অমানবিক হাতকড়া

অমানবিক হাতকড়া
অমানবিক হাতকড়া - ছবি: প্রতিনিধি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৪ মে ২০২০, ০০:৩৮,  আপডেট: ০৪ মে ২০২০, ০০:৪০

৫২ দিন নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার হওয়া সিনিয়র ফটো সাংবাদিক ও ‘দৈনিক পক্ষকালে’র সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলকে (৫১) অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় জামিন দিলেও ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার বেলা ৩টার দিকে সাংবাদিক কাজলকে পিছমোড়া করে হাতকড়া লাগিয়ে যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে আনা হয়। বিকাল চারটার পর শুনানি শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে ঢাকার শেরে বাংলানগর, কামরাঙ্গীরচর ও হাজারীবাগ থানায় আইসিটি অ্যাক্টে মামলা থাকায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ আটকাদেশ পেতে নতুন করে ৫৪ ধারায় গ্রেফতারের আবেদন জানায়।

পরে বিচারক এ মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কারাগারে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, ‘শুধু উনি (কাজল) নন, নতুন যারা কারাগারে আসছেন করোনার সময় তাদের প্রত্যেককে আলাদা রাখা হচ্ছে।’

কাজলের ছেলে মনোরম পলক জানান, একটি মামলায় তার (কাজলের) জামিন হয়েছে। তিনি বেঁচে আছেন- এ জন্য শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন এবং তার বাবার খোঁজখবর রাখার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন।

গত ১০ মার্চ ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন দৈনিক পক্ষকাল পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজল। ১১ মার্চ শফিকুলের স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসি নয়ন ঢাকার চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। প্রায় দুই মাস পর শনিবার গভীর রাতে বেনাপোলের রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ভারত থেকে ‘অবৈধভাবে প্রবেশের সময়’ তাকে আটক করে। এরপর রোববার সকালে বিজিবি তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করে।

এর আগে প্রায় দুই মাস ধরে ঢাকা থেকে ‘নিখোঁজ’ সিনিয়র ফটো সাংবাদিক ও ‘দৈনিক পক্ষকালে’র সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলকে (৫১) বেনাপোল সীমান্ত থেকে গত শনিবার গভীর রাতে আটক করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।

রোববার তার দুহাত পিছমোড়া করে হাতকড়া পরিয়ে যশোর আদালতে তোলা হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিক ও সচেতন মহলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বেলা তিনটার দিকে সাংবাদিক কাজলকে যশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতিতে তার দুহাত পেছন দিক থেকে হাতকড়া দিয়ে লক করা ছিল।

এ বিষয়ে যশোরের আইনজীবী মাহমুদ হাসান বুলু বলেন, সাংবাদিক কাজলের নিখোঁজের ঘটনায় দেশি-বিদেশি মিডিয়ার কল্যাণে দেশের বহু মানুষ তার সম্পর্কে জেনেছে। তিনি পালিয়ে যাওয়ার মতো মানুষও নন। তার সঙ্গে এমন আচরণ শোভনীয় নয়। অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, ইদানিং মামলার আসামিদের হাত পেছন দিক দিয়ে হাতকড়া পরানোর বিধান শুরু হয়েছে। এটি ভুল হয়নি।

গত শনিবার গভীর রাতে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুরের একটি মাঠের মধ্য থেকে তাকে আটক করা হয় বলে দাবি করে বিজিবি। কাজলের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলা করেছে তারা। এরপর গতকাল সকালে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে বেলা ১২টার দিকে তাকে যশোরের আদালতে পাঠায় পোর্ট থানার পুলিশ।

বেনাপোল রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার আশেক আলী ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিক কাজলকে রাতে টহল দলের বিজিবি সদস্যরা সাদিপুর সীমান্তের একটি মাঠ থেকে আটক করে। অবৈধভাবে ভারত থেকে আসার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে নিয়মমতো একটি মামলা দিয়ে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খানও কাজলকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সীমান্তে অবৈধভাবে ঘোরাঘুরির সময় বিজিবির হাতে আটক হন ঢাকা থেকে নিখোঁজ এই ফটোসাংবাদিক। পরে তার নামে মামলা দেয় বিজিবি।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, বেনাপোল থেকে পাঠানোর সময় তার পিছমোড়া দিয়ে হাতকড়া পরানো ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় হয়তো দেয়া হতে পারে। তবে এটি ভুল নয় দাবি করে তিনি বলেন, মাস ছয়েক হলো মামলার আসামিদের পিছমোড়া দিয়ে হাতকড়া পরানোর নিয়ম হয়েছে।

এদিকে বেলা তিনটায় আদালতে উপস্থিত বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন কাজল। সে সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘গুম হয়ে যাওয়া যে কত কষ্টের, কত দুর্বিষহ, কত বেদনার, তা কাউকে বলে বোঝানো যাবে না। এখন আলোর মুখ দেখছি, আমি দেশবাসীর দোয়া চাই।’ কাজলের ছেলে মনোরম পলকও এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরপর কাজলকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সেখানেই তিনি দুপুরের খাবার খান। বেলা চারটার পর বিচারক এজলাসে ওঠেন।

এদিকে কাজলের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি তার স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসি নয়নও নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ফোনে কাজলের সঙ্গে কথা হয়েছে। বেনাপোল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে নিতে বেনাপোলের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল গত ১০ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার ‘পক্ষকাল’-এর অফিস থেকে বের হন। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে নিখোঁজের ঠিক ৩০তম দিনে (৯ এপ্রিল) সাংবাদিক কাজলের ফোন নম্বরটি বেনাপোলেই চালু হয়েছিল।

তখন কাজল নিখোঁজের বিষয়টির তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই মুন্সী আবদুল লোকমান বলেছিলেন, ‘নিখোঁজ সাংবাদিক কাজলের ফোন নম্বরটি চালু হয়েছিল। লোকেশন দেখিয়েছে বেনাপোল। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে ও নম্বরটি চালু থাকার সময় কম হওয়ায় বেনাপোলে কোনো অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

 




Loading...
ads






Loading...