করোনায় একদিনে সাড়ে ৯ হাজারের বেশি মৃত্যু

করোনায় একদিনে সাড়ে ৯ হাজারের বেশি মৃত্যু
- ছবি: সংগৃহীত

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৩ নভেম্বর ২০২০, ১০:১১

প্রাণঘাতী করোনার ছোবলে দিশেহারা বিশ্ব। বিশ্বে ইতোমধ্যে ১২ লাখ ৯৮ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে করোনায়। আর গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন সাড়ে ৯ হাজারের বেশি মানুষ।

ওয়ার্ল্ডোমিটার সূত্রে জানা যায়, নতুন করে বিশ্বে পৌনে ৭ লাখ মানুষ করোনা আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সবমিলে শনাক্তের সংখ্যা এখন ৫ কোটি ৩০ লাখের ওপরে।

মৃত্যু আর সংক্রমণের শীর্ষে এখনও আমেরিকাই। দেশটিতে রোজই হু হু করে বাড়ছে করোনাক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন করে মারা গেছেন প্রায় ১২শ’ মার্কিনি। এ নিয়ে মৃতের সংখা বেড়ে ২ লাখ ৪৮ হাজার অতিক্রম করেছে। তবে পিছিয়ে সুস্থতার হার।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার নিয়মিত পরিসংখ্যানে প্রকাশ, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৬১ হাজার ৫৪১ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এতে করে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ১৯০ জন। এ নিয়ে প্রাণহানি বেড়ে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৫ জনে ঠেকেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ৮০ হাজারের বেশি মানুষ। এতে করে সুস্থতার সংখ্যা ৬৭ লাখ ২৮ হাজার ১২০ জনে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা ইতোমধ্যে তাদের দেশের অন্তত ২০ মিলিয়ন (দুই কোটি) মানুষ করোনার শিকার হয়েছেন। দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) বলছে, ‘প্রকৃত তথ্য হলো, প্রকাশিত সংখ্যার অন্তত ১০ গুণ বেশি মানুষ করোনার ভয়াবহতার শিকার।’

টেক্সাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি। যেখানে প্রাণহানি ঘটেছে ১৯ হাজার ৭৩০ জনের।

ক্যালিফোর্নিয়ায় সংক্রমিতের সংখ্যা ১০ লাখ ৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৮ হাজার ১৪২ জনের।

ফ্লোরিডায় করোনার শিকার ৮ লাখ ৬৩ হাজারের অধিক। ইতোমধ্যে সেখানে ১৭ হাজার ৩৭৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

প্রাণহানিতে শীর্ষ শহর নিউইয়র্কে আক্রান্ত ৫ লাখ ৮৩ হাজার প্রায়। এর মধ্যে না ফেরার দেশে ৩৩ হাজার ৯২৬ জন ভুক্তভোগী।

ইলিনয়েসে এখন পর্যন্ত করোনার ভুক্তভোগী ৫ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ হাজার ৮৪৬ জন।

জর্জিজায় করোনা রোগীর সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজারের কাছাকাছি। এর মধ্যে প্রাণ ঝরেছে ৮ হাজার ৮৮১ জনের।

নিউ জার্সিতে করোনার শিকার ২ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ১৬ হাজার ৬২৬ জনের।

এছাড়া উত্তর ক্যারোলিনা, টেনেসিস, উইসকনসিন, অ্যারিজোন, ওহিও, পেনসিলভেনিয়া, মিশিগান, মেসৌরি, ইন্ডিয়ানা ও আলবামার মতো শহরগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে।

প্রায় এক মাস বিরতির পর ব্রাজিলে আবারও দৈনিক মৃত্যু হাজারের কাছাকাছি। দেশটিতে মোট প্রাণহানি এক লাখ ৬৪ হাজারের বেশি।ভারতেও ৫২১ জনের মৃত্যুতে, মোট প্রাণহানি এক লাখ ২৮ হাজার ছাড়াল। ইউরোপের দেশগুলোতে আবারও বাড়ছে মৃত্যু ও সংক্রমণ।

এদিকে করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে টিকার দিকে। বিশ্ববাসীকে আশা দেখাতে শুরু করেছে ফাইজারের টিকা। কিন্তু এরকম সময়ে টিকাটির ব্যাপারে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য এলো মনখারাপ করা খবর।

জানা গেছে, এ টিকা সংরক্ষণ করতে হবে মাইনাস ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। ফলে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই ভ্যাকসিন বন্টন সহজ হবে না। এছাড়া দুটি ডোজের প্রয়োজন হওয়ায় সকলেই দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করবে এর পুরো নিশ্চয়তা দেয়া যায় না।

মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ঘোষণা দিয়েছে তাদের উদ্ভাবিত কোভিডের ভ্যাকসিন ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর। তবে অধিক কার্যকারিতার জন্য ভ্যাকসিনটির দুটি ডোজ প্রয়োজন।

গবেষকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর হয়। তিন সপ্তাহের ব্যবধানের দুটি ডোজ দেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাকসিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) জরুরি ব্যবহার অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, ফাইজারের টিকা সংরক্ষণ করতে হবে মাইনাস ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। এ কারণে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই ভ্যাকসিন বন্টন সহজ হবেনা। দুটি ডোজের প্রয়োজন হওয়ায় সকলেই দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করবে এর শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়াও কঠিন।

গবেষণায় দেখা গেছে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইচপিভি) ভ্যাকসিন গ্রহণকারী এক তৃতীয়াংশ নারীই পরবর্তীতে দ্বিতীয় ডোজ নেননি।

এদিকে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন দেয়ার পর মানবদেহে কতোদিন অ্যান্টিবডি থাকে তা নিয়েও পূর্ণাঙ্গ গবেষণা হয়নি এখনো। তবে পুনরায় আক্রান্ত হতে পারে অনেকেই এমন প্রমাণও পাওয়া গেছে। আক্রান্ত হওয়ার পর বা ভ্যাকসিন গ্রহণের পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও তা কয়েক মাসের বেশি স্থায়ী হয় না।

ডিজিজ ইকোলজিস্ট মার্ম কিলপ্যাট্রিক জানান, অ্যান্টিবডি ক্ষণস্থায়ী হলে বুস্টার শট দেয়ার পরিকল্পনা প্রয়োজন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে



poisha bazar

ads
ads