আনভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ ফের পেছাল


  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১১ অক্টোবর ২০২১, ১৬:১৯

দেশজুড়ে আলোচিত কলেজছাত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কন্যা মোসারাত জাহান মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার ওপর আদেশ আরেক দফা পেছাল। প্রথম তারিখের ২০ দিন পর গতকাল রবিবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে আদেশ দেয়ার কথা ছিল।

কিন্তু সেটি না হওয়ায় এর জন্য নতুন তারিখ আগামী ২৭ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন বিচারক। এদিনের পর নির্ধারিত হবে মামলা তদন্তাধীন অবস্থায় আসামি আনভীর দেশত্যাগ করতে পারবেন কি-না। অন্যদিকে তদন্তের অগ্রগতি ও আসামি গ্রেফতার সংক্রান্ত তথ্য জানাতে গতকাল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে-৮ এ যাননি তদন্ত কর্মকর্তা। এ সংক্রান্ত আদেশের কপি যথা সময়ে না পাওয়ায় তিনি যেতে পারেননি বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর মুনিয়া হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত আনভীর যাতে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্য নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত মাসের মধ্যভাগে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন। এর ওপর শুনানির পর আদালতের আদেশের নির্ধারিত তারিখ ছিল গত ১৯ সেপ্টেম্বর। এদিন ঢাকার সিএমএম আদালত নতুন করে তারিখ ১০ অক্টোবর দিয়েছিলেন। এরপর গতকাল ফের নতুন করে আদালত তারিখ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা।

এদিকে আনভীর ও তার স্ত্রীর আগাম জামিনের ওপর গত ২৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে শুনানি হয়। এদিন আনভীরকে বাদ দিয়ে তার স্ত্রী সাবরিনাকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দেন উচ্চ আদালত। তাকে বিচারিক আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে বেলবন্ড জমা দেয়ারও নির্দেশ দেন। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ভিকটিম মুনিয়ার শরীরে চারটি আঘাত থাকার কারণে মূল আসামি আনভীরের জামিন আবেদনে সাড়া দেননি হাইকোর্ট বিভাগ।

অন্যদিকে এ মামলার আরেক আসামি মাদকসহ গ্রেফতারের পর বর্তমানে কারাবন্দি ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে গত সপ্তাহে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জেরা করা হয়েছে। তার কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে দাবি করেছে পিবিআই।

মুনিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গত ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ আদালতে মামলা করেন মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া। ওই আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ বেগম মাফরোজা পারভীন মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে পরেরদিন গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) (২)/৩০ ধারা এবং ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি (নম্বর-৫) রেকর্ড হয়। মামলা রেকর্ড হওয়ার পর তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের কাছে পাঠানো হয়। গত মাসের ১০ তারিখ থেকে তদন্ত শুরু করে পিবিআই।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার প্রধান আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর। পাশাপাশি তার বাবা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, মা আফরোজা সোবহান, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা, হুইপপুত্র শারুনের সাবেক স্ত্রী সাইফা রহমান মিম, কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, পিয়াসার বান্ধবী ও ঘটনাস্থল গুলশানের ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী শারমিন ও তার স্বামী ইব্রাহিম আহমেদ রিপনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাবরিনা ও রিপন আগাম জামিন পেয়েছেন।

গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই রাতেই বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন ভিকটিমের বোন নুসরাত জাহান তানিয়া। তদন্ত শেষে গত ১৯ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে গুলশান থানা পুলিশ দাবি করে, আনভীরের সঙ্গে ঘটনার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হোক।

এর বিরুদ্ধে আদালতে না-রাজি দেন বাদী নুসরাত। গত ১৮ আগস্ট পুলিশ প্রতিবেদন গ্রহণ করে ও বাদীর আবেদন খারিজ করে আসামিকে অব্যাহতি দেন ঢাকার সিএমএম আদালত। এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেন দেশের অনেক বিশিষ্ট নাগরিক। এর কিছুদিন পর ট্রাইব্যুনালে একই অভিযোগে মামলা করেন ভিকটিমের বোন তানিয়া।



poisha bazar

ads
ads