মোংলায় সাতদিনে ধর্ষণ মামলার রায়, দ্রুত বিচারের নজির

মোংলায় সাতদিনে ধর্ষণ মামলার রায়, দ্রুত বিচারের নজির
- ছবি: প্রতিবেদক

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৯ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৩৩

মোঃ এনামুল হক, মোংলা : বাগেরহাটের মোংলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি আব্দুল মান্নান সরদারকে (৫০) আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ গঠনের সাত কার্যদিবসে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-২ এর বিচারক মো. নূরে আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে রোববার দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম এই চাঞ্চল্যকর মামলার বাদী-বিবাদী পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনেন।

রায়কালে আদালতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ধর্ষক মান্নান ও বাদী মিলন শেখ এবং মামলার স্বাক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মাত্র সাত কার্যদিবসে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়াকে দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন নারী নেত্রী, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এভাবে দ্রুত সম্পন্ন হলে ধর্ষণরোধে ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিত শিশুর পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী।

মামলার রায় শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিশুটির মামী জরিনা বেগম (২৭) বলেন, রায়ে আমরা খুব খুশি। আমরা ধন্যবাদ জানাই পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিচার প্রক্রিয়া থাকা সকলকে। কারণ এত দ্রুত সময়ে এর বিচার হবে তা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই একারণেই যে ধর্ষণ বিরোধী সরকারের নতুন আইনের জন্যেও। এই যে রায় হয়েছে এতে করে এ এলাকাসহ সারাদেশে ধর্ষণ ও নিযার্তন করে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

এ বিষয়ে বাগেরহাট পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, ধর্ষণ খবর পাওয়া মাত্র দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইকবাল বাহার চৌধুরীকে নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলার পক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরেছেন বলেই দ্রুত আদালত রায়টি দিতে পেরেছেন। ধর্ষণ নিযার্তনসহ সকল ধরণের মামলা পক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের জন্য বাগেরহাট জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে মামলার পক্রিয়া সম্পন্ন ও আদালতের এ রায়ের ঘটনাটি সারাদেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ঢোন আশ্রয়ন প্রকল্পে মামা-মামীর কাছে থাকা ৭ বছর বয়সী শিশুকে চকলেট-বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে নিজ ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী আবদুল মান্নান সরদার (৫৩)। ওই রাতেই শিশুটির মামা মামলা করলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জুডিশিয়াল আদালত মামলাটি ১১ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ পাঠায়। ওই দিন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নিয়ে পরের দিন অভিযোগ গঠন করে। এরপর ১৩ অক্টোবর বাদী পক্ষের ১৬ জন এবং ১৪ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট সাক্ষী, চিকিৎসক, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সদস্য ও তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ১৫ অক্টোবর আসামি সাফাই সাক্ষ্য দেয়। আর গত রবিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে সোমবার রায়ের দিন ধার্য করেন বিচারক। সোমবারের এ রায়ে ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে






ads