শিশু অপরাধে ব্যতিক্রমী রায়

শিশু অপরাধে ব্যতিক্রমী রায়

poisha bazar

  • ১৫ অক্টোবর ২০২০, ১৩:৫৫

শাহজাহান চৌধুরী, সুনামগঞ্জ : দেশে দিন কয়েক আগেই নির্যাতনের শিকার এক নারীর প্রতীকী নাম ‘কল্প’ দিয়ে একটি ধর্ষণ মামলার রায় দিয়েছিলেন মাগুরা আদালত। এমনই আরেকটি ব্যতিক্রমী রায় ঘোষণা করা হয়েছে সুনামগঞ্জ আদালতে। শিশু অপরাধের ১০টি মামলায় রায়ে ১৪ শিশুকে সংশোধনের শর্তে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় দিয়েছেন আদালত।

সুনামগঞ্জে ১০ মামলায় ওই ১৪ শিশু অভিযুক্তকে এক বছরের জন্য ৮ শর্তে এই প্রবেশনে দেন আদালত। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ শিশু আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচার মো. জাকির হোসেন নিজ খাসকামরায় এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, শিশু অপরাধের একসঙ্গে ১০ মামলার আদেশ প্রদান দেশে এই প্রথম।

যে আটটি শর্ত দেয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে-বাবা ও মায়ের আদেশ মেনে চলা। বাবা-মায়ের সেবা যত্ন করা। ধর্মীয় অনুশাসন মানা। নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা। প্রত্যেকে কমপক্ষে ২০টি করে গাছ লাগানো এবং গাছের পরিচর্যা করা। অসত সঙ্গ ত্যাগ করা। মাদক থেকে দূরে থাকা ও ভবিষ্যতে কোনো অপরাধে না জড়ানো।
শিশু অভিযুক্তদের নিজ বাড়িতে অভিভাবকের জিম্মায় থেকে সংশোধনের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, মামলাগুলোর মধ্যে শিশু ৪২/২০ নম্বর মামলায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে টাকা গ্রহণে এক শিশু অভিযুক্ত। শিশু ৫৩/১৫ নম্বর মামলায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিকটিমের ছবির সঙ্গে সংযুক্ত করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে অশ্লীল ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করার অপরাধে অভিযুক্ত ৪ শিশু। শিশু ২৮/১৭ নম্বর মামলায় পুলিশকে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলে বাধা প্রদান ও আসামি পলায়নে সহায়তার অভিযোগে এক শিশু অভিযুক্ত। শিশু ৫৭/১৯ নম্বর মামলায় শ্লীলতাহানির অপরাধে এক শিশু অভিযুক্ত। শিশু ৫৯/১৯ নম্বর মামলায় দলবদ্ধভাবে লাঠি দিয়ে মারপিট করে সাধারণ জখম করার অপরাধে ২ শিশু অভিযুক্ত। শিশু ৫৩/১৮ নম্বর মামলায় মাদক রাখার অপরাধে এক শিশু অভিযুক্ত। শিশু ২৯/১৮ নম্বর মামলায় লাঠি দিয়ে মারপিট করে সাধারণ জখম করার অপরাধে এক শিশু অভিযুক্ত। শিশু ৩৮/২০ নম্বর মামলায় মাদক রাখার অপরাধে এক শিশু অভিযুক্ত। শিশু ১৯/২০ জুয়া খেলার অপরাধে এক শিশু অভিযুক্ত এবং শিশু ৪৪/২০ নম্বর মামলায় দলবদ্ধভাবে লাঠি দিয়ে মারপিট করে সাধারণ জখমসহ হত্যার হুমকির অপরাধে এক শিশু অভিযুুক্ত।

আদালত আদেশে আরো উল্লেখ করেন, প্রবেশন কর্মকর্তা প্রতি তিন মাস অন্তর আদালতে অভিযুক্ত শিশুদের সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এদের মধ্যে অভিযুক্ত কোনো শিশু যদি প্রবেশনের শর্ত ভঙ্গ করে তবে তাকে সংশোধনাগারে পাঠানো হবে।

আদালত চলাকালে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নান্টু রায়। শিশু অভিযুক্তদের আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রুহুল তুহিনসহ অভিযুক্তদের আইনজীবীরা, সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অধিদফরের উপ-পরিচালক সুচিত্র রায়, জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads