করোনার প্রভাবে মানসিক অবসাদে ভুগছে স্বাস্থ্যকর্মীরা

- প্রতীকী ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২০ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৫৪,  আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২০, ১৬:১২

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে শহর থেকে উৎপত্তি হওয়া ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার এক বছর হতে চললো তবুও এর তাণ্ডব থামছে না।

এদিকে করোনার মহামারিতে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে যেসব স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন তাদের একটি বিরাট অংশ ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদে ভুগছেন। কারো কারো ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে জানাচ্ছে একটি সমীক্ষা।

ইংল্যান্ড পূর্ব অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মহামারি নিয়ে কাজ করা প্রায় ২৩.৪ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী পিটিএসডি বা পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। দুশ্চিন্তার বিষয় হল এই যে এই রোগের হাত থেকে এখনই মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

তবে শুধু করোনার ক্ষেত্রেই নয়, এর আগে সার্স ও মার্স মহামারির সময়ও একই বিষয় লক্ষ্য করা গিয়েছে বলে জানাচ্ছে সমীক্ষা।

গবেষণা বলছে যে, মহামারি ছড়িয়ে পড়ার এক বছর পরেও স্বাস্থ্যকর্মীরা পিটিএসডির মতো মানসিক অসুখ, অবসাদ, উত্তেজনা ইত্যাদির শিকার হতে পারেন।

নরউইচ মেডিকাল স্কুলের অধ্যাপক রিচার্ড মেজার স্টেডম্যান বলছেন, নার্স, ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী বা হাসপাতালের সমস্ত কর্মীরা কোভিড ১৯-এর রোগীদের নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যস্ত আছেন। ফলে তাদের মধ্যে এক মানসিক অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে।

যে সব তথ্য এই গবেষকরা পেয়েছেন, সেখানে দেখা যাচ্ছে যে যখন মহামারি চরমে পৌঁছেছে তখন ৩৪.১% স্বাস্থ্যকর্মী অসম্ভব মানসিক অবসাদ ও উত্তেজনায় ভুগেছেন। যদিও সেটা ছয় মাস পর ১৭.৯%-তে নেমে এসেছে, কিন্তু আবার এক বছর পর এক লাফে বেড়ে গিয়ে ২৯.৩% হয়ে গিয়েছে।

সোফি অ্যালান, যিনি একজন শিক্ষানবিশ ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট, বলছেন যে, দেখা গিয়েছে যখন স্বাস্থ্যকর্মীরা সব চেয়ে বেশি অবসাদগ্রস্ত হয়েছেন, তখন মহামারির গ্রাফ চরমে পৌঁছেছে। কিন্তু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার এক বছর পরেও একই রকম অবসাদের চিহ্ন তাদের মধ্যে দেখা গিয়েছে, তা দূর হচ্ছে না।

যারা এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা আশা করছেন যে করোন রোগীদের সারিয়ে তোলা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই, কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে যেসব স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা এদের সারিয়ে তুলছেন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটাও হেলাফেলা করার মতো বিষয় নয়। তাই আশা করা যাচ্ছে যে এই গবেষণা গোটা বিশ্বে স্বাস্থ্যকর্মী ও ডাক্তারদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে আলোকপাত করবে এবং এ বিষয়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে কোভিড-১৯ এর তাণ্ডবে বিশ্বে গত একদিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৩৭ হাজার মানুষ এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৩৮৯ জনের।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬ লাখ ৩৯ হাজার ২০৪ জন। নতুন করে ৪ হাজার ৩৮৯ জন মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ২২ হাজার ৯৫৩ জন। সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিন কোটি ৩ লাখের বেশি মানুষ।

করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৫৩ জন। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার ২২২ জনের।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ১৫ হাজার ২৩৬ জনের।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় ৫২ লাখ ৫১ হাজার ১২৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৫৪ হাজার ২২৬ জনের।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads