নার্স বদলি বাণিজ্য, অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৮ মে ২০২২, ১৭:৫২,  আপডেট: ১৮ মে ২০২২, ১৭:৫৬

দেশের সব হাসপাতালে নার্স বদলি, অর্থ লেনদেন, বাণিজ্য সংক্রান্ত অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে আজ বুধবার (১৮ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব।

গত ১০ এপ্রিল দেশের সব হাসপাতালসমূহে নার্স বদলি, টাকা লেনদেন, বাণিজ্য সংক্রান্ত অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করতে এবং বদলি বাণিজ্যে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বদলি বাণিজ্যে লেনদেনকৃত ১০০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ারও আর্জি জানানো হয়েছে রিটে।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ১০ এপ্রিল ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মাজেদুল কাদের এই রিট করেন।

রিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের অভিযুক্ত মো. জামাল উদ্দিনকে এই লিগ্যাল নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে। রিটের বিষয়টি ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, রিটে দেশের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশাকে রক্ষার জন্য আশু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া নার্সদের বদলিতে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত করার জন্য স্বাস্থ্যসচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত করে অবৈধ সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিতকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে বলা হয়েছে। দুদুক কর্তৃক তদন্ত করে ঘুষ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের নিকট থেকে টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী নার্সদের ফেরত প্রদানের জন্য বলা হয়েছে রিটে। একই সঙ্গে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বদলি বাণিজ্যের হোতা মো. জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে রিট আবেদনে।

ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব জানান, বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচারের পরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা দুর্নীতি দমন কমিশন এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে নার্স পেশা হুমকির মুখে পড়ছে। হাজার হাজার নার্সের নিকট থেকে অবৈধভাবে ঘুষবাণিজ্য করে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইভ ফাউন্ডেশনের পক্ষে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মাজেদুল কাদের। ওই লিগ্যাল নোটিশের পর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এই রিট করা হয়।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar