চলছে বিয়ের মৌসুম

সুরাইয়া নাজনীন

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৩:০৮,  আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৩:১৯

বিয়ে মানেই নতুন পরিবার গঠন। এর মধ্য দিয়ে তৈরি হয় দুটি পরিবারের মেলবন্ধন। একটা মেয়ের হাজারো স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, কল্পনা, বাসনা এবং দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতির পরিণতিতে রূপ নেয় বিয়ে। অনেক ঝক্কি-ঝামেলা সামলিয়ে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে একটি মেয়ে বিয়ের আসরে বসে।

এখন চলছে বিয়ের মৌসুম। পথে-ঘাটে যেন সানাইয়ের সুর। আরো বাজছে বিয়ের নানা রকম বাজনা। তবে বিয়ের কনের মনে এখন ভিড় জমাচ্ছে নানারকম আশঙ্কা এবং অব্যক্ত প্রশ্ন। কারণ নতুন জীবনে প্রবেশ নিয়ে মেয়েদের মনে আসে দুশ্চিন্তা এবং ভয়ের আনাগোনা। এই বিষয়গুলো কাটিয়ে উঠতে কনেকে আগে থেকে মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। বিয়ের পুরো আয়োজনে নিজেকে রাখতে হবে চনমনে সেই সঙ্গে সাজে আনতে হবে মোহনীয়তা। এ ব্যাপারে রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান বলেন, ‘বিয়ের কিছুদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

অনুষ্ঠানের আগে ১৫ দিনের ব্যবধানে দুটি ফেসিয়াল করিয়ে নেয়া ভালো। ব্রাইডাল ফেসিয়ালে কনের ত্বকে একটা গ্লো তৈরি করবে। ফেয়ার পলিশ, ওয়্যাক্সিং, থ্রেডিং, মেনিকিওর, পেডিকিওর করতে হবে অনুষ্ঠানের এক দিন আগে। হলুদের পরই যেহেতু বিয়ে তাই এরপর একটা ক্লিনিং ফেসিয়াল করিয়ে নেয়া যেতে পারে। একদিন সময় থাকলে করতে পারেন অ্যারোমা ম্যাসাজ। বিয়ে বা বৌভাতের ক্ষেত্রে ফিউশন সাজ চলতে পারে। তবে গায়েহলুদে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাজটাই মানানসই।’

বিয়েতে কনের সাজটা যেমন মুখ্য তার পাশাপাশি রয়েছে আরো কিছু আনুষঙ্গিক কাজ। সেই আয়োজনগুলোর অনুপস্থিতি যেন একটা বিয়ের অনুষ্ঠানকে অসম্পূর্ণ করে তোলে। তাই সেই আয়োজনগুলো নিপুণ হাতে করতে হবে। যেন একটু ভুলের জন্য পুরো আনন্দ ফিকে না হয়ে যায়। রঙের খেলায় মাতোয়ারা থাকে বিয়েবাড়ি। বিয়েবাড়ি মানেই তো আলপনা। বাড়ির দেয়াল থেকে শুরু করে ঘরের মেঝে, সিঁড়িতেও রংবেরঙের আলপনা আঁকা হয়। আলপনা আঁকানোর জন্য চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সাহায্য নেয়া যেতে পারে। বিয়ের দুই দিন আগে জানালে তারা রং আর তুলির আঁচড়ে সুন্দর করে আলপনা এঁকে দেবে আপনার বিয়েবাড়িতে।

বিয়েতে সুরের ছন্দখেলা থাকবে না এমন কথা তো চিন্তা করা যায় না। একটা সময় ছিল বিয়ে মানেই সানাইয়ের সুর। তবে গ্রামেগঞ্জে বিয়েতে এখনো সানাইয়ের কদর রয়েছে। যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শহরে এখন সানাই সংস্কৃতি পরিবর্তন হয়ে এসেছে ডিস্ক জকি (ডিজে), ব্যান্ড পার্টি ইত্যাদি। এখন ব্যান্ডের বাদ্যবাজনা ছাড়া বিয়ের কথা কল্পনাই করা যায় না। বিয়ে বা হলুদের অনুষ্ঠানে ডিজে আনতে হলে অন্তত ১০ দিন আগে থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

