বাবুনগরী-মামুনুলের মামলায় প্রতিবেদন ৩ ফেব্রুয়ারি

ভাস্কর্যবিরোধী মামলা
জুনায়েদ বাবুনগরী ও মামুনুল হক - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৭ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৩৭

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণেয় বিরোধিতায় উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে হেফাজতে ইসলামের আমির মোহাম্মাদ জুনায়েদ বাবুনগরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হক ও চরমোনাই পীরের ছেলে সৈয়দ ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (০৭ এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য তারিখে পিবিআই তা দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লা এ নতুন তারিখ ধার্য করেন।

এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এ মামলা দায়ের করেন। এইদিন মশিউর মালেক নামের এক আইনজীবীও একটি মামলা করেন।

মামলায় মামুনুল হক সম্পর্কে বলা হয়, গত ১৩ নভেম্বর বিএমএ মিলনায়তনে বাংলাদেশ যুব খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগর শাখার সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মানের বিরোধিতা করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য গড়তে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে লাশের পর লাশ পড়বে। আবার শাপলা চত্বর হবে।’ সমাবেশে যুব মজলিসের কর্মীদের এ জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন তিনি।

বাদী অভিযোগ করেন, মামুনুল হকের বক্তব্যের পর একটি শ্রেণি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে একের পর এক বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

মামলায় সৈয়দ ফয়জুল করিম সম্পর্কে বলা হয়, গত ১৩ নভেম্বর এ আসামি যাত্রাবাড়িস্থ গেন্ডারিয়ায় তৌহিদী জনতার ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘অন্দোলন করব, সংগ্রাম করব, জিহাদ করব। রক্ত দিতে চাই না, দিলে বন্ধ হবে না। রাশিয়ায় লেলিনের ৭২ ফুট মূর্তি যদি ক্রেন দিয়ে তুলে সাগরে নিক্ষেপ করতে পারে তাহলে শেখ সাহেবের মূর্তি আজকে হোক কালকে হোক তুলে বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করবে।’

মামলায় বাবুনগরী সম্পর্কে বলা হয়, এ গত ২৭ নভেম্বর হাটহাজারীতে তিনি বলেন, ‘মদিনা সনদে যদি দেশ চলে তাহলে কোনো ভাস্কার্য থাকতে পারে না। ভাস্কর্য নির্মাণ থেকে সড়ে না দাঁড়ালে আরেকটি শাপলা চত্তরের ঘটনা ঘটবে এবং ভাস্কর্য ছুড়ে ফেলবেন।’

মামলায় বলা হয়, আসামিদের উপরোক্ত বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। তারা দেশে রায়টের পরস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ধর্মকে কাজে লাগিয়ে আসামিরা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে সাধারণ মুসলমানদের ক্ষেপিয়ে তুলে প্রকারন্তরে রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে ঘৃণা ও শত্রুতার মনোভাব সৃষ্টি করেছেন। আসামিদের উস্কানিমূলক বক্তব্যে উদ্বুব্ধ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনের মধুদার ভাস্কর্য এবং কুস্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আইএইচ






ads