সীমান্ত রেখায় বিএসএফের শক্তি বৃদ্ধি


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৫৭

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতীয় সিমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএসএফ) শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। এতে আপত্তি তুললেছে পাঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরাকর।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সীমান্তে বিএসএফের আচরণ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এখন সেই বিতর্ক আরো বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুধবার একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, বিশেষত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পুলিশের সাথে বিএসএফের সঙ্ঘাত তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। -ডয়েচে ভেলে

এ দিকে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সীমান্ত নিয়ে একক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে দেশটির পাঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

কেন্দ্রের ওই বিজ্ঞপ্তির কড়া সমালোচনা করে দুই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিএসএফের হাতে এতটা ক্ষমতা তুলে দেয়ার অর্থ দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে অবজ্ঞা করা।

বুধবার মোদি সরকার যে গেজেট প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলোতে সীমান্তে বিএসএফের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এতদিন তারা সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার অঞ্চলের মধ্যে নজরদারি চালাতো পারতো। গ্রেফতার বা তল্লাশি চালাতো পারতো। নতুন নিয়মে তারা সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার অঞ্চল পর্যন্ত নজরদারি চালাতে পারবে। স্থানীয় পুলিশকে উপেক্ষা করে বিনা ওয়ারেন্টে তল্লাশি চালাতে ও গ্রেফতার করতে পারবে। সীমান্তে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রুখতেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে নরেন্দ্র মোদির সরকারের দাবি।

সীমান্তে পাচারের সাথে বিএসএফ যুক্ত, এমন অভিযোগ এর আগেও উঠেছে। কিছুদিন আগে বিএসএফের এক অফিসার পশ্চিমবঙ্গে ধরাও পড়েছেন। এ ছাড়াও সীমান্ত হত্যার অভিযোগও বারবার উঠেছে বিএসএফর বিরুদ্ধে। সীমান্ত হত্যার অভিযোগ বাংলাদেশ যেমন তুলেছে, তেমনই ভারতে সীমান্তে বসবাসকারী নাগরিকরাও তুলেছেন। বিএসএফের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়ার ফলে এই বিতর্ক আরো বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

সমাজকর্মী কিরিটি রায় জানিয়েছেন, ‘সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে ঢোকার অর্থ সম্পূর্ণ লোকালয়ে ঢুকে পড়া। সেখানে স্থানীয় পুলিশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার কথা। বিএসএফ সেখানে ঢুকলে বিতর্ক বাড়বেই। বিএসএফের অত ভেতরে ঢুকে কাজ করার কথাও নয়। তাদের কাজ কেবলমাত্র সীমান্ত রক্ষা করা।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন গেজেটে বিএসএফ-কে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তা অভূতপূর্ব। স্থানীয় পুলিশকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে তারা অভিযান চালাতে পারবে। রাজ্য সরকারগুলোর প্রতি নরেন্দ্র মোদির সরকারের আস্থাহীনতার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও মত তাদের। তারা বলছেন, সঙ্গতকারণেই এমন সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে রাজ্য সরকারগুলোর বৈরিতা আরো বাড়বে।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব এই নোটিফিকেশন ফিরিয়ে নেয়ার। কারণ এই গেজেট ফেডারেল কাঠামোর বিরোধী। কেন্দ্রীয় সরকার বিএসএফ-কে ব্যবহার করে রাজ্যের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করতে চাইছে।

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও একই কথা বলেছেন। তার বক্তব্য, কেন্দ্রীয় এজেন্সি রাজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার আরো এক উদাহরণ তৈরি করল কঠোর হিন্দুত্ববাদী গেরুয়া মোদি সরকার। আমরা এর বিরোধিতা করছি।

উত্তর-পূর্ব ও কাশ্মির পরিস্থিতি

উত্তর-পূর্ব ভারত এবং জম্মু ও কাশ্মিরে বিএসএফ-কে এরই মধ্যে অনেক বেশি ক্ষমতা দেয়া আছে। সেখানেও তল্লাশি ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে বিএসএফ-কে আরো বেশি ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মোদি সরকার।



poisha bazar

ads
ads