আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন, ভালো থাকুন

জুঁই শিকদার

জুঁই শিকদার
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:১৭,  আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৩১

মানুষের সাধারণ মনোবৃত্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে আবেগ। আবেগের যথাযথ বহিঃপ্রকাশ মানবীয় আচরণকে বিশেষভাবে ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু আবেগ যদি হয় মাত্রাতিরিক্ত এবং অনিয়ন্ত্রিত তবে তা অবশ্যই ক্ষতির কারণ। আর এ ধরণের আবেগপ্রবণ ব্যক্তিরা জীবনে অনেক বেশিমাত্রায় কষ্টের মুখোমুখি হন।

অতিমাত্রায় আবেগপ্রবণতা যে কেবলমাত্র নিজের জন্যই ক্ষতিকর তা নয়। পরিবার এবং পারিপার্শ্বিকতার উপরও এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। আবেগের বশবর্তী হয়ে অনেকে এমন কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, যার খারাপ ফল ব্যক্তির নিজেরসহ গোটা পরিবারকে ভোগ করতে হয়। তাই অতি আবেগকে প্রশ্রয় দেওয়া এবং তার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো কোনভাবেই উচিত নয়। 

মাত্রাতিরিক্ত আবেগের আরেকটি মারাত্মক কুফল হচ্ছে ভয়াবহ বিষণ্ণতা রোগে আক্রান্ত হওয়া। এর ফলে অনেক মানুষই ধীরে ধীরে নিজের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করে ফেলেন এবং একপর্যায়ে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকে পড়ে্ন।

নিজেকে ভালো রাখতে হলে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ রাখাটা জরুরি। তাই জেনে নিন আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু উপায়।

নিজেকে বিশ্বাস করুন
সবার আগে নিজের প্রতি বিশ্বাস অর্জন করুন। নিজের ইচ্ছাকে মূল্যায়ন করুন। নিজের ব্যক্তিত্বকে সম্মান করুন। এতে আপনি নিজের প্রতি আস্থা ফিরে পাবেন এবং যুক্তিবাদী হয়ে উঠবেন। যার ফলে যুক্তিহীন আবেগ আপনার বুদ্ধিবৃত্তিকে আচ্ছন্ন করতে পারবে না।

নিজেকে বোঝার চেষ্টা করুন
নিজের আবেগের কারণটা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা আপনি তখনই নির্ণয় করতে পারবেন, যখন আপনি নিজেকে সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারবেন। তাই সবার আগে নিজেকে চেনার এবং বোঝার চেষ্টা করুন। তারপর নিজের আবেগপ্রবণতার কারণটি খুঁজে বের করে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করুন।

মনের জোর বাড়ান
আবেগপ্রবণ ব্যক্তিরা সাধারণত মানসিকভাবে অন্যের প্রতি খুব বেশি নির্ভরশীল হন। যা প্রায়ই তাদের বড় ধরনের মনোকষ্টের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই নিজের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করুন। বাস্তবসম্মত চিন্তা করুন এবং যুক্তির দ্বারা নিজের মনকে পরিচালনা করার চেষ্টা করুন। এর ফলে আপনার মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি পাবে এবং অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতা কমে আসবে।

নিজেকে সময় দিন
মনের ক্ষত সারাতে সবচেয়ে কার্যকরী ওষুধ হচ্ছে সময়। তাই সময়কে যেতে দিন। মনে আঘাত পেলে তখুনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন না। এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি থাকে। সময়ের ক্ষেপন আপনার উচ্ছ্বসিত আবেগকে প্রশমিত করে যুক্তি এবং বাস্তবতাকে উপলব্ধি করায়। তাই নিজেকে যথেষ্ট সময় দিন। এতে আপনি সহজে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

নির্দ্বিধায় না বলুন
আবেগপ্রবণতার একটি বড় সমস্যা হচ্ছে 'না' বলতে না পারা। যার ফলে আবেগী মানুষ অপছন্দের বিষয়গুলোর সাথে বারবার আপোস করতে গিয়ে নিজেকে নানারকম ঝামেলায় জড়িয়ে ফেলেন। আর অন্যরা তাদের আবেগকে ব্যবহার করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করে। তাই নির্দ্বিধায় 'না' বলতে পারাকে রপ্ত করে ফেলুন।

ক্ষতিকর মানুষদের সঙ্গ ত্যাগ করুন
আবেগপ্রবণ মানুষ যাদের প্রতি দুর্বলতা পোষণ করেন তাদের কাউকেই ছাড়তে পারেন না। বারবার তারা যত বড় অন্যায়ই করুক আর যতবড় ক্ষতির কারণই হোক না কেন একটা পর্যায়ে তাদের ক্ষমা করে দেন। ভুলেও এই কাজটি করবেন না। ক্ষমা মহৎ গুন তাই বলে বারবার নয়। এদেরকে চিহ্ণিত করুন এবং নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে চলুন। এতে আপনি ভালো থাকবেন এবং নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

মানবকণ্ঠ/ জেএস




Loading...
ads




Loading...