস্ট ২০২০, ১৬:৪৫,  আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২০, ২০:০৮

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) আন্দোলন ও আজাদীর সম্পাদকের বাসা ঘেরাও কে কেন্দ্র করে গত ৭ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের পাঁচটি পত্রিকার প্রকাশনা। সম্পাদকদের সংগঠন ‘চট্টগ্রাম নিউজ পেপারস অ্যালায়েন্স’ অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রকাশনা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে চরম অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগে রয়েছেন সেখানকার কর্মরত সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মীরা।

প্রকাশনা বন্ধ থাকা পত্রিকাগুলো হলো— দৈনিক আজাদী, দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ, দৈনিক পূর্বদেশ।

গত ২৯ জুলাই নগরীর ঘাটফরহাদবেগ এলাকায় দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেকের বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে সিইউজে। এরপর রাতে আজাদীসহ অন্যান্য পত্রিকায় কর্মরতরা জানতে পারেন, কর্তৃপক্ষ পত্রিকার প্রকাশনা ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরদিন দৈনিক পূর্বকোণ এবং পূর্বদেশ পত্রিকার সম্পাদকের বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছিল সিইউজে। তবে নিজ নিজ ইউনিটের নেতারা বেতন-বোনাস পেতে মালিকের আশ্বাস পেয়েছেন জানিয়ে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

এ-ব্যাপারে দৈনিক আজাদীর প্রধান প্রতিবেদক হাসান আকবর মানবকন্ঠকে বলেন, আমরা কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক মিলে ‘ঈদুল আজহার ছুটির পর পত্রিকা চালুর বিষয়ে জানতে সম্পাদক মহোদয়ের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি পত্রিকা প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তে অনড় আছেন।’

জানা যায়,চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে সৃষ্ট ঘটনার যাবতীয় লিখিত আকারে জানানোর পাশাপাশি এখনো আশা করছেন সম্পাদকরা পত্রিকা প্রকাশনা চালু করবেন। প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচি দিবে সংগঠনটি।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, 'সাংবাদিকদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করতে এরকম হুট করে একযোগে পত্রিকা বন্ধ রাখা এটা নজিরবিহীন ঘটনা। আমরা ইতোমধ্যে তথ্যমন্ত্রীকে লিখিত ও মৌখিকভাবে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছি। সিইউজের নির্বাহী কমিটির জরুরী বৈঠক আছে সেখানেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে।'

দৈনিক পূর্বদেশের সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের একটা অ্যালায়েন্স আছে। সেখানে যতক্ষণ সিদ্ধান্ত হবে না, ততক্ষণ তো আমি একা পত্রিকা বের করতে পারব না। পত্রিকা বের করার বিষয়ে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

এ বিষয়ে আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, ‘কিভাবে পত্রিকা বের করব? পত্রিকা বের করার কোনো পরিবেশ আছে? যেখানে নিজের ইজ্জত নিয়ে টানাটানি, সেখানে আমি পত্রিকা বের করে কী করব? বাংলাদেশে পত্রিকার ইতিহাস লিখতে গেলে অবশ্যই দৈনিক আজাদীর নাম আসবে। আবার মালিকের বাসার সামনে আন্দোলনের ইতিহাস লিখতে গেলেও আমার নাম আসবে। আমার পত্রিকা প্রকাশের খায়েশ মিটে গেছে।

মানবকণ্ঠ/আরএস

 





ads







Loading...