মোদি সরকারের বিতর্কিত কৃষি আইন স্থগিত


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১২ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:০৬

ভারতের কৃষকদের লাগাতার আন্দোলনের পর অবশেষে নরেন্দ্র মোদি সরকারের নতুন তিন কৃষি আইনে আবারও স্থগিতাদেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।পরবর্তী ঘোষণা দেয়ার আগ পর্যন্ত আইন তিনটির বাস্তবায়ন স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এপর্যন্ত অন্তত আট দফা বৈঠক হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। তাতে কোনও সমাধান আসেনি। কৃষকদের মতামত নিয়ে সরকার পক্ষ আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিলেও তাতে রাজি হননি আন্দোলনকারীরা। তারা বিতর্কিত আইন বাতিলের দাবিতে অনড়। একারণে দুই পক্ষের সমঝোতায় একটি কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ও গ্রহণ করতে রাজি নয় ভারতের কৃষক সংগঠনগুলো। তারা কোনও আলোচনা নয়, বরং একবারেই আইন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনকারী পক্ষের আইনজীবী আদালতে বিষয়টি জানালে ভারতের প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে, এএস বোপান্না এবং ভি রামসুব্রহ্মণ্যমের ডিভিশন বেঞ্চ বলেন, ‘এটা রাজনীতি নয়। রাজনীতি এবং বিচার ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এখানে সবার সহযোগিতা দরকার।’

বিচারকরা বলেন, ‘আইনগুলোর বৈধতা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন আমরা। টানা আন্দোলনের জেরে মানুষের জীবনযাত্রা ও সম্পত্তির ওপর যে প্রভাব পড়েছে, সেটাও উদ্বেগজনক। আমরা যতটা সম্ভব সুষ্ঠুভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

তারা বলেন, ‘ক্ষমতাবলে আমরা আইন স্থগিত করতে পারি। তবে সেটা অনির্দিষ্টকাল স্থগিত রাখা যায় না। কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত একটি বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়া, এর মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে। যারা সত্যিকারে সমাধান চান, তারা এই কমিটির কাছে যাবেন। তবে কমিটি কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না, কোনও শাস্তিও দেবে না। তারা শুধু আমাদের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে।’

এসময় কৃষক পক্ষের আইনজীবী এমএল শর্মা জানান, আন্দোলনকারীরা কোনও কমিটির সঙ্গে কথা বলতে চান না।

দিল্লি সীমান্তে কৃষকদের আন্দোলনে খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠীর মদদ রয়েছে বলে দাবি করেছে শাসক গোষ্ঠী। কৃষি আইনগুলোর সমর্থনে আদালতে পিটিশন জমা দেয়া পিএস নরসিংহও একই দাবি তুলেছেন। এতে সম্মতিতে দিয়েছেন ভারতীয় অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে বেণুগোপালও।

এ বিষয়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত জানতে চান, কীসের ভিত্তিতে সরকার পক্ষ এমন দাবি করছে? এ বিষয়ে আগামী বুধবারের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads