পোশাকে বরের ব্যক্তিত্ব

রেহনুমা তারান্নুম

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৩:২৮

কিছু সিদ্ধান্ত আছে ! ভুল হলেই বিপদ। তার মধ্যে বিয়ে সামনের সারিতেই পড়ে। বিয়ের সিদ্ধান্ত দুই পরিবারের মেলবন্ধন। তাই স্মৃতিবিজড়িত করে রাখতে সব জল্পনা-কল্পনা। সাজ-পোশাকের ভাবনাতেই যায় কয়েক মাস। বরের পোশাকের গুরুত্ব কিন্তু কম নয়। তবে ট্রেন্ড বুঝে পোশাক পরিকল্পনা করতে একটু ঝক্কিই বটে! 

কনে যেমন গায়ে হলুদ নিয়ে খুব পরিকল্পনা করে বরও কি তাই? আর গায়ে হলুদের পোশাক ট্রেন্ড ঠিক কেমন চলছে এই প্রশ্নে সৌমিক দাস বলেন, ‘আসলে এখনকার ট্রেন্ড যেন কেমন এলোমেলো ঘরানার। বাঙালির কালচারের মধ্যে একটু বিদেশি ধাঁচ চলে এসেছে। তবুও আমরা গায়ে হলুদে বরের পোশাকের ধাঁচটি বাঙালি বেশেই করে থাকি। সুতির কালারফুল পাঞ্জাবির সঙ্গে চুড়িদার পাজামা গলায় একটা ছোট্ট দোপাট্টাও থাকতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, বর-কনের গায়ে হলুদ একই মঞ্চে হয় সেক্ষেত্রে কালার ম্যাচিং করে দুজনে পোশাক পরতে পারে। গায়ে হলুদে খুব গর্জিয়াস পোশাক আসলে ভালো লাগে না।’

অনুষ্ঠানটা ইনডোর না আউটডোর হবে তার উপর নির্ভর করে পোশাকের রং। সবাই এক রকম নয়। কেউ লম্বা, কেউ শর্ট, কেউ ফর্সা কেউ বা শ্যামলা। তাই শরীরের গড়ন ও স্কিন টোনের উপর বেস করে পোশাক নির্বাচন করা উচিত।

যেহেতু গায়ে হলুদের মঞ্চ অনেক কালারফুল হয়, তাই তার সঙ্গে কিংবা কন্ট্রাস্ট করে বরের পোশাকের রং নির্বাচন করা যেতে পারে। পাঞ্জাবির সঙ্গে কোটিও পরা যেতে পারে। হালকা শীত পড়লে শাল, দোপাট্টা দিয়ে নাগরা পরলে ভালো লাগবে। বিয়েতে কেমন পোশাক পরলে ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন লাগবে? ‘বরের পোশাক হিসেবে এখনো শেরওয়ানিই জনপ্রিয়। ফ্যাশনের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর কাটছাঁটে কিছুটা পরিবর্তন চলে এসেছে। বরের আউটফিটে এবারের ট্রেন্ড স্লিম ফিটেড শেরওয়ানি, যাকে বলে একেবারে মাসল ফিট। কলিদার এই শেরওয়ানিতে মানানসই চুড়িদার পাজামা। তবে বাজারে গতানুগতিক পাগড়ির উপস্থিতি থাকলেও হাতে বাঁধা পাগড়ি এখনো অন্যরকম। বিশেষ করে টিস্যু বা মসলিন দিয়ে বাঁধা পাগড়ি আর সেই সঙ্গে নানা ঢঙের অ্যাকসেসরিজের ব্যবহার লুকে ভিন্নতা আনে।’

শুধু মেয়ের নয়, বিয়ের দিনটি একটি ছেলের জীবনেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে আজকাল বিয়েতে বা জয়েন্ট রিসেপশনে স্যুট, টাক্সিডো, প্রিন্সকোট পরে থাকেন কিন্তু বিয়েতে শেরওয়ানির আবেদন অনেক বেশি। নিজেকে এদিন অন্য সবার থেকে আলাদা করে উপস্থাপনের বিষয়টি শেরওয়ানির মাধ্যমেই যেন ফুটে ওঠে। এ ছাড়া পাঞ্জাবির সঙ্গে কন্ট্রাস্ট কালারের কোটিও তরুণরা গ্রহণ করছে। আচকান কাট নিয়ে আজকাল এক্সপেরিমেন্ট চলছে। কনের সঙ্গে ম্যাচিং অথবা কন্ট্রাস্ট কালারের শেরওয়ানি অনেকেরই পছন্দ। এসব শেরওয়ানির বাটনে আছে ভিন্নতা। সেই সঙ্গে বরের অ্যাকসেসরিজের ব্যবহারেও অনেক নতুনত্ব দেখা যায়।

অনেকেই আবার বাদশাহী কায়দায় সাজসজ্জাও বেছে নিচ্ছেন। পাগড়ির লুকে আগে তেমন বৈচিত্র্য ছিল না। কিন্তু এখন সেখানে চলে এসেছে ভিন্নতা। দেশি কাপড়, যেমন জামদানি, কাতান, অর্গানজা, টাঙ্গাইল শাড়ি, হাফসিল্ক অথবা টিস্যু ব্যবহার করে পাগড়িতে আনা যায় চমৎকার লুক। কখনো তার রং শেরওয়ানির সঙ্গে মিলিয়ে হতে পারে, আবার কখনো বা পুরো আলাদা বললেন সৌমিক দাস। অনুষ্ঠানটি যদি রাতে হয় তাহলে একটু ডার্ক ও গ্লোসি শেরওয়ানি পরা যেতে পারে। এখানে শেরওয়ানির জন্য ভারী কাপড় বলতে বেনারসি বা রাজশাহী যে ফেব্রিক্স পাওয়া যায় তা পারফেক্ট না। একটু হালকা।

তাই অনেকে ইন্ডিয়ান ফেব্রিক্স যেমন কাতান, হ্যান্ডলুম, ব্রোকেট, আর্ট সিল্ক বেজ কাপড় পছন্দ করেন। ছবি: রঙ বাংলাদেশ বৌভাতে বর যদি ফরমাল গেটআপ যেমন স্যুট বা টেক্সেডো পরে তাহলে তা যেন খুব বেশি গ্লোসি বা চকচকে না হয়। সেক্ষেত্রে স্যুটের রং হওয়া উচত চারকোল গ্রে, ব্ল্যাক, ব্লু কিংবা শুধু গ্রে রঙের। এছাড়া ইন্টারনাল চেক হতে পারে হালকা। কোট বা জ্যাকেট সাধারণত টু বাটনের ভালো লাগে। স্যুট হতে হবে শার্প অ্যান্ড অয়েল ফিটেড। বরের জন্য কাস্টম মেড বা টেইলর মেড স্যুট পরা যেতে পারে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...