রোহিঙ্গা ইস্যুতে নির্দিষ্ট রোডম্যাপে কাজ করছে চীন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নির্দিষ্ট রোডম্যাপে কাজ করছে চীন
রোহিঙ্গা ইস্যুতে নির্দিষ্ট রোডম্যাপে কাজ করছে চীন - সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:০০

রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে চীন একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কৌশল সন্ধান’ শীর্ষক এক সেমিনারে রাষ্ট্রদূত একথা বলেন। ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট এ সেমিনারের আয়োজন করে। পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শরীফ শাহাব উদ্দিন সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে চীনের ভূমিকা নিরপেক্ষ।’

সেমিনারে তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফর করেছেন। তখন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার চীনের বন্ধু রাষ্ট্র। কিন্তু এ ইস্যুতে চীন পুরোপুরি নিরপেক্ষ। বিগত দুই বছর ধরে চীন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’

চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন সক্রিয় ও উদ্বিগ্ন। এ ইস্যুর সঙ্গে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সম্পৃক্ত। দু’টি দেশই সার্বভৌম, তাই চীন কাউকে চাপ প্রয়োগ করতে পারে না।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, রোহিঙ্গারা সম্মানের সঙ্গে স্বদেশে ফিরে যাক। গত দুই বছর ধরে এ কথা বললেও দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো একজন রোহিঙ্গাও স্বদেশে ফিরে যেতে পারেননি।’ এ সময় তিনি বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘জাতিসংঘের মহাসচিবের উচিত, দ্রুত মিয়ানামারে একটি অনুসন্ধানী দল পাঠানো। যারা সেখানকার রোহিঙ্গা নির্যাতনের সঠিক চিত্র তুলে ধরবেন। সেই সঙ্গে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারে একটি নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তুলতে হবে। যেন রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন ও পরবর্তী সময়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সেমিনারে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআর’র স্থানীয় প্রতিনিধি স্টিভেন করলিস বলেন, ‘আমি আমার দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন অবর্ণনীয় শরণার্থী শিবির দেখিনি, যা দেখেছি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে। বাধ্য হয়েই তারা সেখানে বসবাস করছে। আমি যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের শতকরা ৯৭ জনই স্বদেশে ফিরে যেতে চান। তবে এর জন্য তারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও চান। আর তাদের এ নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন।’

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads






Loading...