কাউন্সিলর রাজীব ১৪ দিনের রিমান্ডে


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:০০

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ জমি দখলের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে তারেকুজ্জামান রাজীবকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার আদালতে হাজির করে দুই মামলায় ১০ দিন করে মোট ২০ দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে ভাটারা থানা-পুলিশ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান শুনানির সময় আদালতকে বলেন, আসামি তারেকুজ্জামানের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র, গুলি পাওয়া গেছে। আসামির বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আসামির কাছ থেকে বিদেশি মদ পাওয়া গেছে। আসামির সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং মাদকের উৎস সম্পর্কে জানার জন্য এই আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

অপরদিকে আসামি তারেকুজ্জামানের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, তারেকুজ্জামান জনপ্রিয় একজন কাউন্সিলর। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া গেছে মাত্র ৩৩ হাজার টাকা। তিনি মাদক ব্যবসায়ী নন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে রাত ১২টা ১০ মিনিটে তারেকুজ্জামানকে দুই মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে কাউন্সিলর তারেকুজ্জামানকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

তারেকুজ্জামান রাজীব ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তিনি মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এক মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আবার ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন তিনি।

মোহাম্মদপুর এলাকায় যুবলীগের রাজনীতি দিয়েই রাজীবের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু। অল্পদিনেই নেতাদের সান্নিধ্যে মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নেন। এরপর অভিযোগ আছে, কেন্দ্রীয় যুবলীগের এক নেতাকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন রাজীব।

যুবলীগের সাইনবোর্ড আর কাউন্সিলরের পদটি ব্যবহার করে এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজীব। বিগত চার বছরে আট থেকে ১০টির বেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি কিনেছেন। গুলশান ও মোহাম্মদপুরে আটটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার। মোহাম্মদীয়া হাউসিং সোসাইটির ১ নম্বর রোড এলাকায় পানির পাম্পের জন্য নির্ধারিত জায়গায় বাড়ি বানিয়েছেন। বাড়ির জায়গাটির দামই প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।

কমিশনার হওয়ার পরপরই তিনি বাহিনী দিয়ে প্রচারণায় বনে যান স্বঘোষিত ‘জনতার কমিশনার’। তবে কথিত এই ‘জনতার কমিশনার’-এর বিরুদ্ধে জনতার কাছ থেকেই মাসে কোটি টাকা চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ, চন্দ্রিমা হাউসিং, সাত মসজিদ হাউসিং, ঢাকা উদ্যানসহ বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে টং দোকানদার থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া রাজীবের বিরুদ্ধে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads





Loading...