মায়াবী পাখি সুইচোরা

মানবকণ্ঠ
মায়াবী পাখি সুইচোরা - ছবি: হাসিব খান

poisha bazar

  • হাসিব খান
  • ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:০৯

প্রকৃতির দিকে চোখ মেলে তাকালেই মাঝে মাঝে দেখা যায়, দু-চারটি পাখি উড়ে উড়ে পোকা ধরে খাচ্ছে। উড়ে এভাবে পতঙ্গ ধরা পাখিদের বেশিভাই সুইচোরার দল। তাদের এ বিরামহীন শিকার দক্ষতা আর নৈপুন্যে গাঁথা।

বসে থাকার স্থান থেকে হঠাৎ ডানা মেলে দিয়েছে আকাশের পানে, বিশ্বস্ত লম্বা ঠোঁটে উড়ন্ত পতঙ্গ ধরে আবার পরক্ষণেই যথাস্থানে ফিরে আসা। তাদের এই শিকারপ্রক্রিয়া জন্মসূত্রে অর্জিত।

আমাদের দেশের আবাসিক পাখি ‘সবুজ সুইচোরা’। অপরূপ সুন্দর দেহ। সবুজ রঙে জুড়িয়ে যায় চোখ। এর ইংরেজি নাম Green Bee-eater এবং বৈজ্ঞানিক নাম Merops orientalis।এরা Meropidae গোত্রের ছোট, হালকা-পাতলা দেহবিশিষ্ট এক দল পাখি। এদের ঠোঁট সরু, ছুঁচালো; নিচের দিকে বাঁকানো। লেজ আনুপাতিকভাবে লম্বা এবং কতক প্রজাতিতে কেন্দ্রীয় সরু পালক দীর্ঘাকার। পাখি। তবে এই পাখিটির আরো একটি বাংলা নাম হলো ‘বাঁশপতি’। মৌমাছি, বোলতা, পিঁপড়া ইত্যাদি হুলবিশিষ্ট পতঙ্গ শিকার করে খেতে এরা অভ্যস্ত।

এজন্য শিকারকে নির্বিষ করার চমৎকার এক কৌশলও তারা অর্জন করেছে। ধৃত পোকাকে ঠোঁট দিয়ে শক্তভাবে ধরে এরা বারবার গাছের ডালে আঘাত করে এবং পরে মৃতপ্রায় শিকারকে ঘষে বিষ ও হুল মুক্ত করে। এরা প্রায় সব সময়েই উড়ন্ত অবস্থায় শিকার ধরে। সাধারণত এককভাবে অথবা দু’তিনটি দল বেঁধে নদীর কিনারায়, পাড়ে অথবা মাটির ঢিবিতে বাসা বাঁধে। কখনও কখনও কলোনির মতো অনেক পাখি একই জায়গায় বাসা তৈরি করে। স্ত্রী-পুরুষ উভয়েই ডিমে তা দেয় এবং বাচ্চাকে খাওয়ায়। ডিম ফোটার ২৪ থেকে ৩০ দিন পর বাচ্চা বাসা ত্যাগ করে। পূর্ব গোলার্ধে সুইচোরাদের প্রজাতি সংখ্যা ২৭। বাংলাদেশে এদের ৪টি প্রজাতি আছে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...