গুরুতর করোনা রোগীকে টিকা দিলেও বাঁচবে না!


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৩:৪৯

চীনে উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইতোমধ্যে বিশ্বে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৩ লাখ। মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১১ লাখ ৮৬ হাজার। প্রাণঘাতী ভাইরাসটি থেকে রক্ষা পেতে কার্যকর ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় দিন গুনছে বিশ্ববাসী।এদিকে বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ প্রথমদিকে আসা ভ্যাকসিনগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভবিষ্যতে অনিরাপদ টিকা বাজারে আসার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের (বিএমজে) যুগ্ম-সম্পাদক প্রফেসর পিটার ডোশি সতর্ক করে বলেছেন, কোভিড-১৯ টিকাগুলো গ্রহণ করার পরও অনেকে রোগটিতে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হবেন এবং অনেকে মারাও যেতে পারেন।

বিশ্বব্যাপী তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে এখন ১১টি প্রার্থী টিকার। যার অংশ হিসেবে হাজার হাজার মানুষের দেহে এগুলো প্রয়োগ করে তার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

বিএমজে'তে লেখা এক মতামত কলামে ডোশি জানান, মানবদেহে টিকা পরীক্ষার বেশিরভাগ উদ্যোগে জড়িত বিজ্ঞানীরা তাড়াহুড়ো করছেন। স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে যারা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন; তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি বা মৃত্যু হয় কিনা- তা বিশ্লেষণের মাধ্যমেই জানা যায় টিকার কার্যকারিতা। কিন্তু, সেজন্য অপেক্ষা করছেন না তারা।

এজন্য সবচেয়ে বড় সমস্যার মুখে পড়বেন বয়স্ক জনগোষ্ঠী। কোভিড আক্রান্ত হলে তাদের ক্ষেত্রেই গুরুতর অসুস্থতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। কারণ, চটজলদি বাজারে আনার প্রক্রিয়ায় অনেক টিকাই ফলপ্রসূভাবে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ব্যর্থ হবে।

সাধারণত যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি; তাদের দেহে টিকা খুব বেশি সুরক্ষা তৈরি করতে পারে না। বয়সের সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়াটা যার প্রধান কারণ।

এ অবস্থায় মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডোশি বলেন, টিকা নিয়ে বর্তমানে চলা বেশকিছু গবেষণা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পারবে না। অর্থাৎ, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে জীবাণুর বিস্তার রোধ করা যাবে না। আক্রান্ত স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে তার পরিবার-পরিজন ও পরিচিতেরা সংক্রমিত হচ্ছেন কিনা- সেটাও টিকা গবেষণায় জড়িত বিজ্ঞানীরা পরিমাপ করছেন না। সব কিছুর মিলিত প্রভাবে নিকট ভবিষ্যতে অনিরাপদ টিকা বাজারে আসার আশঙ্কা করছেন তিনি।

তিনি জানান, সবার চাইতে এগিয়ে থাকা; মডের্না, ফাইজার, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, জ্যানসেন এবং সাইনোভ্যাকের মতো কোম্পানিগুলো তাদের প্রার্থী টিকা তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হচ্ছে কিনা- তা পর্যবেক্ষন করছে না।

এঘটনা সত্যি হলে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। সবশেষ ধাপের ট্রায়ালের উদ্দেশ্য টিকার সফলতা যাচাই করা। সেটি মানুষের দেহে রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করতে কতটুকু সফল হচ্ছে- তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ।

এজন্যেই তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে দশ সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবীকে প্রার্থী টিকা দেওয়ার পর- তাদের মধ্যে কেউ ভাইরাসে আক্রান্ত হন কিনা তা পর্যবেক্ষন করেন বিজ্ঞানীরা।

অর্ধেকের বেশি স্বেচ্ছাসেবীকে আবার পরীক্ষাধীন টিকার বদলে অন্য কোনো ওষুধের নির্যাস দেওয়া হয়। এ দুই জনসমষ্টির মধ্যে ভাইরাসের প্রভাব নিয়ে তুলনামুক বিশ্লেষণের মাধ্যমেই পরীক্ষাধীন টিকার সফলতা/ ব্যর্থতা সম্পর্কে জানা যায়।

এদিকে, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৩ লাখ। মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১১ লাখ ৮৬ হাজার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন ৮০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬ জন এবং মারা গেছে ১ লাখ ২১ হাজার ১৩১ জন। এছাড়া দেশটিতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৯৮ জন রোগী।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় ৫৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪০২ জনের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩ জনের। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার ১৫৯ জন।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৫ লাখ ৮১ হাজার ৬৯৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৭ হাজার ৩০২ জন। সুস্থ হয়েছেন ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪১ জন।

পঞ্চম স্থানে উঠে আসা ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে করোনায় সংক্রমণের সংখ্যা ১২ লাখ ৮২ হাজার ৭৬৯ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৬ হাজার ২০ জনের। সংক্রমিতদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ২৮৭ জন।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৪ হাজার ৭৬০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৮৮৬ জনের। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ২১ হাজার ২৮১ জন।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads