সাগরপথে অবৈধপথে ইউরোপ যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশিরা


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ৩১ জুলাই ২০২১, ১৭:৩১

আফ্রিকার দরিদ্র দেশ ও যুদ্ধবিধস্ত সিরিয়ার মতো দেশগুলো থেকে ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর ইউরোপযাত্রা নতুন নয়। তবে আশ্চর্যজনকভাবে অবৈধপথে ইউরোপ যাওয়ার শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশিরা। এসব বাংলাদেশির একটি বড় অংশই পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে ইউরোপ রওয়ানা দেয়।

চলতি বছরের ২৬ জুলাই পর্যন্ত ইতালি, গ্রিস, স্পেন, সাইপ্রাস ও মাল্টায় পৌঁছেছে অন্তত ৪৭ হাজার ৪২৫ জন শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশী। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩৩২ জনই বাংলাদেশি।

এধরনের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনেকেই পাচারের শিকার হয়ে লিবিয়া, তিউনিসিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় পৌঁছান। নিশ্চিতভাবে প্রাণ হারিয়েছেন অজ্ঞাত বহু লোক।

২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে অন্তত ৯৩৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর খবর রেকর্ড করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর, যাদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশি।

ইউরোপীয় সীমান্ত ও কোস্টগার্ড সংস্থা বা ফ্রন্টেক্সের তথ্যমতে, ২০০৯ সাল থেকে এপর্যন্ত অন্তত ৬০ হাজার বাংলাদেশি অবৈধভাবে ইউরোপ গিয়েছেন। এভাবে যারা ইউরোপ ঢুকছেন, তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তারা সাধারণত ১৮টি রুট ধরে ইউরোপ প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রধান রুট হচ্ছে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগর।

ডিসপ্লেসমেন্ট ট্র্যাকিং ম্যাট্রিক্সের হিসাবে, ২০২০ সালে সাগর ও স্থলপথ দিয়ে ইতালি, মাল্টা, স্পেন বা গ্রিসে প্রবেশ করেছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশি।

চলতি মাসেই তিউনিসিয়ান রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ প্রবেশের চেষ্টাকালে নৌকা ডুবে অন্তত ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। ৮ জুলাই তিউনিসিয়ান নৌবাহিনী মাঝসমুদ্র থেকে ৪৯ জন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে। একই পথে গত ৩ জুলাই অন্তত ৪৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নৌকাডুবির পর নিখোঁজ হন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/এসকে


poisha bazar

ads
ads