অক্সফোর্ডের টিকা : বয়স্কদের জন্য সুখবর


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২০ নভেম্বর ২০২০, ১০:৪৬

লাগামহীন করোনায় দিশেহারা বিশ্ববাসী। সকলে অপেক্ষায় আছে ভ্যাকসিনের। এমন সময় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনাভাইরাসের টিকা বয়স্ক মানুষের দেহেও বেশ কার্যকরী বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের দেহেও এই টিকার রোগ প্রতিরোধসংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া ভালো। দ্বিতীয় ধাপে মোট ৫৬০ জন প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবীর দেহে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়। তাতেই এই ফলাফল দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ অক্সফোর্ডের টিকার দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই টিকা রোগের বিস্তার থামাতে পারবে কি না, তা জানা যাবে খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের (২৫ ডিসেম্বর) মধ্যেই। ‘ল্যানসেট’-এ অক্সফোর্ডের টিকার যে ফল প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো প্রাথমিক পর্যায়ের। এ ধাপে মূলত টিকাটি মানবদেহের জন্য কতটা নিরাপদ এবং মানুষের দেহ কীভাবে এতে সাড়া দিচ্ছে, তা নির্ণয় করে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু সবচে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১ কোটি ২০ লাখ ৭০ হাজার ৭১২ জন। মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৩ জনের।

এদিকে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ফাইজার যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ামক সংস্থার কাছে টিকার জরুরি অনুমোদন চাইবে। অনুমোদন পাওয়া মাত্র মার্কিন স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রথমে টিকাটি পাবেন। সে হিসেবে আগামী বড়দিনের আগেই পাওয়া যাবে করোনার টিকা। বুধবার (১৮ নভেম্বর) ফাইজার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এ তথ্য জানায়।

মার্কিন ওষুধ উৎপাদনকারী সংস্থা ফাইজারের সঙ্গে এই টিকা তৈরিতে সহায়তা করছে জার্মান সংস্থা বায়োএনটেক। বায়োএনটেক–এর কর্ণধার উগুর শাহিন বললেন, ‌সবকিছু ঠিক মতোই এগোচ্ছে। আশা করছি ডিসেম্বরের গোড়াতেই আমরা করোনা টিকা উৎপাদনের ছাড়পত্র পেয়ে যাব। ক্রিসমাসের আগেই বাজারে আনতে পারব।

ফাইজারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানানো হয়, মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট ফাইজার ইঙ্ক তাদের তৃতীয় ট্রায়ালের চূড়ান্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষ করেছে। প্রাথমিক ফলে ৯০ শতাংশের বেশি সফলতার কথা জানানো হলেও, চূড়ান্ত ফলে টিকাটি ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছে বলে কোম্পানিটি দাবি করে।

ফাইজার জানায়, জার্মান সহযোগী বায়োএনটেকের সঙ্গে অংশীদারিত্বে উৎপাদিত তাদের টিকাটি সকল বয়স আর জাতিগোষ্ঠী তথা বর্ণের মানুষের মধ্যে সমানভাবে কাজ করে। ফাইজারের টিকা ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের দেহেও ৯৪ শতাংশের বেশি কার্যকরভাবে রোগ প্রতিরোধ করতে সফল হয়।

চূড়ান্ত ফলাফলে গত সোমবার প্রকাশিত মডের্না টিকার প্রাথমিক বিশ্লেষণের মতোই সফলতার দাবি করেছে ফাইজার।

ফাইজারের সর্বশেষ ট্রায়ালে প্রায় ৪৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেয়। স্বেচ্ছাসেবীদের দেহে প্রতিষেধকের গুরুতর কোনো পার্শ্বঃপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি।

এদিকে টিকাটির ব্যাপারে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য এলো মনখারাপ করা খবর। জানা গেছে, এ টিকা সংরক্ষণ করতে হবে মাইনাস ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। ফলে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই ভ্যাকসিন বন্টন সহজ হবে না। এছাড়া দুটি ডোজের প্রয়োজন হওয়ায় সকলেই দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করবে এর পুরো নিশ্চয়তা দেয়া যায় না।

মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ঘোষণা দিয়েছে তাদের উদ্ভাবিত কোভিডের ভ্যাকসিন ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর। তবে অধিক কার্যকারিতার জন্য ভ্যাকসিনটির দুটি ডোজ প্রয়োজন।

গবেষকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর হয়। তিন সপ্তাহের ব্যবধানের দুটি ডোজ দেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাকসিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) জরুরি ব্যবহার অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, ফাইজারের টিকা সংরক্ষণ করতে হবে মাইনাস ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। এ কারণে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই ভ্যাকসিন বন্টন সহজ হবেনা। দুটি ডোজের প্রয়োজন হওয়ায় সকলেই দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করবে এর শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়াও কঠিন।

গবেষণায় দেখা গেছে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইচপিভি) ভ্যাকসিন গ্রহণকারী এক তৃতীয়াংশ নারীই পরবর্তীতে দ্বিতীয় ডোজ নেননি।

এদিকে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন দেয়ার পর মানবদেহে কতোদিন অ্যান্টিবডি থাকে তা নিয়েও পূর্ণাঙ্গ গবেষণা হয়নি এখনো। তবে পুনরায় আক্রান্ত হতে পারে অনেকেই এমন প্রমাণও পাওয়া গেছে। আক্রান্ত হওয়ার পর বা ভ্যাকসিন গ্রহণের পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও তা কয়েক মাসের বেশি স্থায়ী হয় না।

ডিজিজ ইকোলজিস্ট মার্ম কিলপ্যাট্রিক জানান, অ্যান্টিবডি ক্ষণস্থায়ী হলে বুস্টার শট দেয়ার পরিকল্পনা প্রয়োজন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে






ads