ক্ষমতার অপব্যবহার আগেও করেছেন কামরুন্নাহার


  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৩ নভেম্বর ২০২১, ১২:৩১

রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের মামলায় এখতিয়ারবহির্ভূত পর্যবেক্ষণ দিয়ে সমালোচিত ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
প্রধান বিচারপতি এর আগে কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করার পাশাপাশি তাকে আর আদালতে না বসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালত থেকে প্রত্যাহার করে তাকে পাঠানো হয়েছিল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে।
তখন জানা যায়, স্থগিতাদেশ থাকার পরও অন্য এক ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে জামিন দেয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে আপিল বিভাগ তাকে গত বছর তলব করেছিল। কোনো এখতিয়ার বা ক্ষমতাবলে ওই আসামিকে তিনি জামিন দিয়েছিলেন, সে ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে।

গত ১৫ নভেম্বর কামরুন্নাহারের বিষয়টি আপিল বিভাগে ওঠে। সোমবার ফের আদেশের জন্য রাখা হয় মামলাটি। এদিন আদালত বসার আগেই ফাইল নিয়ে আপিল বিভাগের এক নম্বর বিচারকক্ষে হাজির হন কামরুন্নাহার।

তখন ওই বিচারকক্ষে গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবী, বেঞ্চ কর্মকর্তা, সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন কর্মকর্তাও ছিলেন। কিন্তু আদালতের বিচারকাজ শুরুর আগে সবাইকে বের হয়ে যেতে অনুরোধ করেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
আইনজীবী, সাংবাদিক, আপিল বিভাগের বেঞ্চ কর্মকর্তাসহ সবাই আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলে বেলা সোয়া ১১টার দিকে আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। পরে বিকালে কামরুন্নাহারের বিষয়ে আদেশের কথা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানান সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র।
সেখানে বলা হয়, ‘আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে বর্তমানে সংযুক্ত এবং ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর সাবেক বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার অদ্য ২২/১১/২০২১ তারিখ সকাল ৯:৩০ ঘটিকায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগে সশরীরে উপস্থিত হন।

‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অদ্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকার ১ নং ক্রমিকের মামলায় শুনানিঅন্তে-তাহার ফৌজদারী বিচারিক ক্ষমতা সিজ (seize) করা হয়েছে- মর্মে আদেশ প্রদান করেন। পূর্ণাঙ্গ রায় পরবর্তীতে প্রকাশ হবে।’

এদিন যে মামলায় জামিনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে কামরুন্নাহার সর্বোচ্চ আদালতে এসেছিলেন, তার আসামি এটিএন বাংলার সাবেক অনুষ্ঠান প্রযোজক আসলাম শিকদার। ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার হাতিরঝিল থানায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের এই মামলা করেন এক নারী।
পুলিশ ওদিনই আসলামকে গ্রেফতার করে এবং পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ মামলায় ২০১৯ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট আসলাম শিকদারকে জামিন দিলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তা স্থগিত করে দেয়। পরে ওই স্থগিতাদেশ বাড়ানোর জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এদিকে চেম্বার আদালতে জামিন স্থগিত থাকার পরও আসামি আসলামকে জামিন দেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর তখনকার বিচারক কামরুন্নাহার। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানির সময় নিম্ন আদালত থেকে আসলাম শিকদারের জামিন পাওয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের নজরে এনেছিলেন তখনকার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তখন আপিল বিভাগ বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে নিম্ন আদালত থেকে মামলার নথি আনে। নথি আসার পর তা পর্যালোচনা করেন আপিল বিভাগের বিচারকরা। এরপর বিচারক কামরুন্নাহারকে তলবের আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।

এদিকে গত বছরের ১৪ অক্টোবর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক সামছুন্নাহার এ মামলার রায়ে আসলাম শিকদারকে খালাস দেন। সে রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ২০ জানুয়ারি সে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলার নথি তলব করে। সেই সাথে আসলাম শিকদারকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।


poisha bazar

ads
ads