ওসির বিপুল সম্পদ: হাইকোর্টের নজরে আনলেন ব্যারিস্টার সুমন


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৮ আগস্ট ২০২২, ১৫:০৯,  আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২২, ১৫:৩৩

ঢাকায় বাড়ি ও প্লটসহ বিপুল সম্পদের মালিক ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম।একজন ওসির এই বিপুল সম্পদ সংক্রান্তে একটি জাতীয় দৈনিকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে এনে পদক্ষেপ ও তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

আজ সোমবার (৮ আগস্ট) আদালতে ওসির সম্পদের উৎস জানতে চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত করার দায়িত্ব দিতে আবেদন করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। পরে আদালত তদন্ত চেয়ে ব্যারিস্টার সুমনকে একটি আবেদন হাইকোর্টে দাখিল করতে বলেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তার এত সম্পদ কীভাবে সম্ভব? তার বেতন ভাতা এত বেশি না যে তিনি এত পরিমাণ পরিমাণ সম্পদের মালিক হবেন।

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, বিষয়টি আদালতের নজরে আনা দরকার। দুদকের তদন্তের জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলা। তখন আদালত দুদকের আইনজীবীকে ডেকেছেন।

দুদকের আইনজীবীও বলেছেন, এটা খুবই হুমকিস্বরূপ; এটা হতাশাজনক। তখন আদালত আমাকে পিটিশন নিয়ে যেতে বলেছেন। আমি আগামী বুধবারই ( ১০ আগস্ট) এ বিষয়ে পিটিশন দায়ের করব।’

এর আগে গত ৫ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ঢাকায় আটতলা বাড়ি করেছেন। বানাচ্ছেন আরেকটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে তার রয়েছে চারটি প্লট। বাড়ি, প্লটসহ এই বিপুল সম্পদের মালিক ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম। রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটিতে এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।’

‘সরকারি একটি সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে ওসি মনিরুলের এসব অবৈধ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ সূত্র বলছে, যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে, তার সম্পদের পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘পুলিশের একজন পরিদর্শক হয়ে ওসি মনিরুল কীভাবে এত সম্পদের মালিক হয়েছেন, তা নিয়ে পুলিশ বিভাগে আলোচনা চলছে। বর্তমানে তিনি নবম গ্রেডে ২২ হাজার টাকা স্কেলে সাকল্যে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বেতন পান। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি এই সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধারণা করছেন।’

জানা যায়, ১৯৯২ সালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন মনিরুল ইসলাম, যখন এই পদটি তৃতীয় শ্রেণির ছিল। ২০১২ সালে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ পরিদর্শক হন। প্রায় ৩০ বছরের চাকরিজীবনে বেশির ভাগ সময় ঢাকা রেঞ্জে ছিলেন। তার বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়।’

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar