যুদ্ধাপরাধের মামলায় টিপু সুলতানের মৃত্যুদণ্ড

মানবকণ্ঠ
মো. আব্দুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতান - ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০৭

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত রাজশাহীর বোয়ালিয়ার মো. আব্দুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন, বিচারপতি আমির হোসেন ও বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, লুটতরাজ, হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০১৭ সালের ২ মে টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে গত বছর ২৭ মার্চ টিপুর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয় প্রসিকিউশনের তদন্ত দল।

রাজশাহীর বোয়ালিয়ায় ১০ জনকে হত্যা, দুইজনকে দীর্ঘদিন আটকে রেখে নির্যাতন, ১২ থেকে ১৩টি বাড়ির মালপত্র লুট করে আগুন দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে পাওয়া গেছে। তবে, ছয়জনের মধ্যে মনো, মজিবর রহমান, আবদুর রশিদ সরকার, মুসা ও আবুল হোসেন আগেই মারা গেছেন। বেঁচে আছেন একমাত্র টিপু সুলতান। গত বছরের ২৯ মে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ৮ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে টিপুর বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় টিপু সুলতান জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। টিপু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৮৪ সালে নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর ডিগ্রি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০১১ সালে অবসরে যান।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৪০টি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউতে সাতটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি রায়ের পর জামায়াতের প্রাক্তন আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, প্রাক্তন দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতের প্রাক্তন নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউতেও জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এর আগে ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।

জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের আপিলেও মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। গত ৩১ অক্টোবর তার আপিল মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিলের রায় হাতে পেলে তার রায় রিভিউ চেয়ে আবেদন করবেন। এর আগে আজহারকে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছিল। আরো বেশকটি মামলা আপিলে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব আপিল মামলা শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে বলে জানিয়েছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।




Loading...
ads






Loading...