স্মৃতির স্বর্ণালি প্রহর

রেহ্নুমা তারান্নুম

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৪০

সময়কে পেছনে ফেলে আমরা ক্রমেই ছুটে চলছি। অতীতে আমরা ফেলে আসি সেই হাসি, কান্না, বন্ধন আর বিচ্ছেদের অসংখ্য স্মৃতি। মাঝে মধ্যে হঠাৎ কখনো এসে ধরা দেয় সেই অতীত মুহূর্তগুলো। টেনে আনে পেছনের সময়গুলোতে। সেই স্মৃতিকে রঙিন অবয়ব দিতে পারে ছবি। অ্যালবামের কোনায় কোনায় সেই স্মৃতিমাখা মুহূর্তের কথা মনে করে আবেগি হয়েছেন অনেকে। আবার সেই ছবি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কতই না আফসোস করতে হয়েছে। জীবনের মূল্যবান মুহূর্তগুলো একটু সচেতন হলেই নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়। এজন্য ভালোমানের ডিজিটাল স্টুডিও থেকে ছবি প্রিন্ট করতে হবে।

ছবি কতটুকু কাটতে হবে বা কীভাবে এডিট করতে হবে সেটা আগে থেকেই বুঝিয়ে দিতে হবে। গ্লসি কাগজের চাইতে ভালোমানের ম্যাট কাগজে প্রিন্ট করলে ছবি অনেক দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে। এছাড়া অনেকে মেটাল প্রিন্টও করে থাকেন। এতে দাম কিছুটা বেশি পড়ে। ঢাকার অনেক স্টুডিওতে আংশিক নষ্ট হয়ে যাওয়া ছবি ভালো করা যায়। এমনকি তারা সাদা-কালো ছবি রঙিন করে দিতে পারে। ছবি খোলা অবস্থায়, স্যাঁতসেঁতে স্থানে বা ধুলাবালির মধ্যে রাখলে তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য ছবিকে বছরে অন্তত একবার হালকা রোদে রাখা ভালো। রুচি অনুযায়ী ছবি বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

অ্যালবাম: একসঙ্গে অনেক ছবি সংরক্ষণ করতে অ্যালবামের বিকল্প নেই। অ্যালবাম দুই ধরনের হয় পকেট এবং পেস্টিং। আজকাল পেস্টিং অ্যালবামের চাহিদাই বেশি। দামে কিছুটা বেশি হলেও এখানে নিজের মতো করে বিভিন্ন সাইজের ছবি সোজা বা বাঁকাভাবে বসিয়ে সাজানো যায়। তবে পেস্টিংয়ে একবার ছবি বসালে আর বদলানো ঠিক না। এতে ওপরের প্লাস্টিক পেপার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজাতে হবে। তবে পকেট অ্যালবামের সুবিধা হলো এখানে ছবি চাইলে পরিবর্তন করা যায়। তবে এখানে অ্যালবামে নির্ধারিত সাইজের ছবিই রাখা যায়।
ছবি ভালোভাবে শুকানোর পর অ্যালবামে রাখতে হবে। অ্যালবামটি এমন স্থানে রাখতে হবে যেখানে আলো-বাতাস আসে এবং পোকামাকড় থেকে সুরক্ষিত থাকে। অ্যালবাম অবশ্যই পানি থেকে দূরে রাখতে হবে। নিউমার্কেটের অ্যালবাম বিক্রেতা মো. সামছুল আলম বলেন, বিয়ে, জন্মদিন, পিকনিক ইত্যাদি বিভিন্ন উৎসব অনুযায়ী অ্যালবাম কভারের ভিন্নতা রয়েছে। এছাড়া অনেক অ্যালবামে ওপেনিং টিউন সেট করা থাকে। নিউমার্কেটসহ যে কোনো গিফট শপে পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের অ্যালবামটি।

ফটোফ্রেম: ছবি সংরক্ষণ করার জন্য ফটোফ্রেম অন্যতম একটি মাধ্যম। দোকানে বিভিন্ন ডিজাইনের ও সাইজের ফটোফ্রেম পাওয়া যায়। কোনোটা হয়তো দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখতে হয় কোনোটা টেবিলে আবার কোনোটায় দুটি সুবিধাই আছে। আজকাল ফটোফ্রেমে একের অধিক ছবিও রাখা যায়। চাইলে নিজের পছন্দমতো ফ্রেমে ছবি বাঁধাই করেও রাখা যায়। এলিফ্যান্ট রোডের রাজু গ্লাস হাউসের স্বত্বাধিকারী মো. ইদ্রিস মিয়া বলেন, ছবি বাঁধাই করতে চাইলে ভালো কাগজে ছবি প্রিন্ট করে লেমিনেটিং করতে হবে। ছবি কাচ দিয়ে বাঁধাই করাই ভালো।

কম্পিউটারে ছবি সংরক্ষণ: আধুনিক যুগে একসঙ্গে অনেক ছবি সংরক্ষণের সবচেয়ে সহজ উপায় কম্পিউটার। শেলটেক সিয়েরার ডিজিটাল ফটোগ্রাফির ম্যানেজার মো. মোকসেদুল মোমিন জানান, কম্পিউটারে ছবি রাখতে চাইলে ছবি তোলার তারিখ, উপলক্ষ ও লোকেশনের নাম দিয়ে সংরক্ষণ করলে সহজেই ছবিটি খুঁজে পাওয়া যাবে। তবে একান্ত ব্যক্তিগত ছবি কম্পিউটারে না রাখাই ভালো। কম্পিউটার মেরামত করার আগে সংরক্ষিত ছবিগুলো ডিস্ক করে নিতে হবে বা অন্য কোনো হার্ডডিস্কে ট্রান্সফার করতে হবে। এতে ছবি ডিলিট হয়ে গেলেও ভয় থাকবে না।

ফটোবুক: ছবির অ্যালবামের মতো হলেও ফটোবুকের বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রতিটি পাতায় বিভিন্ন আকারে ছবি চিরস্থায়ী অবস্থায় বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে প্রিন্ট করা থাকে ফলে ছবিগুলো আর্দ্রতাবিরোধী এবং এর রংও নষ্ট হয় না। বিয়ে- জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি ক্যাটালগসহ ইচ্ছেমতো রাখা যায়। প্রিন্ট ছবি, পেনড্রাইভ, সিডি/ডিভিডি, মেমোরি কার্ড, নেগেটিভ থেকে ছবি ফটোবুকে প্রিন্ট করা যায়। সাধারণ একটি বুকে ২শ’ থেকে ৩শ’টি ছবি রাখা যায়। এখানে ছবি হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...