শীতের সজীবতায় মন

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৫২,  আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৫

সকালের আকাশে ধোঁয়া ধোঁয়া কুয়াশা। হিমশীতল অনুভূতি। এই বুঝি শীত এলো। শীতের পরশ গায়ে লাগলে আমাদের নাজুক ত্বক যেন অসহায় হয়ে পড়ে। তাই শীতের প্রস্তুতি নিতে হয় আগে থেকে। শীতের আবহাওয়ায় আর্দ্রতা কম থাকে বলে ত্বকের আর্দ্রতাও কমে যায়। তাই শীতকালীন ত্বকের প্রতি নিতে হয় আলাদা যত্ন। লিখেছেন- সুরাইয়া নাজনীন

শীতের ত্বককে সুস্থ, সবল রাখার প্রধান উপায় হলো-ত্বককে পরিষ্কার রাখা। অনেকে হয়তো আলসেমিবোধ করেন কিন্তু সব জিনিস যদি হাতের নাগালে থাকে তাহলে অনেকাংশে সহজ হয়ে যায়। ত্বক পরিষ্কারের কিছু ঘরোয়া উপায় আছে। ঘরোয়া উপায়ে ক্লিনজিং করতে বেসন-দই খুব ভালো কাজ করে। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।

শীতকালের মরা চামড়া তুলতে সপ্তাহে অন্তত একদিন স্ক্রাবিং করা জরুরি। চালের গুঁড়া, দই, কমলা লেবুর খোসার গুঁড়া, মধু দুই থেকে তিন ফোঁটা এবং অলিভ ওয়েল মিশিয়ে সারা শরীর ও মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে হালকা ঘষে তুলে ফেলুন। ব্রণ ও র‌্যাশের সমস্যায় বাঁধাকপির সঙ্গে কাঁচা দুধ মিশিয়ে ত্বক পরিষ্কার করুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এটা বেশ কার্যকরী।

রোদে পোড়া ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে পেতে পেঁপের সঙ্গে টকদই মিশিয়ে লাগান। ক্লান্ত ত্বকের জন্য ডাবের পানি, গোলাপ জল ও পাতি লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ত্বকে অনেক সময় কালচে ছোপ পড়ে এটা দূর করতে গাঁদা ফুলের পাপড়ি বাটা, চন্দন গুঁড়া, মধু ও মিল্ক পাউডার মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ত্বক মসৃণ করতে গোলাপের পাপড়ি, কিশমিশ ও খেজুর দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট করে মুখে লাগান। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য পদ্ম ফুলের পাপড়ি বেটে চালের গুঁড়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করুন।

হাত-পা ফাটার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পাকা পেঁপে, ভাতের মাড়, আটার ভুসি একসঙ্গে পেস্ট করে লাগান। ৩০ মিনিট পর পামিস স্টোন দিয়ে হাত-পা ঘষে নিন। শীতে ছেলেমেয়ে সবার চুল কেমন যেন নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। নিষ্প্রাণ চুলগুলো সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয় অনেকখানি। তাই নারী-পুরুষ সবার জন্য চুলের যত্ন সমান প্রয়োজন। চুল পড়া বন্ধ করতে পেঁয়াজের রস লাগান। এতে চুল যেমন বৃদ্ধি ঘটে তেমনি খুসকিও দূর হয়। চুলের রুক্ষতা দূর করতে মুলতানি মাটি ভিজিয়ে রাখুন। এতে দু’চামচ গরম নারিকেল তেল মিশিয়ে পুরো লাগিয়ে ৪০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

অতিরিক্ত খুসকির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নারিকেল তেলের সঙ্গে অলিভ অয়েল লাগান পরের দিন সকালে একটি পাতি লেবুর রসের সঙ্গে লবণ মিশিয়ে মাথায় লাগান। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এছাড়া নারিকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর গরম করে মাথায় লাগাতে পারেন। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে।

এ সময় ত্বকের আর্দ্রতার দিকে বিশেষ নজর রাখতে হয়। মেকআপের প্রোডাক্টগুলো এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে যেন ত্বকে কোনো রকম রুক্ষতা না আসে। মুখ ধোয়ার পর শুষ্ক হওয়ার আগেই ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিম ব্যবহার করুন। লিক্যুইড ফাউন্ডেশনের পর হালকাভাবে কম্প্যাক্ট বা ফেস পাউডার লাগান। কারণ এটা বেশি ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক হতে পারে। এ সময় ঠোঁটে লাগানো ভালো। এতে ঠোঁট ভালো থাকে।

যাদের ঠোঁটের রঙ গাঢ়, তারা লিপস্টিকের ওপর লিপগ্লস না লাগিয়ে টিন্টেড লিপগ্লস লাগাতে পারেন এতে ন্যাচারাল লুক পাওয়া যায়। এ সময় কাজল বা আইলাইনার গাঢ় করে লাগাতে পারেন তাহলে দেখতে ভালো লাগবে। এ সময় স্মোকি আইজ বেশি ভালো লাগে। সঠিকভাবে মেকআপ করা যেমন জরুরি তেমনি জরুরি নিয়ম করে মেকআপ তোলা। প্রথমে চোখের মেকআপ তুলবেন। এর আগে চুল পেছনে ভালোভাবে বেঁধে নিন এরপর সারা মুখে ক্লিনজার মেখে তুলার প্যাড দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তুলুন। যদি স্যুট করে তাহলে অলিভ অয়েল দিয়েও মেকআপ তুলতে পারেন। এরপর হালকা গরম পানিতে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখ মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগান।

শীতের সময় খাওয়া-দাওয়ার দিকের বিশেষ নজর দিতে হবে। এ সময় বেশি পানি পিপাসা পায় না কিন্তু এ ঋতুতে বেশি পানি পান করতে হবে। ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার যেমন: পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি বেশি করে খাওয়া প্রয়োজন। খাবারের তালিকায় প্রতিদিন পাকা ফল রাখতে হবে। শীতকালে অনেকে গোসলের অনিয়ম করে থাকেন। অনিয়মে রোগব্যাধি বেড়ে যায়। এ সময় সল্টবাথ বা লবণ পানিতে গোসল খুব উপকারী। শীতের শরীরে ম্যাজমেজে ভাব তৈরি অনুভূত হয় তাই ব্যায়াম করলে খুব ভালো ফল পাবেন। প্রতিদিন সকালে উঠে জগিং করুন। প্রতিদিন কিছুটা সময় কায়িক শ্রমের কাজ করার চেষ্টা করুন এতে শরীর ও মন সজীব ও প্রাণবন্ত থাকবে।

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads





Loading...