নারী জাতিকে সত্যিকারের মর্যাদা দিয়েছে ইসলাম

মানবকণ্ঠ
প্রতীকী ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৫ মার্চ ২০২০, ১৩:৫২

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : ইসলামই সর্বপ্রথম নারী জাতিকে মর্যাদা দিয়েছে। ইসলাম পূর্ব যুগে অন্য কোনো ধর্ম বা রাষ্ট্র নারী জাতিকে মর্যাদা দেয়নি। তখনকার সময়ে কন্যা সন্তানের জন্ম ছিল অভিশাপস্বরূপ। কোনো কোনো সম্প্র্রদায় কন্যা সন্তান জন্ম হলে তাদের জীবিত মাটি চাপা বা কবর দেয়ার মত ঘৃণ্য কাজও করা হতো। বর্তমানে এটাই আবার আধুনিক বিশ্বে নব্য জাহেলিয়াতের রূপে পরিণত হয়েছে। কন্যা শিশুর ভ্রণ হত্যা করা হচ্ছে। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শিক্ষা-আদর্শ ভুলে আমরা আজ এ ঘৃণ্যতম পন্থায় নিমজ্জিত। এ থেকে নারী জাতিকে কল্যাণময়ী ও পুণ্যময়ী রূপ দিয়ে গৌরবের উচ্চস্থানে রাখতে সত্যিকারের মর্যাদা দিয়েছে একমাত্র ইসলাম।

পবিত্র কোরানের ইরশাদ হচ্ছে, ‘সে লোক পুরুষ হোক বা নারী যদি কোনো সৎকাজ করে এবং ইমানদার হয় তবে তারা জান্নাতে যাবে এবং তাদের প্রাপ্য তিল পরিমাণও নষ্ট হবে না।’ (সূরা: নিসা-১২৪)

অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে, ‘পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার আছে, তেমনি নিয়ম অনুযায়ী স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর’। (সূরা: বাকারা-২২৮) পুত্র সন্তানকে কন্যা সন্তানের ওপর প্রাধান্য না দেয়া প্রসঙ্গে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোন ব্যক্তির ঘরে কন্যা সন্তান ভ‚মিষ্ঠ হওয়ার পর সে যেন তাকে জাহেলিয়াতের যুগের ন্যায় জীবিত কবর বা মাটি চাপা না দেয় এবং তাকে তুচ্ছ মনে না করে, আর পুত্র সন্তানকে যেন উক্ত কন্যা সন্তানের উপর প্রাধান্য না দেয়। তা হলে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত দান করবেন’। ( আবু দাউদ)
‘আল্লাহ ও রাসুল (দরুদ) এর পর আল্লাহ রাব্বুল আলমিন’ মাকে সর্বোচ্চ সম্মানিত করেছেন।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহর রাসুল (দরুদ) আমার সর্বোত্তম ব্যবহারের হকদার কে? রাসুল দরুদ বলেন, তোমার মা। ঐ ব্যক্তি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন অতপর কে? রাসুল দরুদ বললেন, তোমার মা। ওই ব্যক্তি আবার জিজ্ঞেস করলেন, অতপর কে? আবারো উত্তর, তোমার মা। ওই ব্যক্তি আবার জিজ্ঞেস করলেন, অতপর কে? এবার রাসুল দরুদ বললেন, তোমার বাবা। (মুসলিম শরীফ ৭ ম খণ্ড) স্ত্রী হিসেবে রাসুল (দরুদ) নারীদের করেছেন সম্মানিত। অপর বর্ণনায় রাসুল (দরুদ) স্বামীর ওপর স্ত্রীর কি কি অধিকার রয়েছে, এ বিষয়ে বলেন, যখন তুমি খাবে তখন তাকেও খাওয়াবে। তুমি যে মানের কাপড় পরবে, তাকেও সে মানের কাপড় পরাবে। তার মুখে আঘাত করবে না, অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করবে না। গৃহ ব্যতীত অন্য কোথাও তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করবে না। ( আবু দাউদ)

দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারী জাতির অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, আইনগত ও ধর্মীয় সব বিষয়ে নারীর অধিকার নিশ্চিত করেছেন।

১. নারীকে পিতার সম্পত্তিতে, স্বামী, সন্তান ও মায়ের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার ধার্য করা।

২. বিয়ের সময় নারীকে মোহরানা প্রদান, যা নারীর অধিকার। যা প্রাপ্ত নারী থেকে, জোর করে তার অধিকার স্বামী, পিতা বা ভাই কাউকে দেয়নি বা দেয়া হয়নি।

৩. নারীকে স্বামী নির্বাচনের পূর্ণ অধিকার দেয়া হয়েছে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে কোথাও বিয়ে দেয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অত্যাচারী স্বামী থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের পূর্ণ অধিকার নারীকে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা নারীকে দ্বিতীয় বিবাহের অধিকার দেয়া হয়েছে।

৪. দেওয়ানী ও ফৌজদারি আইনে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য রাখা হয়নি।

৫. জ্ঞানার্জনের ব্যাপারে নারীকে পুরুষের মতোই সমান অধিকার দেয়া হয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলিম (নর-নারীর) ওপর ফরজ।

৬. নারী জাতিকে অত্যাচার, অপমান, অশালীনতা ও অবমাননা থেকে রক্ষার জন্য প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নারীরা যখন ঘর থেকে বের হবে, তখন তারা যেন পোশাক পরিধানে শালীনতা বজায় রেখে বা একটা অনুসরণীয় পোশাক পরে বের হয়।

আমার কথা, যুগ-জমানার আলোকে আমরা যদি লক্ষ্য করি, তাহলে অপকটে মানতে বাধ্য; আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বে দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য যে আদেশ বা নির্দেশ দিয়েছিলেন তা আজ সময়ের প্রয়োজনে আমাদের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনুসরণীয় ও পালনীয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুন্দর, শালীন ও আলোকিত জীবনধারণ করতে ইসলামের অনুসরণ ও অনুকরণ করা সবার দায়িত্ব।

লেখক-গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : গবেষক ও সাংবাদিক, কুমিল্লা।




Loading...
ads






Loading...