নান্দাইলের ব্যবসায়ী পল্টন হত্যা মামলায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড 


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৪:০৫

‘যৌনকর্মীর পারিশ্রমিক পরিশোধ নিয়ে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে’ ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলের ওষুধের ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলাম পল্টন হত্যা মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামি হলেন- একলাছ উদ্দিন ওরফে জুয়েল, আবুল কাশেম ফকির ওরফে বাচ্চু মেম্বার, আবুল কালাম আজাদ ওরফে পিনু ডাক্তার, চন্দন, শুক্কুর আলী ওরফে আশ্রাফ আলী, কবির মিয়া, আবুল কাশেম, বাদল মিয়া, ফারুক মিয়া, রুমা আক্তার।

অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় সাতজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। খালাস পেয়েছেন আফতাব উদ্দিন ওরফে আক্রাম আলী, বদরুল আলম ওরফে বদরুল, ইসমাইল হোসেন, কাজল মিয়া, রফিক, আবু সিদ্দিক ও দুলাল। 

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) এক নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এই রায় দেন। 

আসামিদের মধ্যে ফারুক মিয়া, রফিক ও রুমা আক্তার পলাতক। চার্জশিটে নাম থাকলেও পরে মারা যাওয়ায় জব্বর মোহরীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আবু আব্দুল্লাহ ভূঞা জানান, আসামিদের মধ্যে রুমা আক্তার ও ফারুক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই জবানবন্দিতে তারা বলেছেন, রুমা আক্তার একজন যৌনকর্মী। মাজহারুল ইসলাম পল্টনের ওষুধের দোকানে আসামিদের কয়েকজন রুমার সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হন। পরে ওই ব্যক্তিরা তাকে যৌনকর্মী হিসেবে পারিশ্রমিক না দেওয়ায় পল্টনকে সেই টাকা দিতে চাপ দেন রুমা। কিন্তু পল্টন তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে আসামিরা পল্টনকে মারপিট করে হত্যা করে।’ 

এই মামলায় গত ৫ ডিসেম্বর আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারকাজ শেষ হয়। ওইদিনই আদালত রায়ের জন্য মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দিন ধার্য করেন। পলাতক তিন আসামি ছাড়া বাকিদের জামিন বাতিল করে ওইদিনই কারাগারে পাঠান আদালত।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত থেকে ১ মার্চ সকাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পল্টনকে তার ওষুধের দোকানে মাথা ও কপালে আঘাত করে খুন করা হয়। দোকানের ভিতরে বাঁশের খুটির সঙ্গে গামছা দিয়ে মরদেহ বেঁধে রেখে দোকানে তালা দিয়ে চলে যায় খুনিরা।

এ ঘটনায় পল্টনের বোন বিউটি আক্তার ১ মার্চ নান্দাইল থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন।

চার্জশিট দাখিল হওয়ার পর জব্বর মোহরী নামে এক আসামি মারা যান। আদালত জব্বর মোহরীকে অব্যাহতি দিয়ে ১৭ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার বিচার চলাকালে আদালত চার্জশিটভুক্ত ৩৫ সাক্ষীর মধ্যে ৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 






ads