কনের স্নিগ্ধতায় কাঁচা ফুলের বিকল্প নেই। কাঁচা ফুলের ঘ্রাণে হলুদের অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে আরো সুবাসিত। হলুদে কাঁচা ফুলের সন্ধান পেতে হলে যেতে হবে শাহবাগের ফুলের দোকানগুলোতে। সেখানে ফুলের গয়নার ক্যাটালগ থাকে। গয়নার ডিজাইন অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। নিজেদের পছন্দমতো ডিজাইনেও এই গয়না বানিয়ে নেয়া যায়। বিয়ের অন্যতম কাজের মধ্যে পড়ে ঘর সাজানো যেটা ছোট-বড় সব বিয়েতেই করা হয়। বাসর ঘরে একে এক ভিড় জমাই অসংখ্য ফুলের মধ্যে আছে গাঁদা ফুল, গোলাপ, টিউলিপ, রজনীগন্ধা ও বেলিসহ বাহারি ফুল। একটা বাসরঘর সাজাতে খরচ পড়বে চার হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বাসরঘর সাজানোর দামও নির্ভর করে ডিজাইন আর দেশি-বিদেশি ফুলের ওপর। শাহবাগ, কাঁটাবনের ফুলের দোকান ছাড়াও ধানমণ্ডি এবং গুলশানে বেশ কিছু ভালো প্রতিষ্ঠান আছে, যারা বাসরঘর সাজিয়ে দেয়। তবে আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখতে হয়। বিয়েতে গাড়ির সাজে ফুটে ওঠে আভিজাত্য। নিজের রুচি পরিচয় পাওয়া যায় সাজের মাঝে। শাহবাগ, কাঁটাবন মোড়ের ফুলের দোকানগুলো ছাড়াও যে কোনো ফুলের দোকানেই বিয়ের গাড়ি সাজানো হয়।

বর এবং কনে উভয়ের বাসার কাছাকাছি কমিউনিটি সেন্টার নির্বাচন করতে হবে। এতে যাতায়াতের অনেক সুবিধা হবে। কমিউনিটি সেন্টারগুলোর সঙ্গে আগে থেকে জানা-শোনা থাকলে কিছুটা সুবিধা পাওয়া যায়। কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে ডেকোরেশন, আলোকসজ্জা, বাবুর্চিসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সাধ্য ও চাহিদা অনুযায়ী তাদের সঙ্গে আলাপ করে নিতে হবে। এখানে দুই সময় ভাড়া দেয়া হয় দিনে ও রাতে।

বিয়ের অন্তত এক মাসে আগে বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করাই ভালো। বিয়ের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে বর-কনের মঞ্চ। যেখানে তারা দু’জনেই একসঙ্গে বসে থাকে। মঞ্চে কিছুটা বৈচিত্র্য আনতে কাঁচা ফুলের সঙ্গে কৃত্রিম ফুলও ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

কনেসাজ

বিয়ের শেষ দিকের অনুষ্ঠান হলো বৌভাত। বরের বিয়ে আয়োজনের একটি বড় অনুষ্ঠান বৌভাত। এ সময় কনের সাজ হওয়া উচিত চোখ ধাঁধানো। কারণ বরের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব কিংবা খুব কাছের মানুষরা নতুন বৌ দেখতে আসেন।

তবে খেয়াল রাখতে হবে কনের নিজস্ব সৌন্দর্য যেন অতিরিক্ত সাজের কারণে হারিয়ে না যায়। স্বাভাবিক লুক বজায় রেখে একটা হালকা মিষ্টি ধাঁচের সাজ হলে মন্দ হবে না। এ প্রসঙ্গে রাহিমা সুলতানা বলেন, একালের মেয়েরা অতিরিক্ত মেকআপটা এমনিই পছন্দ করে না, তাই এখন এমন সাজ বেশ গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
পার্লারে হলুদ, বিয়ে, বৌভাত আর পানচিনি প্রতিটির ব্রাইডাল মেকআপ পৃথকভাবে বা প্যাকেজ হিসেবে করা যায়। প্রথমে পানচিনি (বাগদান), তারপর গায়ে হলুদ, আক্দ, তারপর বিয়ে-বৌভাতের পুরনো ধরন কিছুটা বদলেছে। এখন অনেক সময় বিয়ে-বৌভাত আলাদা না হয়ে দুইপক্ষ থেকে একটাই বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হচ্ছে। এর সঙ্গে পানচিনি ও আকদের অনুষ্ঠান একটু ঘটা করেই হোক কিংবা ঘরোয়া ধাঁচের, মেয়েরা সবটাতেই পার্লারে সাজাটাই পছন্দ করছে। সে ক্ষেত্রে হলুদ, আকদ বা বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় পার্লারে তিনটি অনুষ্ঠানের জন্য যে মেকআপ প্যাকেজ আছে, তা নেয়া যেতে পারে। তার সঙ্গে পার্লারে বিশেষভাবে পানচিনির যে কনেসাজ (এনগেজমেন্ট মেকআপ) আছে তা করতে পারেন। তবে ঘরোয়া পানচিনি, এমনকি আকদ এই ব্রাইডাল সাজটি না চাইলে অনেকেই শুধু পার্টি মেকআপ করছেন। সে ক্ষেত্রে পার্লারে বলতে হবে যে পার্টিসাজ চান। ব্রাইডালের চেয়ে পার্টি মেকআপের খরচটা হবে কম।
পছন্দ অনুযায়ী প্রতিটি অনুষ্ঠান আলাদা পার্লারে সাজতেই পারেন। তবে একই পার্লারে সাজলে প্যাকেজে সাশ্রয় তো বটেই, তার সঙ্গে কনের চেহারার বৈশিষ্ট্যের বেশ বোঝাপড়া হয়ে যায়। কনের মুখমণ্ডলের গঠন-গড়ন বুঝে-শুনে একেক অনুষ্ঠানে তাকে একেক রকম মানানসই সাজ ও চুলের স্টাইল দেয়া যায়। এমনকি বিয়ে-পূর্ব পরামর্শকালে তাকে গায়ে হলুদে কেমন ফুলের গয়নায় ভালো লাগবে, সে পরামর্শও দেয়া সম্ভব।
বিয়ে বা বৌভাতের শাড়ি নিয়ে আলাদাভাবে বলার কোনো অবকাশ নেই। দুই অনুষ্ঠানে শাড়ির কাজ একই রকম হবে। তবে মাথায় রাখতে হবে এ ক্ষেত্রে রঙের বিষয়টিকে। বিয়ের শাড়ি লাল, জাম রং বা রানী রং হতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে বৌভাতে লাল রংটা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো বরং সাদা, সাদা-গোলাপি, হালকা বেগুনি ধরনের রংগুলোতে কনেকে অনেক বেশি স্নিগ্ধ দেখাবে বৌভাতের দিন।

 

বরের সাজ

বৌভাতের দিন ছেলের সাজে থাকবে অবশ্যই স্যুট। স্যুটের রং হতে পারে মেয়ের শাড়ির রঙের সঙ্গে মানানসই অথবা টাই পরতে পারে কনের শাড়ির রঙের সঙ্গে মিল রেখে। তবে ছেলের পুরো পোশাক হতে হবে গর্জিয়াস। যেন কনের সাজের পাশে ছেলের সাজকে হালকা না লাগে।

 

কোথায় পাবেন কেমন শাড়ি

বাংলাদেশের নিজস্ব কাপড় ও নিজস্ব বুনন বা নকশায় এখন অভিজাত বিয়ের শাড়ি তৈরি করছেন অনেকেই। এবার বিয়ের সংগ্রহে মসলিন, জামদানি, নেট বা জর্জেটের শাড়িতে বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছে ড্রেসিডেল। গুলশান এভিনিউয়ে ড্রেসিডেলের শোরুমে এসব শাড়ি পাওয়া যাবে।

এখানে শাড়ির দাম ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। তবে যে কোনো শাড়ি চাইলে বাজেট অনুযায়ী, এক মাস সময় হাতে রেখে তৈরি করিয়ে নিতে পারেন ড্রেসিডেল থেকে। এমনকি আনুষঙ্গিক ওড়না, ব্যাগ, বরের পাগড়ি, পাঞ্জাবি এমনকি নাগড়াও তৈরি হয়ে যাবে চাহিদামাফিক। টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরে বিয়ের শাড়ি তৈরির ফরমায়েশ দিতে হবে অন্তত তিন মাস সময় হাতে রেখে। কারণ এখানে কাতান, বেনারসি আর জামদানি অভিজাত নকশায় সময় নিয়ে তৈরি করা হয়। সে ক্ষেত্রে জামদানিতে ন্যূনতম ২০ হাজার এবং কাতানে আট হাজার টাকা বাজেট করতে হবে। মিরপুরের বেনারসি কুঠি বিখ্যাত এখানকার কাতান বেনারসির জন্য। অন্তত ১০ হাজার টাকা বাজেট করে কাতান শাড়ি কিনতে পারবেন এখান থেকে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...