২২২ বছর পর হজ বাতিলের সম্ভাবনা, ইতিহাস কী বলে?

ইতালিতে করোনায় আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৩ এপ্রিল ২০২০, ১০:৫১,  আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২০, ১১:১৪

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপে ২২২ বছর পর আবারও হজ বাতিলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মহামারি ও যুদ্ধের কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ বার মুসলিমদের এই বার্ষিক জমায়েত বাতিল হয়েছে। সর্বশেষ হজের আনুষ্ঠানিকতা বাতিল হয়েছিল ১৭৯৮ সালে। খবর- ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের।

এ বছরের হজ বাতিল হতে পারে জানিয়ে গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হজ নিয়ে এখনই কাউকে চুক্তি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। জুলাই মাসের শেষের দিকে শুরু হওয়ার কথা এ বছরের হজের আনুষ্ঠানিকতা। তবে হজের নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এখনও বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিমদের হজে অংশগ্রহণের বিষয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পুরো দেশে ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। দেশটির পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনাতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কারফিউ জারি করা হয়েছে, যা হজযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু।

১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লু মহামারির সময়ও এই দুটি শহর বন্ধ করা হয়নি।

লন্ডনের কিংস কলেজের ওয়ার স্টাডিজের লেকচারার সিরাজ মাহের বলেন, ‘সৌদি কর্তৃপক্ষ মানুষকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করছে যে এবারের হজ বাতিল হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে অন্তত ৪০ বার হজ বাতিল করা হয়েছিল। তাই হজ যদি বাতিল করা হয়েই থাকে তাহলে তা একেবারেই কোনো অভূতপূর্ব ঘটনা নয়। তবে কেয়ামতের ইঙ্গিতের যে ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে সেখানে বলা হয়েছে হজ বাতিল হয়ে যাবে।

কেউ কেউ বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে হজ বাতিল হলে তা কেয়ামত নিকটে আসার ইঙ্গিত বহন করবে।

আবার কেউ কেউ বলছেন, তা যথাযথ নয়। কারণ কেয়ামতের ইঙ্গিত দিতে গিয়ে হজের ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে, মহামারির কারণে হজ বাতিল তো আলাদা ব্যাপার।

সিরাজ মাহেরের দাবি, ভবিষ্যদ্বাণী কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্মদ সালেহ বিন তাহের বান্তেন বলেন, সবার আগে সমস্ত মুসলিম ও নাগরিকের সুরক্ষা। তাই পরিষ্কার ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে হজের বিষয়ে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিশ্বের সমস্ত মুসলিমদের কাছে এখনই কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না করার জন্য অনুরোধ করছি।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads






Loading...