ডিআইজি বজলুরের জামিন নামঞ্জুর, সম্পদ ক্রোক

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:১৭

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর দায়ের করা মামলায় কারা অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) প্রিজন বজলুর রশীদের (সাময়িক বরখাস্ত) সম্পতি ক্রোক ও দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়েছেন আদালত এবং জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক ইকবাল হোসেন এ নির্দেশ দেন।

এদিন বজলুরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করতে শুনানি করেন। অপরদিকে তার আইনজীবী অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাতে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ২২ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের জন্য শুনানির দিন ধার্য করেন।

দুদকের আইনজীবী তার স্থাবর সম্পতি ক্রোক ও দুইটি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আবেদন করলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। এছাড়া বজলুর আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দেন আদালত।

এর আগে ১ সেপ্টেম্বর কারা অধিদপ্তরের সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ আসামির উপস্থিতিতে এ চার্জশিট গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে ২২ সেপ্টেম্বর চার্জ শুনানির দিন ধার্য করে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বদলির আদেশ দেন।

গত ২৬ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দীন এ চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯০২ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

চার্জশিটে বলা হয়, বজলুর রশীদ রূপায়ন হাউজিং স্টেট থেকে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী রোডের ৫৫/১ (পুরাতন) ৫৬/৫৭ (নতুন) নির্মাণাধীন স্বপ্ন নিলয় প্রকল্পের ২৯৮১ বর্গফুট আয়তনের অ‌্যাপার্টমেন্ট কেনেন। ইতোমধ্যে তিনি অ‌্যাপার্টমেন্টের মূল্য বাবদ তিন কোটি ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। এ অ‌্যাপার্টমেন্ট ক্রয় বাবদ বজলুর রশীদ যে টাকা পরিশোধ করেন, এর সপক্ষে কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। এমনকি তিনি অ‌্যাপার্টমেন্টের ক্রয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার আয়কর নথিতে দেখাননি। পরিশোধিত ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুদক আইন ২৭ (১) ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়।

২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর সকাল ১০টায় বজলুর রশীদ ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল দুদক। জিজ্ঞাসাবাদের পর বজলুরকে গ্রেফতার করা হয়।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে একটি জাতীয় দৈনিক তার দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে উঠে আসা ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বজলুর রশীদ বলেছিলেন, ‘আমি দুটি দুর্নীতি মামলার তদন্ত করেছি। যারা এই দুই দুর্নীতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারাই এই নিউজ করিয়েছে। সবকিছু বানোয়াট।’

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads